kalerkantho

নতুন কলরেটে গ্রাহকের ব্যয় বৃদ্ধির তথ্য সঠিক নয়

১৫ কোটি মোবাইল গ্রাহক এখন একই রেটে কথা বলছে

বিশেষ প্রতিনিধি   

২০ আগস্ট, ২০১৮ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



মোবাইল ফোন সেবায় গ্রাহকদের ভয়েস কলচার্জের ক্ষেত্রে অননেট (একই নেটওয়ার্ক) ও অফনেট (এক নেটওয়ার্ক থেকে অন্য নেটওয়ার্ক) বিভাজন তুলে দেওয়ায় দেশের ১৫ কোটির বেশি গ্রাহক এখন একই রেটে কথা বলতে পারছে। আগে এ ধরনের সুযোগ ছিল সাত কোটি গ্রাহকের। উন্নত দেশগুলোতে অননেট ও অফনেটের মধ্যে এ বিভাজন অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হয়। অবশেষে বাংলাদেশেও এই অপরাধমূলক ব্যবস্থার অবসান হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টদের অভিমত।

মোবাইল ফোন অপারেটরগুলো জানিয়েছে, আগের সর্বনিম্ন কলচার্জ প্রতি মিনিট ২৫ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৪৫ পয়সা নির্ধারণ করায় গ্রাহকদের ব্যয় বৃদ্ধির যে আশঙ্কা তাও সঠিক নয়। তাদের পক্ষ থেকে বিভন্ন তথ্য জানিয়ে বলা হচ্ছে, আগে অননেট ও অফনেটের মধ্যে কলচার্জের বৈষম্য এবং বিভিন্ন প্যাকেজের গ্রাহকরা গড়ে প্রতি মিনিট ৫৯ পয়সায় কথা বলতে পারত। এখন তা ৫৩ পয়সায় নেমে আসবে। সর্বনিম্ন কলরেট ২০ পয়সা বাড়ানোতে প্রতি মাসে আরপু (এভারেজ রেভিনিউ পার ইউজার) বাড়বে বলে যে ধারণা ছিল তাও গত কয়েক দিনের হিসাবে সঠিক বলে মনে হচ্ছে না। চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে আরপু ছিল গড়ে ১৩০ টাকা। নতুন কলরেটের পর তা ১২৭ টাকায় নেমে এসেছে।

মোবাইল অপারেটর রবি ও বাংলালিংকের পক্ষ থেকে বলা হয়, আগে নানা ধরনের জটিল প্যাকেজের কারণে গ্রাহকরা বিভ্রান্তিতে ভুগত। এখন তা অনেক কমে গেছে।

কিন্তু আগে যে সর্বনিম্ন ২৫ পয়সায় কথা বলার সুযোগ ছিল? এ প্রশ্নে তারা জানায়, বিভিন্ন প্যাকেজ জেনে, বুঝে অননেটে এ সুযোগ নিতে পারত মাত্র ৪ শতাংশ গ্রাহক। নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসি বিষয়টি নিয়ে দুই বছর ধরে স্টাডি করেছে। গ্রাহক স্বার্থ বিবেচনায় রেখেই এ কলরেট নির্ধারণ করা হয়েছে। এর ফলে একই নেটওয়ার্কে ‘লকইন’ হয়ে থাকা গ্রাহকদের মুক্তি ঘটবে এবং মোবাইল অপারেটরদের মধ্যে সুস্থ প্রতিযোগিতা শুরু হবে।

এই দুই মোবাইল ফোন অপারেটরের কর্মকর্তাদের ধারণা, গ্রাহকদের মধ্যে কলরেট নিয়ে বর্তমানে যে বিভ্রান্তি রয়েছে তা এমএনপি চালু হওয়ার পর কেটে যাবে। তখন মোবাইল অপারেটররাও অভিন্ন কলরেটে সবচেয়ে ভালো সেবা দেওয়ার প্রতিযোগিতায় নামবে।

নতুন কলরেট বাজারে প্রতিযোগিতা বাড়াবে উল্লেখ করে রবির হেড অব করপোরেট অ্যান্ড রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্স শাহেদ আলম বলেন, ‘আমাদের বিশ্বাস, একক মূল্যব্যবস্থা দেশের টেলিযোগাযোগ বাজারে ভারসাম্য নিয়ে আসবে। এখন থেকে গ্রাহকরা কোন অপারেটরে কল করছে এ নিয়ে আর ভাবতে হবে না, বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো যেকোনো অপারেটরে একই মূল্যে কথা বলতে পারবে। এর ফলে দেশের টেলিযোগাযোগ শিল্পে বহু প্যাকেজের যুগ শেষ হলো—যা নিয়ে গ্রাহকদের বিভ্রান্তিতে পড়তে হতো। এরই মধ্যে এ ব্যাপারে অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে; প্রত্যেক অপারেটরই একক রেটের অফার চালু করছে। নতুন মূল্যকাঠামোর ফলে বাজারে সুষম প্রতিযোগিতাও নিশ্চিত হবে, যা আগের মূল্যকাঠামোয় সম্ভব ছিল না। সুষম প্রতিযোগিতা নিশ্চিত হওয়ায় গ্রাহকদের সর্বোচ্চ মানের সেবা প্রদান করে আমরা তাদের আরো আস্থা অর্জন করতে পারব বলে আমাদের প্রত্যাশা।’

বাংলালিংকের চিফ করপোরেট অ্যান্ড রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্স অফিসার তাইমুর রহমান বলেন, এখন একজন গ্রাহক বাংলাদেশের ১৫ কোটিরও বেশি নম্বরে অভিন্ন রেটে কল করতে পারছে, যা আগে সম্ভব ছিল না। এমএনপি সেবা চালু হলে এর সুবিধা সম্পূর্ণভাবে উপলব্ধি করা যাবে।

এদিকে অফনেট ও অননেটের মধ্যে বিভাজন তুলে দিয়ে একক কলরেট নির্ধারণ করায় মোবাইল অপারেটরদের মধ্যে আপত্তি ছিল একমাত্র গ্রামীণফোনের। গত ২৭ জুন গ্রামীণফোন এ বিষয়ে তাদের যুক্তি উপস্থাপন করে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসির কাছে লিখিত প্রস্তাব দেয়। এ বিষয়ে গ্রামীণফোনের বক্তব্য ছিল, অফনেট ও অননেট পার্থক্য তুলে দেওয়া হলে মোবাইল ফোন ইন্ডাস্ট্রি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। কম আয়ের গ্রাহক কম খরচে কথা বলার সুযোগ হারাবে। এতে প্রথম দিকে সরকারের রাজস্ব আয় কিছুটা বাড়লেও গ্রাহকরা কল করা কমিয়ে দেবে।

মন্তব্য