kalerkantho


ঈদে চিকিৎসাব্যবস্থা সচল রাখার চেষ্টা

হাসপাতালে নাম কাটিয়ে বাড়িমুখো অনেক রোগী

তৌফিক মারুফ   

২১ আগস্ট, ২০১৮ ০০:০০



মাত্র তিন দিন আগেই প্রোস্টেট গ্লান্ডে অপারেশন হয়েছে মিনজু মিয়ার। এখনো সেলাই কাটা হয়নি, ক্ষতও শুকায়নি। চিকিৎসকরা আগেই জানিয়েছিলেন, সেলাই কাটতে সাত দিন সময় লাগবে। কিন্তু গতকাল সোমবার তিনি জাতীয় ক্যান্সার ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল থেকে নাম কেটে বাড়ি চলে গেছেন। জানতে চাইলে মিনজু মিয়া বলেন, ‘ঈদে চার-পাঁচ দিন বন্ধ থাকবে। ডাক্তাররাও নাকি ছুটিতে থাকবেন। ফাউ ফাউ হাসপাতালে পড়ে থেকে লাভ কী, তাই বাড়ি যাই, ঈদের পরে আবার এসে ভর্তি হব, সেলাই কাটব।’

জাতীয় বক্ষব্যধি ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে আসা নিজামুল হক বলেন, ‘বাবা নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়েছেন। এখানে নিয়ে এসেছি চিকিৎসার জন্য। ডাক্তাররা বললেন, ঈদের পরে নিয়ে আসার জন্য। তাই বাড়ি ফিরে যাচ্ছি।’

শুধু এই দুই হাসপাতালেই নয়, ঈদের ছুটির কারণে ঢাকার অন্যান্য হাসপাতালেও দেখা যায় ঢিলেঢালা ও ফাঁকা ফাঁকা ভাব। ইনডোরের অনেকে যেমন নাম কাটিয়ে বাড়ি ফিরছে, আবার অনেকের ভর্তির দরকার হলেও ঈদের পরে ভর্তির পরামর্শ দিচ্ছে কেউ কেউ। ফলে এসব রোগী চিকিৎসায় এক ধরনের দীর্ঘসূত্রতার কবলে পড়েছে। আবার অনেকেই গতকাল আউটডোরে ডাক্তার দেখিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা না করিয়েই ফিরে গেছে বাড়ি। কেউ কেউ অভিযোগ করেছে, হাসপাতালের কর্মীরা তাদের ঈদের পরে এসে পরীক্ষা করার জন্য পরামর্শ দিয়েছে। ঈদ ও সাপ্তাহিক ছুটি মিলিয়ে টানা পাঁচ দিন সরকারি ছুটি থাকলেও হাসপাতালের ছুটি পড়ে চার দিন।

এদিকে টানা চার দিনের ছুটির কারণে রোগীদের সুবিধার্থে সরকার ঈদের পরদিন বৃহস্পতিবার সারা দেশের সব সরকারি হাসপাতালের আউটডোর খোলা রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সরকারের এ সিদ্ধান্তের সঙ্গে একাত্ম হয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতাল ও অন্যান্য সমিতিভুক্ত হাসপাতালগুলোও একই সিদ্ধান্ত কার্যকর করবে। এ ছাড়া সব হাসপাতালের জরুরি বিভাগে প্রতিদিন সার্বক্ষণিক স্বাভাবিক চিকিৎসাসেবা চালু থাকবে। এরই মধ্যে এসংক্রান্ত আদেশ সারা দেশে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমরা চিঠি পাঠিয়ে, ফোনে এবং ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে সারা দেশের স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের ঈদের ছুটিতে চিকিৎসাসেবা নির্বিঘ্ন রাখতে সার্বিক দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’ তিনি বলেন, জরুরি বিভাগ তো স্বাভাবিকভাবেই চালু থাকবে। সেই সঙ্গে ঈদের পরদিন সব স্তরের সরকারি হাসপাতাল থেকে শুরু করে কমিউনিটি ক্লিনিক পর্যন্ত আউটডোর সেবা খোলা থাকবে। এ ছাড়া ঈদের সময়ও সব হাসপাতালে জরুরি বিভাগের পাশাপাশি সার্জারি টিম, প্রসূতি সেবা ও দুর্ঘটনাকবলিত রোগীদের জরুরি পরীক্ষা-নিরীক্ষাসংশ্লিষ্ট সব কিছুই খোলা থাকবে।

এদিকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ডা. কনক কান্তি বড়ুয়া বলেন, ‘মঙ্গলবার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সরকারি বন্ধের আওতায় এই বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ক্লাস, অফিস এবং হাসপাতালের বহির্বিভাগ ও  বৈকালিক স্পেশালাইজড কনসালটেশন সার্ভিস বন্ধ থাকবে। সেই সঙ্গে ২৪ আগস্ট শুক্রবার হওয়ায় শনিবার ২৫ আগস্ট এ বিশ্ববিদ্যালয় ও হাসপাতাল প্রচলিত নিয়মে খুলবে। একটানা পাঁচ দিন বন্ধ পড়ে যাওয়ায় রোগীদের সুবিধার্থে এবং সরকারের সিদ্ধান্তের প্রতি একাত্মতা জানিয়ে আমরাও এই বিশ্ববিদ্যালয়ের হাসপাতালে ঈদের পরদিন বহির্বিভাগ খোলা রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’

শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. উত্তম কুমার বড়ুয়া বলেন, ‘সরকারি নির্দেশনা অনুসারে ঈদের পরদিন বৃহস্পতিবার আউটডোর খোলা রাখার পাশাপাশি যেকোনো দুযোর্গপূর্ণ পরিস্থিতি সামাল দিতে সার্জারি বিভাগের প্রধানকে আহ্বায়ক করে একটি কোড রেড কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ ছাড়া আমাকেসহ ১৬ জন সিনিয়র বিশেষজ্ঞ চিকিৎসককে নিয়ে একটি অনকল ও রাউন্ড টিম করা হয়েছে। ঈদের বন্ধের মধ্যে যাঁরা সবাই দায়িত্ব পালন করবেন। অন্যদিকে ইনডোরের প্রতিটি ইউনিটে যাতে সার্বক্ষণিক চিকিৎসক থাকে সেই ভাবে রোস্টার সাজানো হয়েছে।’ তিনি জানান, এত কিছুর পরও হয়তো তুলনামূলক সুস্থ কিছু রোগী বাড়িতে গিয়ে সবার সঙ্গে ঈদ করার জন্য স্বেচ্ছায় নাম কাটিয়ে চলে যেতে পারে।

 

 



মন্তব্য