kalerkantho


রাজবাড়ীতে গুপ্তহত্যা রোধে তিন ইউনিয়নে পাহারা

জাহাঙ্গীর হোসেন, রাজবাড়ী   

২০ আগস্ট, ২০১৮ ০০:০০



মাত্র ১৫ দিনের ব্যবধানে রাজবাড়ী সদর উপজেলার পাশাপাশি তিনটি ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী দুই কিলোমিটার এলাকায় দুর্বৃত্তরা চারজনকে প্রায় একই কায়দায় গলা কেটে হত্যা করেছে। পরপর এসব হত্যার ঘটনায় আতঙ্কিত এখন এ জনপদের মানুষ। গতকাল শনিবার বিকেল পর্যন্ত কোনো তথ্য মেলেনি পুলিশের কাছে। তাই সংশ্লিষ্ট তিনটি ইউনিয়নে গত শুক্রবার রাত থেকে গ্রামবাসী, জনপ্রতিনিধি ও গ্রাম পুলিশের সদস্যরা পালাক্রমে শুরু করেছে পাহারার কাজ।

গত ২ আগস্ট রাতে রাজবাড়ী সদর উপজেলার মূলঘর ইউনিয়নের পশ্চিম মূলঘর গ্রামে সাহিদা বেগম (৪৫) ও তাঁর নাতনি লামিয়া খাতুনকে (৭) গলা কেটে হত্যা করা হয়। ৭ আগস্ট রাতে বাণিবহ ইউনিয়নের অটদাপুনিয়া গ্রামে গৃহবধূ আদুরী আক্তার লিমা (২৫) এবং ১৬ আগস্ট রাতে আলীপুর ইউনিয়নের বারবাকপুর পশ্চিম পাড়ায় হাজেরা বেগমকে (৫০) একই কায়দায় হত্যা করা হয়েছে। ওই সময় দুর্বৃত্তরা হাজেরার পুত্রবধূ স্বপ্না বেগমকে (২৫) কুপিয়ে জখম করেছে।

আলীপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শওকত হাসান জানান, এসব সিরিয়াল কিলিংয়ের ঘটনায় তাঁরা শঙ্কিত। গত শুক্রবার রাত থেকে তিনি তাঁর ইউনিয়নের ১ ও ২ নম্বর ওয়ার্ডে পাহারার ব্যবস্থা করেছেন। স্থানীয় বাসিন্দা, জনপ্রতিনিধিসহ গ্রাম পুলিশ সদস্যদের সমন্বয়ে পালাক্রমে পাহারার কাজ চলবে। মূলঘর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবাদুল মান্নান জানান, তাঁরাও গত শুক্রবার রাত থেকে পাহারা দিচ্ছেন। এলাকার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে গত শুক্রবার বিকেলে ইউপি কার্যালয়ে ইউনিয়নের ৯টি ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ও গ্রাম পুলিশ সদস্যদের নিয়ে জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ওই সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রতি ওয়ার্ডের নির্বাচিত সদস্যদের নেতৃত্বে পাঁচজন করে পাহারাদার ও গ্রাম পুলিশের সদস্যরা রাত জেগে পাহারা দেবে। বাণিবহ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শেখ গোলাম মোস্তফা বাচ্চু জানান, বাণিবহ বাজারের ১২ জন পাহারাদার এবং জনপ্রতিনিধি ও গ্রাম পুলিশ সদস্যদের সতর্ক করা হয়েছে। জনসচেতনতা বাড়াতে এলাকায় মাইকিংয়েরও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এদিকে গত শনিবারও রাজবাড়ী থানায় নিহত হাজেরা বেগমের আহত পুত্রবধূ স্বপ্না বেগমকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদে স্বপ্না জানান, বৃহস্পতিবার রাতে খাবার খেয়ে তিনি তাঁর একমাত্র শিশু ছেলে সানি সেখ (৪) ও শাশুড়িকে নিয়ে নিজের ঘরে ঘুমিয়ে ছিলেন। রাত সাড়ে ১১টার দিকে ঘুম ভেঙে ঘরের আলো নেভানো পান এবং পাশে হাত দিয়ে ঠাণ্ডা কিছুর অস্তিত্ব অনুভব করে আতঙ্কিত হয়ে চিৎকার দিয়ে ওঠেন। তাঁর চিৎকারে একই ঘরের অন্য পাশে থাকা শ্বশুর তমিজ উদ্দিন সেখসহ পরিবারের অন্য সদস্যরা ছুটে আসেন। তাঁরা লাইট জ্বালিয়ে দেখেন খাটের ওপর শাশুড়ির (হাজেরা বেগম) গলা কাটা লাশ।এ ছাড়া গত ২ ও ৭ আগস্ট রাতে পাশাপাশি আরো দুই ইউনিয়নে দুটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

রাজবাড়ী থানার ওসি তারিক কামাল বলেন, হাজেরা বেগম হত্যার ঘটনায় তাঁর স্বামী বাদী হয়ে অজ্ঞাতপরিচয় আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। যদিও হাজেরার আহত পুত্রবধূ স্বপ্নাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তবে এখনো পর্যন্ত এ হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে উল্লেখ করার মতো কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে দাদি-নাতনি ও গৃহবধূ লিমা হত্যার ঘটনায় ইতিমধ্যে ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ওই দুই মামলার অগ্রগতিও হয়েছে বলে জানান ওসি।



মন্তব্য