kalerkantho


রক্তারক্তির পর খাগড়াছড়ি থমথমে

আজ আধাবেলা অবরোধ, অপরাধী ধরতে যৌথ বাহিনীর অভিযান শুরু

খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি   

২০ আগস্ট, ২০১৮ ০০:০০



রক্তারক্তির পর পার্বত্য শহর খাগড়াছড়ি গতকাল রবিবারও চেনা ছন্দে ফেরেনি। এখনো কাটেনি স্থানীয়দের মনের ভয় আর উৎকণ্ঠা। আতঙ্কিত লোকজন কথা বলারও সাহস হারিয়েছে। স্বনির্ভর বাজারের সব দোকান বন্ধ রয়েছে। কবে নাগাদ ওই বাজারের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান খুলবে তাও সবার কাছে অজানা। এদিকে খুনাখুনির ঘটনায় নিহত সবার লাশ পরিবারের সদস্যদের কাছে বুঝিয়ে দিয়েছে প্রশাসন। তবে এ ঘটনায় এখনো মামলা হয়নি। কাউকে ধরতেও পারেনি পুলিশ। এ ঘটনার প্রতিবাদে আজ সোমবার ইউপিডিএফ সমর্থিত তিনটি পাহাড়ি সংগঠন খাগড়াছড়িতে আধাবেলা সড়ক অবরোধের ডাক দিয়েছে।

এদিকে উদ্ভূত পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে প্রশাসন কাজ শুরু করেছে। স্বনির্ভর বাজার ও আশপাশ এলাকা এবং বিভিন্ন স্পর্শকাতর স্থানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। স্বনির্ভর বাজারে পুলিশ ছাড়াও বিজিবি সদস্যরা চেকপোস্ট বসিয়ে আইন-শৃঙ্খলার দায়িত্ব পালন করছে। এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে আঞ্চলিক সংগঠনগুলোর মধ্যে পাহাড়ে চলমান সশস্ত্র সংঘাত এবং সর্বশেষ গত শনিবারের সন্ত্রাসী ঘটনায় জড়িতদের ধরতে ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের জন্য খাগড়াছড়িতে যৌথ বাহিনী চিরুনি অভিযান শুরু করেছে।

এদিকে সন্ত্রাসীদের ব্রাশফায়ারে নিহত ছয়জনের লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ঘটনার প্রতিবাদে বিক্ষোভ করতে গিয়ে মাথায় আঘাত পেয়ে মারা যাওয়া পেরাছড়ার বাসিন্দা ছন কুমার চাকমার লাশও পরিবারকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়। গতকাল দুপুরে স্বনির্ভর বাজার এলাকায় গিয়ে পুলিশ তিন নেতার লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে। এই তিনজন হলেন ইউপিডিএফ সমর্থিত পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের জেলা ভারপ্রাপ্ত সভাপতি তপন চাকমা, একই সংগঠনের জেলা সহসাধারণ সম্পাদক এলটন চাকমা ও গণতান্ত্রিক যুব ফোরামের জেলা সহসভাপতি পলাশ চাকমা। গত শনিবার স্বনির্ভর বাজারে গিয়ে গুলিতে আরো মারা যান কলেজছাত্র রুপম চাকমা, ঢাকায় কম্পানি চাকুরে প্রকৌশলী ধীরাজ চাকমা ও মহালছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য সহকারী জিতায়ন চাকমা। তাঁদের লাশও পরিবারের কাছে দেওয়া হয়েছে।

উত্তর খবংপুড়িয়া শ্মশানে দাহ করা হয় মহালছড়ি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য সহকারী জিতায়ন চাকমা ও কলেজছাত্র রুপম চাকমাকে। এ ছাড়া প্রকৌশলী ধীরাজ চাকমাকে পানছড়ির উগলছড়ি গ্রামের শ্মশানে এবং ছন কুমার চাকমাকে শিবমন্দির গ্রামের শ্মশানে দাহ করা হয়।

যৌথ বাহিনীর চিরুনি অভিযান : গতকাল বিকেলে জেলা সদরের ১ নম্বর যৌথ খামার এলাকায় যৌথ বাহিনীর একটি অভিযান চলে। সন্দেহ হলেই পাহাড়ের গভীর জঙ্গলে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন সেনা কর্মকর্তা জানান, পরবর্তী নির্দেশ না হওয়া পর্যন্ত সন্ত্রাসীদের পাকড়াও করতে তারা মাঠে থাকবে।

খাগড়াছড়ি পুলিশ সুপার আলী আহমদ খান জানান, সেনাবাহিনী, বিজিবি ও পুলিশের সমন্বয়ে এই অভিযান চলছে। আপাতত এক সপ্তাহ চলবে এ অভিযান। প্রয়োজন হলে অভিযানের মেয়াদ বাড়ানো হতে পারে। মূলত অবৈধ অস্ত্রধারী, মাদক কারবারি এবং যারা সস্ত্রাসী তাদের গোপন আস্তানা খুঁজে বের করে ধরা হবে। এ ছাড়া শহর, শহরতলির বিভিন্ন স্থানে চেকপোস্ট বসিয়েও অপরাধী ধরার চেষ্টা চলছে।

 



মন্তব্য