kalerkantho


বাগেরহাটে কলেজছাত্রের লাশ উদ্ধার ডোবা থেকে

স্কুলপড়ুয়া দুই বন্ধু আটক

বাগেরহাট প্রতিনিধি   

২০ আগস্ট, ২০১৮ ০০:০০



বাগেরহাটের চিতলমারীতে ছয় দিন ধরে নিখোঁজ সবুজ বিশ্বাস (১৭) নামের এক কলেজছাত্রের লাশ ডোবা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। গতকাল রবিবার দুপুরে হাত-পা বাঁধা কাঁথায় মোড়ানো অবস্থায় তার লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় সবুজের স্কুলে পড়া দুই বন্ধুকে আটক করা হয়। এ ঘটনার সঙ্গে তারা নিজেদের সম্পৃক্ততা থাকার কথা স্বীকার করেছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

নিহত সবুজ বিশ্বাস বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলার হিজলা ইউনিয়নের শিবপুর কাটাখালী গ্রামের কৃষক পরিতোষ বিশ্বাসের ছেলে। সে চিতলমারী শেরেবাংলা ডিগ্রি কলেজের একাদশ শ্রেণির কারিগরি শাখার ছাত্র ছিল।

চিতলমারী থানার ওসি অনুকূল চন্দ্র সরকার জানান, কলেজে পড়লেও স্কুলে পড়া সাব্বির ও লিমনের সঙ্গে সবুজের বন্ধুত্ব ছিল। তিন মাস আগে সিগারেট খাওয়া নিয়ে সবুজের সঙ্গে লিমনের বিরোধ দেখা দেয়। এর জের ধরে লিমনের হাতে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপ দেয় সবুজ। এ ছাড়া কিছুদিন আগে এক স্কুলছাত্রীকে একটি কোচিং সেন্টারে নিয়ে কথা বলছিল সাব্বির। সবুজ স্কুলে গিয়ে বিষয়টি শিক্ষকদের জানায়। পরে সাব্বির ও লিমনকে স্কুল থেকে টিসি দিয়ে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় সবুজের ওপর ক্ষিপ্ত হয় ওই দুজন।

ওসি আরো জানান, গত ১৩ আগস্ট বিকেলে সবুজের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় পরদিন থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়। পরে পুলিশ খোঁজ নিয়ে তার দুই বন্ধুকে আটক করে। তারা এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে।

আটক দশম শ্রেণির ছাত্র সিব্বির খান ওরফে সাব্বির উপজেলার আড়ুয়াবর্ণি চরপাড়া গ্রামের আব্দুস সালামের ছেলে আর নবম শ্রেণির ছাত্র মো. লিমন খান একই গ্রামের হাসমত আলী খানের ছেলে। তারা দুজনই চিতলমারীর এস এম মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ছাত্র ছিল।

সবুজের কৃষক বাবা পরিতোষ বিশ্বাস বলেন, দুই ছেলে-মেয়ের মধ্যে মেয়ের বিয়ে হয়েছে কয়েক বছর আগে। একমাত্র ছেলে উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে জীবনে প্রতিষ্ঠিত হবে এমন স্বপ্ন ছিল। কিন্তু ওরা সে স্বপ্ন ভেঙে চুরমার করে দিয়েছে।

সবুজের মা পূরবী বিশ্বাস বলেন, ‘ছেলে আমাকে আর মা বলে ডাকবে না। ওরা আমার বুকের ধন কেড়ে নিয়েছে। ছেলেকে যারা হত্যা করেছে, আমি তাদের ফাঁসি চাই।’

সবুজের চাচা স্কুল শিক্ষক সন্তোষ কুমার বিশ্বাস জানান, ১৩ আগস্ট বিকেলে মোটরসাইকেল নিয়ে ওবায়দুল নামের এক প্রতিবেশীর সঙ্গে সবুজ বাড়ি থেকে বের হয়। এরপর থেকে তাকে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি। পরদিন সবুজের বাবা এ ব্যাপারে থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন। তিন দিন পর মোবাইলে ফোন করে মুক্তিপণ হিসেবে ৯০ হাজার টাকা দাবি করা হয়। বিকাশের মাধ্যমে ওই টাকা পরিশোধের কথা বলে তারা। এ সময় সবুজের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে অন্য প্রান্ত থেকে ফোনের সংযোগ কেটে দেওয়া হয়।

প্রতিবেশী আকবর আলী জানান, সবুজ অনেক ভালো ছেলে ছিল। তাকে যারা হত্যা করেছে, তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া প্রয়োজন।

সবুজের সহপাঠী পার্থ দাস বলে, ‘সবুজ সব সময় অন্যায়ের প্রতিবাদ করত। সবুজের হত্যাকারী যে বা যারাই হোক, তাদের বিচারের দাবি জানাই।’

বাগেরহাট সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শাহাদ হোসেন জানান, মোবাইল ফোন ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে পুলিশ আজ (রবিবার) ভোরে গোপালগঞ্জ থেকে লিমন ও সাব্বিরকে আটক করে। পরে তাদের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী চিতলমারী সদরের একটি ডোবা থেকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় সবুজের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। আটক দুজনকে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ করছে। ওই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে আরো কেউ জড়িত কি না তা জানার চেষ্টা করা হচ্ছে। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।



মন্তব্য