kalerkantho


পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে ১৪ পরিবারকে উচ্ছেদচেষ্টা

সাতক্ষীরায় পুকুরের মাছ লুট

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি   

২ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



পুলিশের সহায়তায় অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে বাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে তালা লাগিয়ে পুকুরের মাছ লুট করা হয়েছে। এ সময় ১৪ পরিবারকে উচ্ছেদের চেষ্টা চালানো হয়। গতকাল শনিবার দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ঝাউডাঙা ইউনিয়নের তুজুলপুর বাজারে এ ঘটনা ঘটে। প্রতিবাদ করায় স্থানীয় সাংবাদিক ইয়ারব হোসেনকে গ্রেপ্তারের হুমকি দেওয়া হয়েছে।

তুজুলপুর গ্রামের কেরামত আলী জানান, সদর উপজেলার বলাডাঙা গ্রামের খসরু স্থানীয় ক্ষিতিশ চন্দ্র পালের কাছ থেকে মোহনপুর মৌজায় এক একর ২৯ শতক জমি কেনেন। ওই জমি ১৯৪১ সালে স্থানীয় সরকার সমবায় ও পল্লী উন্নয়ন বিভাগ অধিগ্রহণ করে। ওই জমি ব্যবহার না হওয়ায় ডিরিকুইজেশনের মাধ্যমে ১৯৫৫ সালে খসরু ফিরে পান। পৈতৃক সূত্রে পেয়ে খসরুর ছেলে মাহাবুবর রহমান মধু যশোরে বাস করার সুবাদে তুজুলপুর গ্রামের আনছার আলী ও জামালউদ্দিনের কাছে হস্তান্তর করেন। তাঁরা সেখানে বসবাস ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান স্থাপন করেন। একইভাবে এলাকার সোবহান সরদার, আব্দুস সাত্তার, মোক্তার হোসেন, শওকত হোসেন, নাজিম  মোল্যা, নাসরিনসহ ১৪ জন জমি ব্যবহার করে আসছিলেন। ১৯৮১ সালে খসরু ওই জমি থেকে আনছার আলী, জামাল উদ্দীনসহ ১৪ জনকে উচ্ছেদের জন্য সাতক্ষীরা সদর সহকারী জজ আদালতে মামলা করলে ১৯৮৪ সালে তা খারিজ হয়ে যায়।

কেরামত আলী আরো জানান, ওই জমি তাদের দাবি করে যশোরের বেজপাড়ার সাবেক পশু সম্পদ কর্মকর্তা মাহাবুবর রহমান মধু ও তাঁর শ্যালক বেলাল হোসেনসহ একটি মহল প্রশাসনের সহায়তায় দখলকারীদের উচ্ছেদের চেষ্টা চালিয়ে আসছিল। এরই অংশ হিসেবে গতকাল শনিবার সাতক্ষীরা সদর থানার উপপরিদর্শক হাজ্জাজ হোসেনের উপস্থিতিতে মাহাবুবর রহমান মধুর শ্যালক বেলাল হোসেন, বলাডাঙা গ্রামের মুজিবর রহমানসহ ২০-২৫ জন সন্ত্রাসী প্রথমে তাঁর মুদি দোকানে তালা লাগিয়ে দেয়। বাধা দেওয়ায় উপপরিদর্শক হাজ্জাজ হোসেন তাঁর মাথায় অস্ত্র ঠেকিয়ে গুলি করতে যান। এরপর তাঁর বাড়িতে তালা লাগানোর চেষ্টা করা হয়। তারা দোকান বন্ধ করে মালামাল বিকেলের মধ্যে সরিয়ে নিয়ে দখল ছেড়ে দিতে বলে। পরে তারা আব্দুস সাত্তার ও মোক্তার হোসেনকে দখলচ্যুত করার চেষ্টা করে। পুলিশের উপস্থিতিতে শাহাজাহানের পুকুর থেকে ২০ হাজারেরও বেশি টাকার রুই, কাতলা, মৃগেল, তেলাপিয়া ও সিলভারকাপসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ লুট করা হয়। খবর পেয়ে সাংবাদিক ইয়ারব হোসেন জমি থেকে ১৪ জন বসবাসকারীকে উচ্ছেদসংক্রান্ত আদালতের কোনো আদেশ আছে কি না জানতে চাইলে উপপরিদর্শক হাজ্জাজ হোসেন তাঁকে গ্রেপ্তারের হুমকি দেন। একপর্যায়ে বিষয়টি ওসিকে জানালে পুলিশ ও হামলাকারীরা চলে যায়।

এ ব্যাপারে জানতে মাহাবুবর রহমান মধুর সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তবে তাঁর শ্যালক বেলাল হোসেন জানান, তাঁর দুলাভাই এক একর ২৯ শতক জমি বর্তমান বিরোধীয় পক্ষকে বর্গা দেন। পরে ওই জমির জাল কাগজপত্র বানিয়ে দখলে রাখে। এখন তারা উচ্ছেদের মামলা না করে প্রশাসনের সহায়তায় ওই জমি দখলে নেওয়ার চেষ্টা করে।

জানতে চাইলে সাতক্ষীরা সদর থানার উপপরিদর্শক হাজ্জাজ হোসেন কথা না বলেই কয়েকবার ফোন কেটে দেন।

তবে সাতক্ষীরা সদর থানার ওসি মোস্তাফিজুর রহমান জানান, বিষয়টি তিনি শুনেছেন। উভয় পক্ষকে থানায় তাদের কাগজপত্র নিয়ে আসতে বলা হয়েছে। বিষয়টি শান্তিপূর্ণ সমাধানের চেষ্টা চলছে।

 



মন্তব্য