kalerkantho


কথা কবিতা গানে বঙ্গবন্ধুকে স্মরণ

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



কথা কবিতা গানে বঙ্গবন্ধুকে স্মরণ

জাতীয় জাদুঘরের সুফিয়া কামাল মিলনায়তনে জাতীয় শোক দিবস পালন উপলক্ষে সমাপনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন অধ্যাপক ড. মুনতাসীর মামুন। ছবি : কালের কণ্ঠ

বঙ্গবন্ধুর দর্শন শুধু স্বাধীন বাংলাদেশের জন্ম দেয়নি, তাঁর দর্শন অনুপ্রাণিত করেছিল সারা বিশ্বকে। তাঁর দর্শনের মূল কথাই হলো জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা। বিশ্বের যেখানে মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম হয়েছে, সেখানেই উচ্চারিত হয়েছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নাম। ফলে জীবদ্দশাতেই বঙ্গবন্ধু পরিণত হয়েছিলেন সারা বিশ্বের কাছে গুরুত্বপূর্ণ আদর্শবাদী রাষ্ট্রনায়কে। 

গতকাল শুক্রবার ‘আন্তর্জাতিক বিশ্বে বঙ্গবন্ধুর দর্শন’ আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে বক্তারা এসব কথা বলেন। জাতীয় জাদুঘরের সিনেপ্লেক্স মিলনায়তনে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বঙ্গবন্ধু সংস্কৃতি-বিশ্ব নামের একটি সংগঠন। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৩তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে আলোচনার ফাঁকে ফাঁকে ছিল বঙ্গবন্ধুকে নিবেদিত ১৫ জন কবির কবিতা পাঠ। বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে লেখা গানের অ্যালবামের মোড়কও উন্মোচন করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. দীপু মনি। তিনি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর দর্শন ছিল জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা। সেটা শুধু মানবাধিকার নয়, তার চেয়েও অধিক কিছু। তিনি ১৯৬৬ সালে বাঙালির অধিকার আদায়ের জন্য যে ছয় দফা ঘোষণা করেছিলেন তা মানবাধিকারের এক মহাকাব্যিক ইতিহাস। তিনি চেয়েছিলেন মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক মুক্তি অর্জন। আর চেয়েছিলেন এর মাধ্যমে ক্ষুধা-দারিদ্র্য ও বৈষম্যমুক্ত রাষ্ট্র বিনির্মাণ। দেশের উন্নয়নের জন্য, মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য বঙ্গবন্ধুর দেখানো পথ ছাড়া আর কোনো পথ নেই।’

বিশেষ অতিথি সাবেক রাষ্ট্রদূত ওয়ালিউর রহমান বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর দর্শন আমরা জানি। কিন্তু আমরা অনেকেই জানি না, তাঁর দর্শন কিভাবে সারা বিশ্বকে আলোড়িত করেছিল। ষাট ও সত্তরের দশকে পৃথিবীর সর্বত্র উচ্চারিত হয়েছে বঙ্গবন্ধুর নাম, উচ্চারিত হয়েছে তাঁর দর্শন। সেটা আজও স্তিমিত হয়ে যায়নি।’

বিশেষ অতিথি কালের কণ্ঠ সম্পাদক ও কথাসাহিত্যিক ইমদাদুল হক মিলন বলেন, ‘পঁচাত্তরে যারা ঘৃণিত হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছিল তারা বুঝতে পারেনি যে ব্যক্তি বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করা গেলেও তাঁর আদর্শকে কেউ কখনো হত্যা করতে পারবে না। তিনি আমাদের কাছে আকাশের মতো। অনেক কিছু ধ্বংস করা গেলেও আকাশকে ধ্বংস করা যাবে না। আকাশ যেমন সবার ওপরে থাকে, বঙ্গবন্ধুও সব সময় মাথার ওপরে থাকবেন।’

কবি কাজী রোজীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য দেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ সচিব শ্যাম সুন্দর সিকদার, আওয়ামী লীগের সাংস্কৃতিক সম্পাদক অসীম কুমার উকিল, বন ও পরিবেশ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন, শিশু একাডেমির পরিচালক আনজীর লিটন প্রমুখ। স্বাগত বক্তব্য দেন ছড়াকার আসলাম সানী। পরে সুজন হাজংয়ের লেখা ও ফাহমিদা নবীর কণ্ঠে গাওয়া ‘পিতার রক্তে’ অ্যালবামের মোড়ক উন্মোচন করা হয়।

জাদুঘরে মাসব্যাপী শোক দিবসের অনুষ্ঠানের সমাপ্তি

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৩তম শাহাদাতবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে জাতীয় জাদুঘর মাসব্যাপী অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করেছিল। অনুষ্ঠানমালার মধ্যে ছিল বঙ্গবন্ধুবিষয়ক সেমিনার, জাদুঘরে সংগৃহীত বঙ্গবন্ধুর স্মৃতি-নিদর্শন ও আলোকচিত্রের মাসব্যাপী বিশেষ প্রদর্শনী, বঙ্গবন্ধুকে নিবেদিত কবিতা পাঠ ও আবৃত্তি। অনুষ্ঠানমালার অংশ হিসেবে গতকাল বিকেলে জাদুঘরের কবি সুফিয়া কামাল মিলনায়তনে ‘বঙ্গবন্ধু কিভাবে আমাদের স্বাধীনতা এনেছেন’ শীর্ষক সেমিনারের আয়োজন করা হয়। সেমিনারে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন বিশিষ্ট ইতিহাসবিদ অধ্যাপক ড. মুনতাসীর মামুন। সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সভাপতি শিল্পী হাশেম খান। সেমিনারের দ্বিতীয় পর্বে জাদুঘরে আয়োজিত মাসব্যাপী প্রদর্শনী ও অনুষ্ঠানমালার সমাপনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর। বিশেষ অতিথি ছিলেন সংস্কৃতিসচিব নাসির উদ্দিন আহমেদ।

ড. মুনতাসীর মামুন মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করে বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর জীবনের রূপরেখা মোটামুটি আমরা সবাই জানি। বাংলাদেশের পটভূমিও আমাদের অজানা নয়। তাঁর জীবন এক অর্থে বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামেরই ইতিহাস।

আসাদুজ্জামান নূর বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হঠাৎ করে বাঙালির আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতীক হননি। আন্দোলন সংগ্রামের মধ্য দিয়ে ধীরে ধীরে হয়ে উঠেছিলেন বাঙালির মধ্যমণি। বঙ্গবন্ধু-কন্যা শেখ হাসিনা দেশকে অনেক উচ্চতায় নিয়ে গেছেন।

হাশেম খান বলেন, কিছু কারণে নতুন প্রজন্ম এখনো বিভ্রান্ত। কোনো কোনো পরিবার তাদের সন্তানকে সঠিক ইতিহাস শেখাতে পারছে না। বাংলাদেশ, বাঙালি জাতি এবং এই অভ্যুদয়ের ইতিহাসের মূল কারিগর কারা—এসব সঠিক ইতিহাস সন্তানদের জানানোর সুযোগ এসেছে।



মন্তব্য