kalerkantho


চলনবিলে নৌকাডুবি, তিন লাশ উদ্ধার

পাবনা প্রতিনিধি   

২ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



চলনবিলে শুক্রবার সন্ধ্যায় নৌকাডুবির ঘটনায় নিখোঁজ পাঁচজনের মধ্যে গতকাল পর্যন্ত তিনজনের মরদেহ উদ্ধার হয়েছে। ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরিদল ছাড়াও স্থানীয়রা অনুসন্ধান অব্যাহত রেখেছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, গতকাল সকাল ১১টার দিকে উদ্ধার হয়েছে শাহনাজ পারভীন পারুল নামের এক নারীর লাশ। তিনি ঈশ্বরদীর লেখক মোশারফ হোসেন মুসার স্ত্রী। দুপুর ১টার দিকে উদ্ধার হয়েছে সাদিয়া নামের এক শিশুর লাশ। সে ঈশ্বরদী আমবাগান মহল্লার ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম স্বপনের  মেয়ে। স্বপনের সন্ধান এখনো মেলেনি। আগের রাতে প্রথম উদ্ধার হয়েছিল মমতাজ পারভীন শিউলী নামের এক নারীর লাশ। তিনি ঈশ্বরদী আঞ্চলিক কৃষি গবেষণাকেন্দ্রের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা বিল্লাল হোসেন গণির স্ত্রী। গতকাল রাত পর্যন্ত গণির সন্ধান পাওয়া যায়নি।

রাজশাহী থেকে দুর্ঘটনাস্থলে আসা ডুবুরিদলের প্রধান মো. নুরুন্নবী জানান, তিন লাশের পাশাপাশি দুর্ঘটনাকবলিত নৌকাটিও উদ্ধার করা হয়েছে।

শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে চলনবিলের চাটমোহর উপজেলার হাণ্ডিয়াল পাইকপাড়া ঘাট এলাকায় নৌকাডুবির ঘটনা ঘটে। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী কিশোর সুমন হোসেন আরেকটি নৌকার মাঝি। তার নৌকাটি ছিল পেছনে। সুমন জানায়, নৌকায় বেড়ানোর সময় ছইয়ের (ছাদ) ওপর উঠে মোবাইল ফোনে সেলফি তুলছিল এক যাত্রী। এরপর ছই ভেঙে সে নিচে পড়ে যায়। আর যাত্রীরা সবাই আতঙ্কিত হয়ে তাকে উদ্ধার করতে গেলে বিলের পানিতে নৌকাটি ডুবে যায়। কাছাকাছি থাকায় সুমন নৌকা নিয়ে এগিয়ে যায় উদ্ধারকাজে। প্রথম পর্যায়েই ১৭ জনকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়। তখন পাঁচজন যাত্রীর সন্ধান মিলছিল না।

নৌ দুর্ঘটনার সংবাদ পেয়ে রাতেই ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন চাটমোহর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সরকার অসীম কুমার, সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (চাটমোহর সার্কেল) তাপস কুমার পালসহ প্রশাসনিক কর্মকর্তারা। স্থানীয়দের প্রচেষ্টার পাশাপাশি রাত ১১টার দিকে রাজশাহীর একটি ডুবুরিদল পৌঁছে উদ্ধারকাজে অংশ নেয়। তবে গতকাল রাত পর্যন্ত নিখোঁজ দুই যাত্রীর সন্ধান মেলেনি।

 



মন্তব্য