kalerkantho


পাটুরিয়া ও শিমুলিয়া ঘাট

ভিড়ে বেসামাল লঞ্চ ও ফেরি গাড়ির দীর্ঘ সারি, ভোগান্তি

মুন্সীগঞ্জ ও শিবালয় প্রতিনিধি   

২১ আগস্ট, ২০১৮ ০০:০০



দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার বাসিন্দাদের প্রবেশদ্বার খ্যাত দুই নদী ঘাট পাটুরিয়া ও শিমুলিয়া ঘরমুখো মানুষের চাপে স্বাভাবিক গতিতে কাজ করতে পারছে না। গতকাল সোমবার দিনভর ছিল যানবাহনের দীর্ঘ সারি। দুপুরের পর পাটুরিয়া ঘাট এলাকা থেকে নবগ্রাম পর্যন্ত যাত্রীবাহী বাস এবং ৫ নম্বর ফেরি ঘাট থেকে কয়রা পর্যন্ত আঞ্চলিক সড়কে ছোট গাড়ি সাড়ে তিন কিলোমিটার দীর্ঘ লাইনে পারের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। শিমুলিয়ায় আট দিন নাব্যতা সংকটে ফেরি চলাচল ব্যাহত হওয়ার পর রবিবার থেকে সংকট কিছুটা কেটে গেছে। তবে ১টি রো রো ফেরিসহ ১৭টি ফেরি দিয়ে যানবাহন পারাপার হচ্ছে বলে চাপ সামলানো কঠিন হয়ে পড়েছে। এই ঘাটে ছোট-বড় তিন শতাধিক গাড়ি পারের অপেক্ষায় থাকতে দেখা যায়।

পাটুরিয়া ঘাটে সোমবার দুপুরে গিয়ে দেখা যায় বিশৃঙ্খল অবস্থা। প্রাইভেট কারে ঢাকা থেকে কুষ্টিয়াগামী  উম্মে মেহেজাবিন  নামের এক যাত্রী বলেন, ‘গ্রামের বাড়ি যাচ্ছি সবার সঙ্গে ঈদ করতে। ঘাটে তিন ঘণ্টা ধরে বসে আছি। প্রচণ্ড গরমেও কষ্ট হচ্ছে। কখন ফেরিতে উঠতে পারব বলতে পারছি না।’

এই ঘাট প্রসঙ্গে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ সংস্থার (বিআইডাব্লিউটিসি) মহাব্যবস্থাপক (বাণিজ্য) এস এম আশিকুজ্জামান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বাড়তি চাপের কারণে পাটুরিয়া ঘাটে বাস, ট্রাক, প্রাইভেট কার মিলে সাত শতাধিক যানবাহনকে অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে। তবে আমাদের ফেরি সংকট নেই। খুব তাড়াতাড়ি অপেক্ষমাণ যানবাহন পার করতে সক্ষম হব। এখানে নৌ রুটে ছোট-বড় ২০টি ফেরি ও ৩২টি লঞ্চ  চলাচল করছে।’

এদিকে হেঁটে হাজার হাজার যাত্রী লঞ্চ ও ফেরিতে উঠে নদী পাড়ি দিয়ে গন্তব্যে যাচ্ছে। আবার অনেক সময় ফেরিতে যানবাহন ওঠার আগেই যাত্রীরা উঠে পড়ছে। ফলে জায়গার অভাবে যানবাহন ছাড়াই ফেরি শুধু যাত্রী নিয়ে  ছেড়ে যায়। ফারুক নামের এক যাত্রী বলেন, ‘দূরপাল্লার গাড়িতে আসিনি। ঘাটে এসে যদি ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থাকতে হয় এই ভয়ে।  কিন্তু এখন এক কিলোমিটার হেঁটে এসে লঞ্চে উঠলাম।’

গতকাল এই ঘাট পরিদর্শনে আসেন নৌ পুলিশের ডিআইজি শেখ মোহাম্মদ মারুফ হাসান। তবে কোথাও ফেরি বা লঞ্চে নির্ধারিত  ভাড়ার বেশি আদায় করার অভিযোগ পাওয়া যায়নি।

শিমুলিয়া ঘাট প্রসঙ্গে বিআইডাব্লিউটিসির এজিএম খন্দকার শাহ খালেদ নেওয়াজ জানান, সোমবার সকাল থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত আট শতাধিক গাড়ি পার করা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘নৌ রুটে বর্তমানে ১৭টি ফেরি চলাচল করছে। নাব্যতা সংকটের কারণে চ্যানেলের মুখে ডাম্প ফেরিগুলো চালাতে সমস্যা হচ্ছে। ঝুঁকি নিয়ে একটি রো রো ফেরি চলছে। তারপর ফেরিগুলো পুরো বোঝাই করা যাচ্ছে না। তাই একটু সমস্যা থেকে যাচ্ছে।’ তিনি আরো বলেন, ‘সকাল (সোমবার) থেকেই গাড়ির চাপ বেড়ে যায়। সব মিলিয়ে এখন এই ঘাটে ৩০০ গাড়ি পারাপারের অপেক্ষায় রয়েছে। মোটরসাইকেল ও প্রাইভেট (ছোট) গাড়ির সংখ্যা বেশি। ওয়ানওয়ে হওয়ার কারণে চ্যানেলের মুখে গিয়ে ফেরিগুলো অপেক্ষা করে।

এদিকে লঞ্চ ও স্পিডবোট ঘাটেও ছিল উপচে পড়া ভিড়। ঈদ উপলক্ষে রাত ৮টার পরিবর্তে রাত ১০টা পর্যন্ত লঞ্চ চলাচল করবে। এ রুটে ৮৭টি লঞ্চ চলাচল করে। এখন একটি লঞ্চ বন্ধ রয়েছে। বিকেল ৩টার দিকে বৃষ্টি ও নদীতে ঢেউ শুরু হলে কিছু সময়ের জন্য লঞ্চ ও স্পিডবোট চলাচল বন্ধ রাখা হয়।

বিআইডাব্লিউটিএর শিমুলিয়া ঘাট পরিদর্শক মো. সোলেমান বলেন, ‘৮৭টি লঞ্চের মধ্যে একটি নষ্ট। বাকি ৮৬টি লঞ্চের মাধ্যমে যাত্রীরা পারাপার হচ্ছে। যাত্রীরা ভোগান্তি ছাড়াই যাতায়াত করছে। সারা বছর রাত ৮টা পর্যন্ত লঞ্চ চললেও ঈদ উপলক্ষে দুই ঘণ্টা সময় বাড়ানো হয়েছে।’

 



মন্তব্য