kalerkantho


রাত পোহালেই পবিত্র ঈদ

প্রধানমন্ত্রী, রাষ্ট্রপতির শুভেচ্ছা

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২১ আগস্ট, ২০১৮ ০০:০০



রাত পোহালেই পবিত্র ঈদুল আজহা বা কোরবানির ঈদ। প্রতিবছর জিলহজ মাসের ১০ তারিখে ত্যাগ ও আনন্দের বার্তা নিয়ে মুসলমানদের দুয়ারে হাজির হয় পবিত্র ঈদুল আজহা। মুসলমানদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসবের দিন এটি। সকালে দুই রাকাত নামাজ আদায়ের পর মহান আল্লাহর নৈকট্য ও সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে পশু কোরবানির মধ্য দিয়ে দেশের মুসলমানরা উদ্‌যাপন করবে এ ঈদ। ঘরে ঘরে ত্যাগের আনন্দে মহিমান্বিত হবে হৃদয়। দেশের সর্বত্রই চলছে ঈদের শেষ প্রস্তুতি।

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদ দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে পৃথক বাণী দিয়েছেন।

ঈদ শান্তি, সহমর্মিতা, ত্যাগ ও ভ্রাতৃত্ববোধের শিক্ষা দেয় উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তাঁর বাণীতে বলেন, ‘আসুন, আমরা সবাই পবিত্র ঈদুল আজহার মর্মবাণী অন্তরে ধারণ করে নিজ নিজ অবস্থান থেকে জনকল্যাণমুখী কাজে অংশ নিয়ে বৈষম্যহীন সুখী, সমৃদ্ধ ও শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশ গড়ে তুলি।’

রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বলেন, ‘ব্যক্তি ও সমাজ জীবনে ত্যাগের শিক্ষা প্রতিফলিত হলেই প্রতিষ্ঠিত হবে শান্তি ও সৌহার্দ্য। কোরবানির মর্ম অনুধাবন করে সমাজে শান্তি ও কল্যাণের পথ রচনা করতে আমাদের সংযম ও ত্যাগের মানসিকতায় উজ্জীবিত হতে হবে।’

বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বের মুসলমানদের কাছে ঈদুল আজহা কোরবানির ঈদ হিসেবে পরিচিত। এদিন সামর্থ্যবান মুসলমানরা জামাতে নামাজ আদায় করেন এবং সাধ্য অনুযায়ী পশু কোরবানির মাধ্যমে মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের চেষ্টা করেন। সৃষ্টিকর্তা মহান আল্লাহর নির্দেশে তাঁর সন্তুষ্টি লাভের জন্য হজরত ইবরাহিম (আ.) পৃথিবীতে তাঁর সবচেয়ে প্রিয় সন্তান হজরত ইসমাইল (আ.)-কে কোরবানি করতে উদ্যত হয়ে আল্লাহর রাস্তায় আত্মত্যাগের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। পরে আল্লাহর ইশারায় একটি দুম্বা কোরবানির মাধ্যমে সেই নির্দেশ বাস্তবায়িত হয়। এর পর থেকেই মুসলিম জাতির পিতা হজরত ইবরাহিম (আ.)-এর ত্যাগের নিদর্শন হিসেবে প্রতিবছর গৃহপালিত পশু কোরবানির মাধ্যমে আত্মত্যাগের প্রতীকী পরীক্ষা দেওয়ার বিধান চালু হয়। সর্বশেষ নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর মাধ্যমে কোরবানি প্রত্যেক সামর্থ্যবান মুসলমানের জন্য বাধ্যতামূলক (ওয়াজিব) করা হয়।

কোরবানির মধ্য দিয়ে নিজের ভেতরের পশুত্বকে পরিহার করা এবং হজরত ইবরাহিম (আ.)-এর মহান আত্মত্যাগের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে বুধবার দিনের শুরুতেই সবাই ঈদগাহে যাবে ঈদুল আজহার দুই রাকাত ওয়াজিব নামাজ আদায় করতে। একসঙ্গে নামাজ আদায়ের পর ধনী-গরিব ভেদাভেদ ভুলে কোলাকুলি করবে। সামর্থ্যবানরা পশু কোরবানির মাধ্যমে ওয়াজিব আদায় করবেন।

ঈদুল আজহা উপলক্ষে রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ভবনে আলোকসজ্জা করা হবে। এ উপলক্ষে হাসপাতাল, কারাগার ও এতিমখানায় পরিবেশন করা হবে বিশেষ খাবার। জাতীয় পত্রিকাগুলো প্রকাশ করেছে বিশেষ ক্রোড়পত্র। বাংলাদেশ টেলিভিশনসহ বিভিন্ন বেসরকারি টিভি চ্যানেলে ঈদের বিশেষ অনুষ্ঠানমালাও প্রচার শুরু হবে আজ মঙ্গলবার থেকে। ঈদ উপলক্ষে জাতীয় সংবাদপত্রগুলোতে আজ থেকে তিন দিনের ছুটি শুরু হয়েছে। সরকারি-বেসরকারি অফিসগুলোতেও মঙ্গলবার থেকে তিন দিনের ছুটি শুরু হয়েছে।

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে সবাইকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু। গতকাল এক শুভেচ্ছাবার্তায় সব গণমাধ্যমকর্মীসহ দেশবাসীর শান্তিময় ও আনন্দমুখর ঈদ কামনা করেন তিনি।

 



মন্তব্য