kalerkantho


সোলার প্যানেল নিয়ে সংসদীয় কমিটিতে আলোচনা

জলবায়ু ট্রাস্ট ফান্ড প্রকল্পের কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবেলার পাশাপাশি সারা দেশে বিদ্যুেসবা পৌঁছে দিতে সরকার নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। এ জন্য নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে ২০২১ সালের মধ্যে দুই হাজার ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার। ওই লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ফান্ড থেকেও বিভিন্ন প্রকল্পে বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু ওই সব প্রকল্পের কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে সংসদীয় কমিটি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, সবাইকে বিদ্যুেসবার আওতায় আনতে ২০২১ সালের মধ্যে ২৪ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। যার ১০ শতাংশ অর্থাৎ দুই হাজার ৪০০ মেগাওয়াট আসবে নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে। নবায়নযোগ্য জ্বালানি বলতে বাংলাদেশে প্রধানত সৌরবিদ্যুেক বোঝানো হয়। বর্তমানে এই খাতে ৫০০ মেগাওয়াটেরও কম বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়। তাই লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সরকার এরই মধ্যে এই খাতে বেশ কিছু প্রকল্প গ্রহণ করেছে। কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ফান্ড থেকে নেওয়া এ খাতের বিভিন্ন প্রকল্পের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

সম্প্রতি পরিবেশ, বন ও জলবায়ুবিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। এ সময় কমিটির সদস্যরা অভিযোগ করেন, কোনো কোনো স্থানে সোলার প্যানেল থেকে কাঙ্ক্ষিত আলো পাওয়া গেলেও বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই নিম্নমানের প্যানেল বসানোর কারণে জনগণ সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। যশোর জেলার বেনাপোল পৌরসভার যে সড়কে সোলার প্যানেল বসানো হয়েছে, সেই সড়কটি এখনো চালু হয়নি। আবার কেশবপুর পৌরসভায় প্রায় কোটি টাকার প্রকল্প বাস্তবায়নের পর সড়কের বেশ কিছু সোলার প্যানেল ও বাতি পরিবর্তন করে নেওয়ার পরও আলো পাওয়া যাচ্ছে খুবই কম। ট্রাস্ট ফান্ডের প্রায় দুই কোটি টাকা ব্যয়ে নাটোর জেলার সিংড়া পৌরসভার ১২টি ওয়ার্ডে ৩৬৩টি সড়ক বাতি স্থাপন করা হলেও বছর না ঘুরতে বেশ কিছু বাতি টিপটিপ করে জ্বলছে। আবার নির্ধারিত সময় পার হলেও অনেক পৌরসভার কাজ শেষ হয়নি। বিষয়গুলো তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করেছে সংসদীয় কমিটি।

এ বিষয়ে সংসদীয় কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট টিপু সুলতান কালের কণ্ঠকে বলেন, ২০২১ সালের মধ্যে এই খাত থেকে ১০ শতাংশ ও ২০৩১ সালে ২০ শতাংশ বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ জন্য জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ফান্ড থেকেও অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। কমিটির পক্ষ থেকে ওই সব প্রকল্পের স্বচ্ছতা ও কাজের মান নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।

নেটওয়ার্ক অন ক্লাইমেট চেঞ্জ বাংলাদেশ (এনসিসিবি) ট্রাস্টের কো-অর্ডিনেটর মিজানুর রহমান বিজয় বলেন, ঝুঁকিতে থাকা জনগণের স্বার্থে এই তহবিলের প্রকল্পগুলো নেওয়া হলেও সেখানে স্থানীয় জনগণের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া হয় না। এই খাতে বরাদ্দ বাড়ানোর পাশাপাশি মনিটরিং বাড়ানোর প্রয়োজন।



মন্তব্য