kalerkantho

বাদীকে আপসের আলটিমেটাম

নরসিংদী প্রতিনিধি   

২০ আগস্ট, ২০১৮ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



নরসিংদীর রায়পুরায় সাত বছরের ছেলে হত্যা মামলার বাদী সুজন মিয়াকে আপস করতে সাত দিনের আলটিমেটাম দিয়েছে আসামিপক্ষের স্বজনরা। তা না হলে ছোট ছেলে মামুনকে যেভাবে হত্যা করা হয়েছে এর চেয়ে বেশি নৃশংসভাবে বাদীর বড় ছেলেকেও হত্যা করা হবে বলে হুমকি দেওয়া হয়। এ ঘটনায় সুজন মিয়া রায়পুরা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।

ভুক্তভোগী পরিবার ও পুলিশের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রায়পুরা উপজেলার হাসিমপুর এলাকার বিদেশফেরত সুজন মিয়ার ছোট ছেলে মামুন গত ২০ জুন বিকেলে বাড়ির সামনের সড়কে খেলতে গিয়ে নিখোঁজ হয়। ২৩ জুন দুপুর দেড়টার দিকে প্রতিবেশী জয়নাল মাস্টারের বাড়ির তিনতলার ছাদ থেকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় মামুনের লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের বাবা সুজন বাদী হয়ে রায়পুরা থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। পরে জয়নাল মাস্টার ও পাশের রাজনগর এলাকার নাসির মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হলে নাসিরের স্বীকারোক্তিতে বেরিয়ে আসে হত্যার মূল রহস্য।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই আবদুল গাফফার বলেন, ‘অভিযুক্ত জয়নাল মাস্টার হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী। তিনি নাসিরকে ১০ হাজার টাকায় ভাড়া করে মামুনকে অপহরণ করান। নাসিরের মাধ্যমে সুজন মিয়ার ফোনে ৩০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। সেই টাকা না দেওয়ায় জয়নাল মাস্টারের পরিকল্পনামাফিক মামুনকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়।’ এ ঘটনায় সর্বশেষ জয়নাল মাস্টারের নাতি জিদানকে গ্রেপ্তার করা হলে তার স্বজনরা মামলার বাদী সুজন মিয়াকে আপস করতে হুমকি দেয়। গত শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে তারা মামলার বাদী সুজনের বাড়িতে গিয়ে আপসের জন্য সাত দিনের আলটিমেটাম দেয়।

সুজন মিয়া বলেন, ‘তারা আমার নাবালক শিশুকে টাকার জন্য হত্যা করেছে। এখন মামলা তুলে নিতে সাত দিনের আলটিমেটাম দিয়ে আমাদের মারার হুমকি দিয়ে গেছে। এখন ভয়ে এলাকায় যেতে পারছি না।’ রায়পুরা থানার ওসি দেলোয়ার হোসেন বলেন, এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

 

মন্তব্য