kalerkantho


পাইকারিতে কমলেও খুচরায় ঝাঁজ কমেনি কাঁচা মরিচের

ব্রয়লার মুরগির দাম কম

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



কোরবানির ঈদের পরে রাজধানীতে মুরগির মাংস বেশ কম দামে বিক্রি হচ্ছে। তবে কমলেও খুব একটা কমেনি ডিমের দাম। অন্যদিকে পাইকারি বাজারে কাঁচা মরিচের দাম অনেক কমলেও খুচরায় মরিচের ঝাঁজ খুব একটা কমেনি।

গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর পাইকারি ও কয়েকটি খুচরা বাজার ঘুরে দেখা গেছে, প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ১২৫-১৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কারওয়ান বাজারে ক্রেতাকে ১২০ টাকা কেজি দরেও মুরগি সাধছিল কোনো কোনো দোকানি। কোরবানির গরুর মাংসের প্রভাবে মুরগির মাংস কম কেনা হচ্ছে। চাহিদা কমে যাওয়ার কারণে দামও পড়ে গেছে। তবে আগামী সপ্তাহেই মুরগির চাহিদা আবার বাড়তে শুরু করবে বলে মনে করছে বিক্রেতারা। ঈদের সপ্তাহখানেক আগেও প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হয়েছে ১৪০ টাকা কেজি দরে।

কারওয়ান বাজার কিচেন মার্কেটের পাশের মুরগির দোকানি লিটন সরকার কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এখনো মানুষ কোরবানির মাংসের ওপর নির্ভর করছে। কিছু ক্রেতা এখন মুরগির বাজারে আসতে শুরু করেছে। সামনের সপ্তাহে এটা বাড়তে থাকবে।’

মাস দুয়েকের বেশি সময় ধরে অস্থির হয়ে থাকা মুরগির ডিমের বাজারে এখনো স্বস্তি ফিরে আসেনি। খুচরা বিক্রেতারা ৩২-৩৪ টাকায় প্রতি হালি ডিম বিক্রি করছে। ডজন নিলে দাম নিচ্ছে ১০০ টাকা। তবে মহল্লার বাজারে যেসব দোকানি শুধুই ডিম বিক্রি করে, তাদের কাছে গেলে প্রতি ডজন ডিম ৯৫ টাকায় মিলছে।

বেশ কিছুদিন আগেই অস্থির হয়ে উঠেছিল কাঁচা মরিচের বাজার। টানা বৃষ্টির কারণে অনেকে ক্ষেত থেকে কাঁচা মরিচ তুলতে পারছিল না। অনেকের ক্ষেত নষ্টও হয়ে গেছে, যে কারণে পাইকারি বাজারে ১০০-১২০ টাকা পর্যন্ত দাম উঠেছিল মরিচের, যা খুচরায় ১৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে। কোরবানির ঈদের আগেও এই দামে অনেক খুচরা বিক্রেতাকে মরিচ বিক্রি করতে দেখা গেছে। তবে এখন পাইকারি বাজারে প্রতি কেজি কাঁচা মরিচের দাম ৪০-৫০ টাকায় নেমে এলেও দিব্যি দ্বিগুণ দামে বিক্রি করছে খুচরা বিক্রেতারা। প্রতি কেজি মরিচ তারা বিক্রি করছে ১২০ টাকা পর্যন্ত দামে। গতকাল রাজধানীর রামপুরা কাঁচাবাজার ও বাড্ডার গুদারাঘাট কাঁচাবাজারে ১২০ টাকা কেজিতে মরিচ বিক্রি করতে দেখা গেছে। জানতে চাইলে গুদারাঘাট কাঁচাবাজারের বিক্রেতা সেলিম হোসেন বলেন, ‘পাইকারিতে দাম একটু কমছে। তবে এখনো বেশি।’ তবে কত বেশি সেটা জানতে চাইলে তিনি তা বললে ইতস্তত বোধ করেন। 

এদিকে কারওয়ান বাজারে ভেতরের কাঁচাবাজারটিতে ৭০-৮০ টাকা কেজি দরে কাঁচা মরিচ বিক্রি হচ্ছে। যদিও ফরিয়া পাইকাররা বিক্রি করছে ৪০-৫০ টাকায়। এ রকম এক পাইকার আব্দুল হাকিম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘কাঁচা মরিচের দাম পাইকারিতে অর্ধেকেরও বেশি কমেছে। সরবরাহ বেশি বলেই দাম কম।’

এদিকে কিছুটা কমেছে আমদানি করা পেঁয়াজের দাম। রাষ্ট্রায়ত্ত বিপণন সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) বাজার বিশ্লেষণের তথ্য অনুযায়ী আমদানি করা পেঁয়াজে গত কয়েক দিনে ১৮.৭৫ শতাংশ পর্যন্ত দাম কমেছে। প্রতি কেজি পেঁয়াজ খুচরা বাজারে বিক্রি হচ্ছে ৩০-৩৫ টাকায়। দেশি পেঁয়াজের দাম এখনো চড়া। প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৫৫-৬০ টাকায়।

সবজির বাজার রয়েছে অপরিবর্তিত। তবে সবজির পাইকারি বাজারে দাম বেশ কম এবং স্থিতিশীল অবস্থায় রয়েছে। রাজধানীর খুচরা বিক্রেতারা সবজি বিক্রি করে অনেকটা ইচ্ছামতো দামে। মিরপুরের ভাসানটেকের একটি বাজারে লম্বা বেগুন ৩০ টাকা কেজি এবং আলু ২০-২৫ টাকায় বিক্রি করতে দেখা গেছে। অথচ ফার্মগেট কাঁচাবাজার ও রামপুরা কাঁচাবাজারে প্রতি কেজি বেগুন বিক্রি হচ্ছিল ৪৫-৫০ টাকা কেজি দরে এবং আলু বিক্রি হচ্ছিল ৩০-৩৫ টাকা কেজি দরে।

একইভাবে রাজধানীর বিভিন্ন খুচরা বাজারে বরবটি ৪০-৫৫ টাকা, কচুর মুখী ৩৫-৪০ টাকা, পেঁপে ২০-৩০ টাকা, শিম ১০০ টাকা, ঢেঁড়স ৩০-৪০ টাকা, লতি ৪০-৪৫ টাকা, শসা ৪০-৫০ টাকা, কাঁকরোল ৪০-৫০ টাকা, ঝিঙা ৪৫-৫০ টাকা, করল্লা ৪৫-৫৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

বেশ কিছুদিন ধরেই স্থিতিশীল অবস্থায় রয়েছে চালের বাজার। প্রতি কেজি মোটা চাল ৪৪-৪৬ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। স্থিতিশীল হলেও এই দাম একটু বেশি বলেই মনে করে ক্রেতারা। মাঝারি মানের চিকন চাল মানভেদে ৪৮-৫৬ টাকা পর্যন্ত দামে বিক্রি হচ্ছে। ভালো মানের চিকন চাল প্রতি কেজি পাওয়া যাচ্ছে ৫৮-৬৮ টাকায়।



মন্তব্য