kalerkantho


সময়সূচিতে বিপর্যয়

নীলফামারী থেকে ঢাকার ট্রেন ছাড়ল ১১ ঘণ্টা দেরিতে

নীলফামারী প্রতিনিধি   

২ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



নীলফামারী থেকে ঢাকাগামী নীলসাগর আন্ত নগর শুক্রবারের রাত ৯টা ৫৭ মিনিটের ট্রেন ১১ ঘণ্টা বিলম্বে গতকাল শনিবার সকাল ৯টায় ছেড়েছে। অন্যদিকে গতকালের সকাল ৯টা ২ মিনিটের খুলনাগামী রূপসা আন্ত নগর ট্রেন চার ঘণ্টা বিলম্বে ছেড়েছে দুপুর ১টা ৮ মিনিটে। ঈদ পরবর্তী দূরপাল্লার যাত্রায় ট্রেনের এমন শিডিউল বিপর্যয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছে নীলফামারীসহ আশপাশের জেলার মানুষ।

জেলার ডোমার উপজেলার জোড়াবাড়ী ইউনিয়নের মির্জাগঞ্জ গ্রামের রফিকুল ইসলাম (৩৫) ঢাকায় কাজ করেন একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে। ঈদের ছুটিতে বাড়িতে এসে ট্রেনের শিডিউল বিপর্যয়ের কারণে পড়েছেন বিপাকে। তিনি বলেন, ‘আমার ছুটি ছিল ৩১ আগস্ট পর্যন্ত। সে হিসাবে নীলসাগর ট্রেনে রাতে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হওয়ার টিকিট সংগ্রহ করেছিলাম। কথা ছিল শনিবার সকালে ঢাকায় পৌঁছে কাজে যোগ দেওয়ার। কিন্তু শুক্রবার রাতের ওই ট্রেনটি নীলফামারী স্টেশন থেকে ছেড়েছে শনিবার সকালে। ট্রেনের এমন শিডিউল বিপর্যয়ের কারণে কর্মস্থলে ঝামেলা পোহতে হবে আমাকে।’

ফিরতি ঈদ যাত্রায় ট্রেনের শিডিউল বিপর্যয়ে তাঁর মতো বিপাকে পড়েছে অনেকে। ঈদ উৎসব উপভোগের পর ফিরতি যাত্রায় পরিবারের সদস্য নিয়ে ভোগান্তির শিকার কর্মজীবী, পেশাজীবী, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীসহ নারী ও শিশুরা। দূর-দূরান্ত থেকে এসে ট্রেনের অপেক্ষায় রেলস্টেশনে রাত কাটাচ্ছে অনেকে।

গত ৩০ আগস্ট নীলসাগর আন্ত নগর ট্রেনে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ঢাকায় যাওয়ার উদ্দেশে সন্ধ্যার আগেই জেলার চিলাহাটি রেলস্টেশনে পৌঁছেন পঞ্চগড়ের মো. সাইফুজ্জামান (৪৫)। তিনি ঢাকায় কর্মরত আছেন বেসরকারি একটি প্রতিষ্ঠানে। চিলাহাটি থেকে ঢাকার উদ্দেশে ট্রেনটি ছাড়ার সময় ছিল রাত ৯টা ২০ মিনিটে। কিন্তু সেই ট্রেন ছেড়েছে পরদিন সকাল ৫টার পরে। তিনি বলেন, ‘ওই ট্রেনে চিলাহাটি থেকে ঢাকা পৌঁছতে সময় লাগে আট থেকে ১০ ঘণ্টা। সেখানে ট্রেনের অপেক্ষায় স্টেশনেই কেটে যায় একটি রাত। পরিবারের সদস্যদের নিয়ে রাতটি অনেক কষ্টে কাটিয়েছি।’

নীলফামারী থেকে শুধু ঢাকাগামী নীলসাগর আন্ত নগরই নয়, খুলনাগামী রূপসা এবং সীমান্ত আন্ত নগর ট্রেনেরও একই অবস্থা। ওই ট্রেন দুটিও ঈদ পরবর্তী সময়ে চলাচল করছে চার থেকে ছয় ঘণ্টা দেরিতে।

সূত্র মতে, নীলফামারী রেলস্টেশন থেকে ৯টা ৫৭ মিনিটে ঢাকাগামী নীলসাগর, খুলনাগামী রূপসা সকাল ৯টা ২ মিনিটে এবং সীমান্ত সন্ধ্যা ৭টা ২০ মিনিটে ছাড়ার নির্ধারিত সময় রয়েছে।

সেখানে ঢাকাগামী নীলসাগর আন্ত নগর ট্রেনটি ৩১ আগস্ট ১১ ঘণ্টা বিলম্বে পরের দিন শনিবার সকাল ৯টায়, ৩০ তারিখ আট ঘণ্টা বিলম্বে পরের দিন সকাল ৬টা ২৫ মিনিটে, ২৯ তারিখ সাড়ে সাত ঘণ্টা বিলম্বে পরের দিন সকাল ৫টা ২৫ মিনিটে, ২৮ তারিখ সোয়া সাত ঘণ্টা বিলম্বে পরের দিন ৫টা ১২ মিনিটে এবং ২৭ তারিখ সোয়া সাত ঘণ্টা বিলম্বে পরের দিন সকাল ৫টা ১০ মিনিটে নীলফামারী রেলস্টেশন থেকে ছেড়ে যায়।

অন্যদিকে খুলনাগামী রূপসা আন্ত নগর ট্রেনটি ১ সেপ্টেম্বর চার ঘণ্টা বিলম্বে নীলফামারী থেকে ছেড়ে যায়। ওই ট্রেনটি ২৮ আগস্ট থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত তিন থেকে সোয়া চার ঘণ্টা এবং একই পথে সীমান্ত আন্ত নগর ট্রেনটি ২৭ থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত দুই থেকে ছয় ঘণ্টা বিলম্বে ছেড়ে যায় নীলফামারী থেকে।

এ বিষয়ে নীলফামারী স্টেশন মাস্টার ওবায়দুর রহমান রতন বলেন, ‘ঈদ পরবর্তী ফিরতি যাত্রায় যাত্রীর চাপের কারণে এমন শিডিউল বিপর্যয় ঘটেছে। অতিরিক্ত যাত্রী বহনে ট্রেনর গতি কমেছে। এ ছাড়া গত রবিবার নীলসাগর আন্ত নগরের যাত্রাবিরতি থাকলেও যাত্রীর চাপে সেদিন ট্রেনটি চালু থাকায় ওই ট্রেনটির শিডিউল বেশি বিপর্যয় ঘটেছে। আগামী রবিবারের পর থেকে ওই ট্রেনের শিডিউল স্বাভাবিক হওয়ার আশা করা যাচ্ছে।’

    



মন্তব্য