kalerkantho


কোরবানির পশু কেনাবেচা

ঝামেলাবিহীন বিচিত্র হাট

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২০ আগস্ট, ২০১৮ ০০:০০



হাটে ঘুরে ঘুরে গরু পছন্দ করার ঝামেলা, দর-কষাকষির হুজ্জত, গরু নিয়ে হাট থেকে বাসায় ফেরার দুর্ভোগ—এসবের কোনো কিছুই আর পোহাতে হচ্ছে না ক্রেতাকে। অনলাইন মার্কেটপ্লেস (বাজার), ফেসবুক পেজ, মোবাইল ফোন অ্যাপ্লিকেশনের মাধ্যমেই এখন কোরবানির পশু কেনা যাচ্ছে। শুধু পশু কেনাই নয়, বাসায় পৌঁছে দেওয়া, কেটেকুটে দেওয়ার আর সেই মাংস অন্য বাসায় পৌঁছে দেওয়ারও ব্যবস্থা করছে অনলাইন বাজারের এসব সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান।

শুধু তাই নয়, চাইলে স্ত্রী-সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে খামারে গিয়ে ওজন মেপেও গরু কেনা যাচ্ছে।

সনাতন হাটের পাশাপাশি এমন ঝামেলাবিহীন বিচিত্র পশুর হাটে ক্রেতার আগ্রহ বাড়ছে। স্থায়ী বা অস্থায়ী হাটের তুলনায় পরিসর খুব বড় না হলেও অনলাইন বাজারে প্রতিবছর বাড়ছে বেচাকেনা। সেই সঙ্গে কোরবানির পশু বিক্রির এসব প্ল্যাটফর্মে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে কৌতূহলি ভিজিটরের সংখ্যা।

সংশ্লিষ্টরা জানায়, এবার ঈদুল আজহায় প্রায় এক কোটির বেশি কোরবানির পশু বিক্রি হবে। এর মধ্যে আট লাখ গরু বিক্রি হবে সরাসরি খামার থেকে এবং অনলাইনে। দেশের বিভিন্ন স্থানে ছোট ও মাঝারি খামার, অনলাইন দোকান, ফেসবুক, ভাইবার, হোয়াটসঅ্যাপসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিক্রি হচ্ছে এসব গরু।

অনলাইনে বিভিন্ন বাজারের উদ্যোক্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, অনলাইনে পশু কেনা খুব কঠিন মনে হলেও বিষয়টি বেশ সহজ। প্রতিটি পশুর সঠিক ওজন, উচ্চতাসহ স্কেলে দাঁড়িয়ে তোলা ছবির পাশাপাশি আছে ভিডিও। গ্রাহকরা চাইলে পশু ক্রয়ের আগে তাদের প্রত্যাশিত পশুটি যেখানে রাখা হচ্ছে, সেটি সরাসরি দেখে আসতে পারবে। এর পাশাপাশি রাজধানীতে সম্প্রতি অনলাইনের গরু নিয়ে একটি হাট বসেছিল যেখানে বিক্রয়ডটকম তাদের ক্রেতাদের বাস্তবে গরুগুলো দেখিয়েছে। সারা দেশে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা অসংখ্য বিক্রেতা ছাড়াও দেশীয় খামারগুলোর একটি বড় অংশ বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে বিজ্ঞাপন দিয়ে গরু বিক্রি করছে। সাদিক অ্যাগ্রো, সুবেদ আলী অ্যাগ্রো, মমতাজ অ্যাগ্রো, স্বাধীন অ্যাগ্রো, মাস্কো অ্যাগ্রোসহ আরো অনেকে গরু বিক্রি করছে বিক্রয়ডটকমে।

জানতে চাইলে বিক্রয়ডটকমের হেড অব মার্কেটিং অ্যান্ড অ্যাড সেলস ঈশিতা শারমিন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘সনাতনী বাজারের নানা ঝক্কিঝামেলা এড়িয়ে অনেকে অনলাইনে কোরবানির পশু কিনছে। গতবারের চেয়ে দ্বিগুণ পশু এবার আমরা বিক্রি করেছি। তবে ডেলিভারি নিয়ে নানা চ্যালেঞ্জের মধ্যেও আমরা গ্রাহকদের তা পৌঁছে দিচ্ছি।’ তিনি বলেন, অনলাইনে গরু বিক্রি বেড়ে যাওয়ার এই নতুন প্রবণতা দুই পক্ষের জন্য লাভজনক। বিক্রেতারা সড়কে যানজট, রোদ-বৃষ্টি ও চাঁদাবাজি উপেক্ষা করে হাটে নেওয়ার ঝামেলা থেকে রেহায় পাচ্ছে। হাটে মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য থেকে তারা রক্ষা পাচ্ছে ও গরুর খাদ্য এবং নিরাপদ স্বাস্থ্য নিশ্চিত করা যাচ্ছে।

দেশের অন্যতম অনলাইন মার্কেটপ্লেস (বাজার) বিক্রয়ডটকম তিন-চার বছর ধরে পশুর হাট বসাচ্ছে নিজেদের সাইটে। এবারও আছে। এই হাটেই যেকোনো বিক্রেতাই নিবন্ধন করে পশু বিক্রি করতে পারছে বলে জানান ঈশিতা শারমিন।

দীর্ঘদিন ধরেই গরুর মাংস বিভিন্নভাবে প্রক্রিয়াজাত করে অনলাইনে বিক্রি করে আসছে বেঙ্গল মিট। অনলাইনের পাশাপাশি বিভিন্ন সুপারশপেও বেঙ্গলের মাংস পাওয়া যায়। প্রতিষ্ঠানটির ওয়েবসাইটে দেখা গেল তাদের সব পশু বিক্রি হয়ে গেছে। এখন তারা শুধু সরবরাহ করছে।

অনেকেই গরুর উচ্চতা জানতে চায়। এ জন্য বেঙ্গল মিট তাদের গরু সম্পর্কে ক্রেতাদের সঠিক ধারণা দিতে পশুগুলোকে উচ্চতা স্কেলের সামনে দাঁড় করিয়ে তোলা ছবি দিয়েছে। সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে ভিডিও ক্লিপও। এতে সঠিক ধারণা পাওয়া সম্ভব হচ্ছে। বেঙ্গল মিটের হাট থেকে গরু কিনতে ও সরবরাহ নিতে হলে আগ্রহীদের ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেটে অবস্থিত বেঙ্গল মিটের আউটলেটে গিয়ে বিস্তারিত তথ্য দিয়ে দাম পরিশোধ করতে পারবে। সরাসরি অনলাইনেও পরিশোধ করা যাবে। সরবরাহের জন্য আলাদাভাবে নির্ধারিত হারে টাকা দিতে হয়।

প্রতিষ্ঠানটির বিপণন প্রধান এইচ ইউ এম মেহেদী সাজ্জাদ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘গত চার বছর থেকে আমরা এই অনলাইনে কোরবানির পশু বিক্রি করছি। আমরা এ বছর প্রত্যাশার চেয়েও ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি। গত বছর আমরা অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ২১২টি গরু বিক্রি করেছিলাম। এ বছর এরই মধ্যে চার শর বেশি গরু বিক্রি হয়ে গেছে শুধু অনলাইনে।’

পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের ই-কমার্স উদ্যোগ ‘পল্লী কোরবানি হাট’ নামে অনলাইনে দেশি গরু-ছাগল বিক্রি করছে। ক্লিকবিডি, আমারদেশবিডিসহ অন্যান্য অনলাইন বাজারেও কোরবানির পশু মিলছে।

ফেসবুকের ওয়ালেও গরুর হাট : ওয়েবসাইটের পাশাপাশি বিভিন্ন ফেসবুক গ্রুপ ও পেজেও কোরবানির পশু কেনাবেচা চলছে। জনপ্রিয় ফেসবুক গ্রুপ ‘আসেন ব্যবসা করি’র সাড়ে তিন লাখ সদস্যের অনেকেই পশু বিক্রির প্রচারণা চালাচ্ছেন। পাশাপাশি ‘বাংলাদেশের গরু ছাগলের হাট’, ‘গরু লাভারস অব বাংলাদেশ’সহ বিভিন্ন ফেসবুক গ্রুপ ও পেজের মাধ্যমে গরু বিক্রি করছেন অনেকেই।

এদিকে অ্যাপভিত্তিক ট্রাকসেবা প্রতিষ্ঠান ‘ট্রাক লাগবে’ ট্রাকের মাধ্যমে ক্রেতার বাসায় গরু পৌঁছে দিচ্ছে। তারা হাটের গরুও পৌঁছে দেবে। এ ছাড়া সেবা এক্সওয়াইজেডও দিচ্ছে নানা সেবা।

ওজন মেপে গরু বিক্রি : সরাসরি খামার থেকে ওজন মেপে গরু বিক্রিও দিন দিন জনপ্রিয় উঠছে। নারায়ণগঞ্জ শহর ও আরো কয়েকটি স্থানে গড়ে ওঠা খামারে এই ব্যবস্থা রয়েছে। গত বছর কয়েকটি খামারে এভাবে গরু বিক্রি হয়েছে। এবার যোগ হয়েছে আরো কয়েকটি।

 

 



মন্তব্য