kalerkantho


গরু মোটাতাজাকরণ

গাবতলী হাটে দুই ভুয়া ডাক্তারসহ চারজন আটক

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২১ আগস্ট, ২০১৮ ০০:০০



একজনের নাম তরিকুল ইসলাম (৩২), অন্যজন হেকমত আলী (৫৫)। দুজনই ভুয়া গরুর ডাক্তার। গরু বাঁচাতে নয়, চিকিৎসা দেন তাত্ক্ষণিক কিভাবে গরু মোটাতাজা দেখাবে। এর জন্য তাঁরা ব্যবহার করেন স্টেরয়েড-জাতীয় ইঞ্জেকশন। প্রতিটি ইঞ্জেকশন মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে গরুর গায়ে পুশ করেন। কিছুক্ষণের মধ্যেই গরুর চামড়ার নিচে পানি এসে ফুলে যায়। এতে তাত্ক্ষণিক বেশ মোটাতাজা দেখায় গরু। 

গতকাল সোমবার গাবতলীর গরুর হাটে ইঞ্জেকশন দেওয়ার সময় র‌্যাবের হাতে ধরা পড়েন এই দুই ভুয়া চিকিৎসক। গুরুতর এ অপরাধের দায়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সরোয়ার আলম তাঁদের প্রত্যেককে এক বছর করে কারাদণ্ড দিয়ে কারাগারে পাঠিয়ে দেন। আর দুই গরু ব্যবসায়ী মো. রুবেল (৩২) ও মো. আলমকে (৪৬) দুই মাস করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

র‌্যাব জানায়, প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের ২৬টি মেডিক্যাল টিম রাজধানীর ২৪টি হাটে দায়িত্ব পালন করছে। গতকাল সকাল ১১টার দিকে র‌্যাব-৪-এর সদস্যদের সহযোগিতায় গাবতলী গরুর হাটে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। এ সময় প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের ১২ জন চিকিৎসক ভ্রাম্যমাণ আদালতকে সহযোগিতা করেন। তাঁরা হাটের সন্দেহভাজন গরুগুলো পরীক্ষা করে দেখেন। এর মধ্যে চারটি গরু পাওয়া যায়, যাদের শরীরে স্টেরয়েড পুশ করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদে গরু ব্যবসায়ী রুবেল ও আলম দোষ স্বীকার করেন। তাঁরা দেখিয়ে দিলে র‌্যাব আটক করে ওই দুই ভুয়া ডাক্তারকে।

ম্যাজিস্ট্রেট সরোয়ার আলম কালের কণ্ঠকে জানান, পশু চিকিৎসক পরিচয় দেওয়া দুই ভুয়া ডাক্তারের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ স্টেরয়েড ইঞ্জেকশন পাওয়া গেছে। তাঁরা কুষ্টিয়া থেকে এসেছেন। তিনি আরো জানান, যে গরুগুলোকে স্টেরয়েড ইঞ্জেকশন দেওয়া হয় সেগুলোর চামড়ার নিচে পানি জমে যায়। তিন-চার দিনের মধ্যে যদি এই গরু জবাই না করা হয়, তাহলে মরে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। স্টেরয়েড দেওয়া গরুর মাংস খেলে কিডনি অকেজোসহ নানা জটিলতা দেখা দিতে পারে। যে চারটি গরু শনাক্ত করা হয়েছে সেগুলো বিক্রি না করে কুষ্টিয়ায় পাঠিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

 

 



মন্তব্য