kalerkantho


ইয়াবাসহই ধরা খেলেন ডিবি থেকে বহিষ্কৃত সালাউদ্দিন

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি   

২১ আগস্ট, ২০১৮ ০০:০০



নারায়ণগঞ্জ জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) বরখাস্তকৃত এএসআই সালাউদ্দিনকে আটক করেছেন র‌্যাব-১১-এর সদস্যরা। ওই সময় তাঁর কাছ থেকে ১০ হাজার পিস ইয়াবা এবং মাদক বিক্রির দুই লাখ ৮৩ হাজার ৩৫০ টাকা উদ্ধার করা হয়। এ সময় র‌্যাব মাদক বহনের কাজে ব্যবহৃত সালাউদ্দিনের একটি সাদা রঙের ব্যক্তিগত প্রাইভেট কার ও গাড়ি থেকে ডিবি পুলিশের একটি জ্যাকেট জব্দ করে।

গত ২৩ জুলাই এএসআই সালাউদ্দিনের বাসায় তল্লাশি চালিয়ে পাঁচ হাজার ৬২০ পিস ইয়াবা এবং মাদক বিক্রির ৯ লাখ ৪০০ টাকা পাওয়া যায়। কিন্তু তখন পালিয়ে যান সালাউদ্দিন। অবশেষে গতকাল সোমবার ভোরে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার মৌচাক এলাকা থেকে র‌্যাব তাঁকে আটক করে।

গতকাল দুপুরে সিদ্ধিরগঞ্জের আদমজীনগর এলাকায় র‌্যাব-১১-এর সদর দপ্তরে ভারপ্রাপ্ত সিও মেজর আশিক বিল্লাহ সংবাদ সম্মেলনে জানান, টেকনাফ থেকে বিপুল পরিমাণ ইয়াবার চালান গ্রহণ করতে সালাউদ্দিন সিদ্ধিরগঞ্জের মৌচাক এলাকায় অবস্থান করছেন—এমন খবর তাঁদের কাছে আসে। এর পরই র‌্যাব ভোরে সেখানে অভিযান চালায় এবং ইয়াবা ও ইয়াবা বিক্রির টাকাসহ হাতেনাতে তাঁকে গ্রেপ্তার করে। এ ছাড়া সালাউদ্দিনের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে ডিবি পুলিশের আইডি কার্ড, ভিজিটিং কার্ডসহ আরো কিছু অবৈধ দ্রব্য। তাঁর বিরুদ্ধে এর আগে আরো দুটি মাদকের মামলা রয়েছে। এ ঘটনায়ও তাঁর বিরুদ্ধে মাদক আইনে মামলা দায়েরসহ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। মেজর আশিক জানান, ডিবি থেকে বরখাস্ত হওয়ার পরও সালাউদ্দিন নিজেকে ডিবির এএসআই পরিচয় দিয়ে মাদক ব্যবসাসহ আইনবিরোধী কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিলেন।

প্রায় আট মাস আগে নারায়ণগঞ্জ জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) থেকে বরখাস্ত হওয়ার পর থেকেই সালাউদ্দিন পলাতক ছিলেন। মাদকের কারবার করে তিনি অনেক অবৈধ সম্পদের মালিক বনে গেছেন। তাঁর মালিকানাধীন তিনটি প্রাইভেট কারে ইয়াবা বহন চলে। নারায়ণগঞ্জ শহরে রয়েছে ‘জেন্টস পার্লার’ নামক বিউটি পার্লার। গত ২৩ জুলাই র‌্যাব-১১-এর অভিযানে তাঁর সহযোগী সুমন (২৫) ধরা পড়ে। সুমনের দেওয়া তথ্য অনুসারে র‌্যাব ওই দিনই সিদ্ধিরগঞ্জ থানার কদমতলী এলাকার ফ্রেন্ডস টাওয়ার এবং সদর থানার নগরখানপুর এলাকায় ডিবির বরখাস্তকৃত এএসআই সালাউদ্দিনের দুটি ভাড়া বাসায় অভিযান চালিয়ে পাঁচ হাজার ৬২০ পিস ইয়াবা ও মাদক বিক্রির ৯ লাখ ৪০০ টাকা উদ্ধার করে।

জানা যায়, সালাউদ্দিনের নির্দেশ মতে সুমন ব্যাংক, মোবাইল ব্যাংকিং ও এসএ পরিবহনের মাধ্যমে কক্সবাজারের ইয়াবা সরবরাহকারীদের কাছে নিয়মিত টাকা পাঠিয়ে থাকে।

 



মন্তব্য