kalerkantho


মুক্ত ১৩ শিক্ষার্থী

আরো ৩১ শিক্ষার্থীসহ ৩৩ জনের জামিন

নিজস্ব প্রতিবেদক ও কেরানীগঞ্জ (ঢাকা) প্রতিনিধি    

২১ আগস্ট, ২০১৮ ০০:০০



নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলন এবং কোটা সংস্কার আন্দোলনের জের ধরে করা মামলায় গ্রেপ্তার রাজধানীর বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের ৩১ শিক্ষার্থীসহ ৩৩ জনকে জামিন দেওয়া হয়েছে। গতকাল সোমবার ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ভিন্ন ভিন্ন আদেশে এই জামিন দেন।

পুলিশের ওপর হামলা, সরকারি কাজে বাধা দেওয়া ও গাড়ি ভাঙচুর এবং ফেসবুকে গুজব ছড়ানোর অভিযোগে দায়ের করা রাজধানীর বাড্ডা ও ভাটারা থানার দুই মামলায় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের চার শিক্ষার্থী, ধানমণ্ডি থানার তিন শিক্ষার্থী, উত্তরা পশ্চিম থানার এক শিক্ষার্থীসহ দুজনকে, শাহবাগ থানার চার মামলায় ১৫ শিক্ষার্থী, রমনা থানার মামলায় ছয় শিক্ষার্থী ও নিউ মার্কেট থানার মামলায় একজনকে জামিন দেওয়া হয়।

গত ২৯ জুলাই বিমানবন্দর সড়কে রাজধানীর শহীদ রমিজ উদ্দিন কলেজের দুই শিক্ষার্থীকে বাসচাপা দিয়ে হত্যা করার পর নিরাপদ সড়কের দাবিতে সারা দেশে আন্দোলন করে শিক্ষার্থীরা। এরই ধারাবাহিকতায় গত ৬ আগস্ট পর্যন্ত রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষ হয়। এসব মামলায় শিক্ষার্থীসহ সাধারণ কিছু মানুষকেও গ্রেপ্তার করা হয়।

এর আগে কোটাবিরোধী আন্দোলনের সময় গত ৮ এপ্রিল থেকে কয়েক দিন ছাত্র বিক্ষোভের সময় শাহবাগ এলাকায় পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির বাসা ভাঙচুর হয়। এসব ঘটনায় শাহবাগ থানায় চারটি মামলা হয়। এসব মামলায়ও বেশ কিছু শিক্ষার্থীকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে বিভিন্ন  সময় শিক্ষার্থীদের গ্রেপ্তার করা হয়। এর আগে এসব শিক্ষার্থীর জামিন আবেদন করা হলেও তা বারবার নামঞ্জুর করা হয়। গত রবিবার থেকে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন মামলায় জামিন পেতে থাকেন। রবিবার ৪২ জনকে জামিন দেওয়া হয়। গতকাল ৩১ ছাত্রসহ ৩৩ জনকে জামিন দেওয়া হয়।

গতকাল বাড্ডা থানার মামলায় যাদের জামিন দেওয়া হয় তারা হলেন রিসাতুল ফেরদৌস ও বায়েজিদ। ভাটারা থানার আমিনুল ইসলাম বায়েজিদ ও সাবের আহমেদ উল্লাস, উত্তরা পশ্চিম থানার শামীম ও সোহেল (পরেরজন শিক্ষার্থী নয়), ধানমণ্ডি থানার মামলায় জোবায়ের হোসেন, গাজী ইমাম বোখারী ও সাদ্দাম, নিউ মার্কেট থানার মামলায় মাহবুবুর রহমানকে (শিক্ষার্থী নয়) জামিন দেওয়া হয় গতকাল।

আরো যাঁরা জামিন পেয়েছেন তাঁরা হলেন রমনা থানার মামলার আসামি মো. ইহসান উদ্দিন ইফাজ, মাহবুবুর রহমান, সাইদুল ইসলাম তৌহিদ, শাহরিয়ার হোসেন, ইউসুফ চৌধুরী, আলমগীর হোসেন, মাহবুবুর রহমান আরমান ও সাখাওয়াত হোসেন, শাহবাগ থানার চার মামলায় মাসুদ আলম ওরফে মাসুদ, আবু সাইদ ফজলে রাব্বী, রাকিবুল হাসান, রাশেদ খান, আতিকুর রহমান, সাইদুর রহমান, সোহেল ইসলাম, মাসুদ সরকার, জসিম উদ্দিন, আবু সাঈদ, আলী হোসেন, মশিউর রহমান, জসিম উদ্দিন আকাশ, ফারুক হাসান ও তরিকুল ইসলামকে জামিন দেওয়া হয়।

গতকালই আসামিদের পক্ষে জামিননামা দাখিল করা হয়েছে বলে আইনজীবীরা জানান। দুপুুরের আগে যাঁরা জামিন পেয়েছেন তাঁরা গতকালই কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন। বিকেলে জামিন পাওয়া শিক্ষার্থীরা আজ মঙ্গলবার সকালে মুক্তি পাবেন বলে জানা গেছে।

গতকালও আদালতে শিক্ষার্থীদের স্বজনরা উপস্থিত ছিলেন। ভাটারা থানার মামলার আসামি সাবের আহমেদ উল্লাসের মা মির্জা শাহীনা আদালতে উপস্থিত ছিলেন। ছেলে গ্রেপ্তার হয়ে কিছুদিন কারাগারে থাকলেও গতকাল ছেলের জামিনের খবর পেয়ে তিনি খুশি।

অন্য শিক্ষার্থীদের স্বজনরাও আদালতের বারান্দায় উপস্থিত ছিলেন। জামিন পাওয়ায় খুশিতে কয়েকজনকে কাঁদতেও দেখা গেছে।

কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্ত ১৩ শিক্ষার্থী  

নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনের সময় সংঘাত, ভাঙচুর, উসকানি ও পুলিশের কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগ এনে পুলিশের করা মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া শিক্ষার্থীদের গত রবিবার আদালত জামিন দিয়েছেন। জামিনের পর রবিবার সন্ধ্যার পর ৯ আসামিকে কেন্দ্রীয় কারাগার, কেরানীগঞ্জ থেকে মুক্তি দেওয়া হলেও জামিনের কাগজ না পৌঁছায় থেকে যান ১৩ শিক্ষার্থী। গতকাল সোমবার পৃথক সময়ে তাঁদের জামিনের কাগজ কারাগারে পৌঁছলে তাঁরাও মুক্তি পান।

গতকাল সোমবার সকাল ৮টা ৪০ মিনিটে কারাগার থেকে মুক্তি পান ৯ জন। এরপর বিকেল সাড়ে ৪টায় মুক্তি পান অন্য চারজন। সকালে মুক্তিপ্রাপ্তরা হলেন—ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী খালিদ রেজা, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের আজিজুল করিম, সাউথইস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের জাহিদুল হক ও নূর মোহাম্মদ, ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের রেদওয়ান আহমেদ, রাশেদুল ইসলাম, শাখাওয়াত হোসেন, তরিকুল ইসলাম এবং আইইউবি বিশ্ববিদ্যালয়ের সিহাব শাহরিয়ার।

বিকেলে মুক্তি পাওয়ারা হলেন—রিসালাত ওরফে ফেরদৌস, সাবের আহমেদ, আমিনুল হক ও বায়েজিদ আদনান।  এ নিয়ে মুক্তি পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা ২২ জনে দাঁড়াল।

কেন্দ্রীয় কারাগারের ডেপুটি জেলার জাহিদুল আলম জানান, মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া আসামিদের মধ্যে ২২ জনকে কেন্দ্রীয় কারাগার, কেরানীগঞ্জে প্রেরণ করা হয়েছিল। আদালত থেকে গত দুই দিনে জামিনের কাগজ এসেছে ২২ জনেরই। আদালত থেকে জামিনের কাগজপত্র আসার পর ২২ জনকেই মুক্তি দেওয়া হয়েছে।

 

 



মন্তব্য