kalerkantho


‘মেঝে থেকে বেডে’

নৃত্যগুরু বাদল থেমেই গেলেন

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী   

২০ আগস্ট, ২০১৮ ০০:০০



নৃত্যগুরু বাদল থেমেই গেলেন

যেন অভিমান করেই চলে গেলেন স্বাধীনতা পদকপ্রাপ্ত খ্যাতিমান নৃত্যগুরু বজলুর রহমান বাদল। রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে তাঁর ঠাঁই হয়েছিল মেঝেতে। খবর পেয়ে তৎপর হন মেয়র, তার পরই কর্তৃপক্ষ শয্যার ব্যবস্থা করে। শয্যা থেকে আইসিইউ, সেখান থেকে না ফেরার ভুবনে পাড়ি জমান নৃত্যগুরু। তাঁর বয়স হয়েছিল ৯৫ বছর। ২০১৭ সালে স্বাধীনতা পদকে ভূষিত তিনি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁর হাতে পদক তুলে দেন। এ ছাড়া শিল্পকলা একাডেমি পুরস্কার, নজরুল একাডেমি পুরস্কারসহ অসংখ্য পুরস্কারে তিনি ভূষিত হয়েছেন। পেয়েছেন ‘নৃত্যগুরু’ উপাধি।

বজলুর রহমান দীর্ঘদিন ধরেই শ্বাসকষ্ট, হৃদরোগসহ নানা সমস্যায় ভুগছিলেন। থাকতেন রাজশাহীর শিরোইল এলাকায় মেয়ের বাসায়। গত শুক্রবার দিবাগত রাত ১টার দিকে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁকে রামেক হাসপাতালে নেওয়া হয়। শনিবার দুপুর পর্যন্ত শয্যা না পাওয়ায় হাসপাতালের ৩২ নম্বর ওয়ার্ডের একটি কক্ষের মেঝেতেই শুয়ে চিকিৎসা নিতে হয় তাঁকে। পরে মেয়র এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটন ও জেলা প্রশাসনের চেষ্টার পর নৃত্যগুরু বাদলকে একটি শয্যায় তোলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। গঠন করা হয় তিন সদস্যের মেডিক্যাল বোর্ড। বোর্ডের পরামর্শে গতকাল রবিবার সকাল ১১টার দিকে নৃত্যগুরুকে আইসিইউতে নেওয়া হয়। গতকাল তাঁকে নিয়ে কালের কণ্ঠে ‘হাসপাতালের মেঝে থেকে বেডে নৃত্যগুরু বাদল’ শিরোনামে খবর ছাপা হয়েছিল।

রামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জামিলুর রহমান বলেন, ‘শিল্পী সাড়ে ৩টার দিকে মারা গেছেন। তার পরও আমরা পর্যবেক্ষণ করছিলাম। সাড়ে ৫টার দিকে ঘোষণাটি দিতে হয়েছে।’ মেয়র লিটন, সদর আসনের সংসদ সদস্য ফজলে হোসেন বাদশা ছাড়াও রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক নেতারা গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। পারিবারিক সূত্র মতে, শিল্পী কিছুদিন আগেও রাজশাহী শিল্পকলা একাডেমিতে নাচের ক্লাস নিতেন, সম্প্রতি তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন।

 



মন্তব্য