kalerkantho


খুচরা বাজারে মসলার দাম পাইকারির দ্বিগুণ!

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২০ আগস্ট, ২০১৮ ০০:০০



খুচরা বাজারে মসলার দাম পাইকারির দ্বিগুণ!

৫০ গ্রাম সাদা এলাচ। দাম ১২৫ টাকা। ১০০ গ্রাম নিলে ২৫০ টাকা। কেজি পড়ে দুই হাজার ৫০০ টাকা। এটা রাজধানীর অলিগলিতে যেসব মুদি দোকানে মসলা পাওয়া যাচ্ছে সেগুলোর হিসাব। পরিমাণে আরো একটু বেশি নিলে এ খরচ সামান্য কম হবে। অথচ পাইকারি বাজারে এই পণ্য প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে এক হাজার ৫০০ থেকে এক হাজার ৬৫০ টাকা কেজি দরে। এভাবেই খুচরা বাজারে পাইকারির তুলনায় মসলার দাম প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে কোরবানির ঈদ সামনে রেখে।

এবার একটি সুপারশপের হিসাব দেখা যেতে পারে। আগোরার সেগুনবাগিচা আউটলেটে গিয়ে দেখা গেছে, ৫০ গ্রামের একটি শাহি জিরার প্যাকেট বিক্রি হচ্ছে ৭৫ টাকায়। সে হিসাবে প্রতি কেজির দাম পড়ে এক হাজার ৫০০ টাকা। অথচ মৌলভীবাজারের পাইকারি দোকানগুলোতে সবচেয়ে ভালো মানের শাহি জিরা প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে সর্বোচ্চ ৭০০ টাকায়। অর্থাৎ কেজিতে লাভ ৮০০ টাকা!

এভাবেই প্রায় দ্বিগুণ লাভে রাজধানীর বাজারে বিক্রি হচ্ছে নানা পদের মসলা। কোরবানির ঈদ সামনে রেখে এভাবেই ভোক্তাদের পকেট কাটা হচ্ছে।

কোরবানির ঈদে সবচেয়ে প্রয়োজনীয় মসলার মধ্যে আছে আদা। ঈদ সামনে রেখে আদার দামও বেড়ে গেছে। রাষ্ট্রায়ত্ত বিপণন সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের তথ্যানুযায়ী গত এক মাসের ব্যবধানে দেশি ও আমদানি করা আদার দাম বেড়েছে ২৬ শতাংশ। দেশি আদা ৭০ টাকা থেকে বেড়ে ১২০-১৩০ টাকা কেজি এবং আমদানি করা আদা ৯০-১০০ টাকা থেকে বেড়ে এখন বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ১৪০-১৫০ টাকা কেজি। প্রায় একইভাবে বেড়েছে রসুনের দাম। প্রতি কেজি দেশি রসুন ৭০-৮০ টাকা কেজি এবং আমদানি করা রসুন ৯০-১১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে মাস দেড়েক সময় ধরে পেঁয়াজের দাম বর্ধিত মূল্যে স্থিতিশীল অবস্থায় রয়েছে। প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ ৬০ টাকা এবং আমদানি করা ভারতীয় পেঁয়াজ ৪০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা গেছে।

অবশ্য যুক্তি আছে খুচরা বিক্রেতাদেরও। তারা বলে, পাইকারি বাজার থেকে কেনা এক কেজি জিরা বিক্রি করতে হয় ১০ জন বা তারও বেশি ক্রেতার কাছে। সেগুনবাগিচা কাঁচা বাজারের দোতলায় রয়েছে আল-আমিন ট্রেডার্স। এই দোকানের বিক্রেতা মামুন রশিদ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘মসলাগুলো সব সময় বিক্রি হয় না। অনেকে নিলেও খুবই কম পরিমাণে। ঈদের আগে অগে সবাই বেশি মসলা কেনে। আমরা দামি মসলাগুলো ৫০-১০০ গ্রামের বেশি খুব কমই বিক্রি করতে পারি। কম কম করে বিক্রি করলে এক কেজি মসলা বিক্রিতে অনেক সময় লেগে যায়। এ কারণে দামও বেশি নিতে হয়।’

তবে পাড়ার দোকানগুলোর তুলনায় তুলনামূলক কম দামে মসলা বিক্রি হয় কারওয়ান বাজারের মতো দ্বিতীয় ধাপের পাইকারি বাজারগুলোতে। যে সাদা এলাচি খুচরা বাজারে প্রতি ১০০ গ্রাম ২৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে সেটি এই বাজারে অন্তত ৫০ টাকা কমে পাওয়া যাচ্ছে। সাধারণ মানের জিরা খুচরা দোকানগুলোতে এখন প্রতি ১০০ গ্রাম বিক্রি হচ্ছে ৬০-৬৫ টাকায়, যা কারওয়ান বাজারে পাওয়া যাচ্ছে ৪০-৪৫ টাকায়। কারওয়ান বাজার কিচেন মার্কেটের পেছনে অবস্থিত জব্বার স্টোরের বিক্রেতা আল-আমিন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘মসলা একটা স্লো আইটেম। মানুষ কিনেও কম কম করে। এ কারণে দামও বেশি পড়ে।’ তবে যিনি ৫০ গ্রাম মসলা নেন, আর যিনি আধাকেজি বা এক কেজি মসলা নেন তার দামের মধ্যে বিস্তর পার্থক্য থাকে বলে জানান তিনি।

এ অবস্থা ক্রেতারা অনেকটা মেনেই নিয়েছে। কারওয়ান বাজারে মসলা কিনতে আসা ক্রেতা নামজুল হোসাইন বলেন, ‘উৎসবের আগে জিনিসপত্র চড়া দামে বিক্রি হবে, এ আর নতুন কী? কষ্ট হলেও কিনতে হয়।’ 

রাজধানীর খুচরা বাজারগুলো ঘুরে দেখা গেছে, সাত দিনের ব্যবধানেই অনেক চড়েছে মসলার বাজার। ৫০ গ্রাম ও ১০০ গ্রামের দামের হিসাব ধরে দেখা গেছে, প্রতি কেজি কালো গোলমরিচ ১৭০০-১৭৫০ টাকা, পোস্তদানা ১৫০০, পেস্তা বাদাম ১৫০০, কাঠবাদাম ১৩৫০-১৪০০, কাজু বাদাম ১৫২০-১৫৫০, জয়ত্রি ২৯৫০-৩০০০, পাঁচফোড়ন ৩০০-৪০০, কিশমিশ ৮০০-৮২০, দারুচিনি ৬০০-৬৫০, আলু বোখারা ৯০০-১০০০ ও জায়ফল ১৫০০-১৫৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সব মসলাই পাইকারি বাজারের চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ দামে বিক্রি করতে দেখা গেছে।

মসলার বাজার নিয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ হোলসেল স্পাইসেস মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাংগঠনিক সম্পাদক ও মৌলভীবাজারের রুবেল ট্রেডিংয়ের মালিক মোহাম্মদ রুবেল কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এলাচ নিয়ে যে সমস্যা ছিল সেটা এখন নেই। আর পাইকারি বাজারে দাম বাড়েনি। এখন তো মসলা বিক্রি হচ্ছে না। আমরা আরো প্রায় ১০-১৫ দিন আগেই বিক্রি শেষ করেছি। দাম দ্বিগুণ হওয়ার মতো কোনো ঘটনা ঘটেনি।’

 



মন্তব্য