kalerkantho


শিবগঞ্জে প্রচণ্ড গরমে ২ দিনে ৫ জনের মৃত্যু

আঞ্চলিক প্রতিনিধি, চাঁপাইনবাবগঞ্জ   

২০ আগস্ট, ২০১৮ ০০:০০



শিবগঞ্জে প্রচণ্ড গরমে ২ দিনে ৫ জনের মৃত্যু

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলায় তীব্র গরমে দুই দিনে পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। হিটস্ট্রোকে নিহতরা হলেন শিবগঞ্জ পৌর এলাকার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের মর্দানা গ্রামের খুদু মণ্ডলের ছেলে মাছ ব্যবসায়ী শরিফুল ইসলাম (৩৯), ছত্রাজিতপুর ইউনিয়নের যুক্তরাধাকান্তপুরের জামাল উদ্দিন (৫১), পাঁকা ইউনিয়নের চরলক্ষ্মীপুরের আফসার আলীর ছেলে আবদুল মালেক (৪১), মোবারকপুর ইউনিয়নের ত্রিমোহনী বাজারের শামশুল হক (৬৯) ও উজিরপুর ইউনিয়নের নামোটোলার লোকমানের ছেলে ইফসুফ আলী (৪০)।

জানা গেছে, গত শনিবার মোবারকপুর ইউনিয়নে অগ্রণী ব্যাংকের শাখায় বয়স্ক ভাতার টাকা উত্তোলনের জন্য লাইনে দাঁড়ান ওই ইউনিয়নের বয়স্করা। একপর্যায়ে রোদের তাপ বৃদ্ধি পাওয়ায় ত্রিমোহনী বাজারের শামশুল হক লাইন থেকে ঢলে পড়ে যান। ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয় বলে মোবারকপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান তৌহিদুর রহমান মিঞা জানিয়েছেন।

এদিকে উজিরপুর ইউনিয়নের নামোটোলা গ্রামের ইফসুফ আলী শনিবার বিকেলে তর্তিপুর পশুর হাট থেকে কোরবানির গরু কিনে বাড়ি যাওয়ার পর হিটস্ট্রোকে মারা যান। তাঁর পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, তীব্র গরমের কারণে তিনি হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা যান। পৌর এলাকার মর্দানা গ্রামের শরিফুল ইসলাম শনিবার সকালে মাছ বিক্রি করে বাড়ি ফেরার পথে প্রচণ্ড গরমের কারণে মারা গেছেন বলে এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে। যুক্তরাধাকান্তপুরের জামাল উদ্দিন রবিবার সকাল সোয়া ৮টার দিকে হিটস্ট্রোকে মারা যান। পাঁকা ইউনিয়নের অসুস্থ আবদুল মালেক শনিবার দিবাগত রাতে প্রচণ্ড গরমে মারা যান বলে ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান জানিয়েছেন।

শিবগঞ্জে কয়েক দিন ধরে দুপুরের দিকে তাপমাত্রা ৩৮-৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস উঠে যায়। এতে মাঠে-ঘাটে কাজ করতে পারছে না কৃষক। প্রয়োজন ছাড়া মানুষ রাস্তায় বের হচ্ছে না। বিদ্যুৎ গ্রাহকরা জানায়, প্রচণ্ড এই গরমে বিদ্যুৎ বিভাগের লোড শেডিংয়ের মাত্রাও বৃদ্ধি পেয়েছে। কিছুদিন ধরে বৃষ্টিরও দেখা নেই। রবিবার দুপুরে দুই মিনিটের জন্য সামান্য বৃষ্টি হয়।

বিদ্যুৎ থাকছে না, রংপুরে হাতপাখাই ভরসা

আমাদের রংপুর অফিস জানায়, তীব্র দাবদাহে পুরো রংপুর অঞ্চল বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। ভাদ্র মাসের শুরুতে প্রচণ্ড রোদ আর ভাপসা গরমে দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে জনজীবন। এর ওপর বিদ্যুতের নাজুক অবস্থার কারণে নাকাল হয়ে পড়েছে এই অঞ্চলের মানুষ। এ কারণে শহরেও বেড়ে গেছে হাতপাখার কদর। গতকাল রবিবার রংপুরে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস; যা ছিল এই মৌসুমে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা।

গতকাল রংপুরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, প্রচণ্ড রোদে খাঁ খাঁ করছে চারদিক। রংপুর শহরে দুপুরবেলা ক্লান্ত-পরিশ্রান্ত রিকশাচালকদের লাইন ধরে গাছতলায় বিশ্রাম নিতে দেখা গেছে। শহরের ফুটপাতগুলোতে তালপাখাসহ বাঁশ, কাপড় ও সুতার তৈরি বিভিন্ন ধরনের হাতপাখা সাজিয়ে বসেছে ব্যবসায়ীরা। ১০ থেকে ২০ টাকায় এসব পাখার বড় ক্রেতা এখন শহরের বাসাবাড়ির লোকজন। শহরের কাচারিবাজার এলাকায় ফুটপাতে পাখা কেনার সময় নাছরিন আক্তার বলেন, ‘কদিন ধরে খুব গরম পড়ছে, বেশির ভাগ সময়ই বিদ্যুৎ থাকে না। হাতপাখা ছাড়া উপায় কি?’

রংপুরের সিভিল সার্জন ডা. আবু মো. জাকিরুল ইসলাম জানান, এমন আবহওয়ায় চর্মরোগসহ শ্বাসকষ্ট ও ডায়রিয়ার প্রাদুর্ভাব হওয়ার আশঙ্কা বেশি থাকে। শরীর থেকে ঘাম ঝরে মানুষ দুর্বল হয়ে পড়ে। তিনি এই বৈরী আবহাওয়ায় রোগবালাইয়ের হাত থেকে রক্ষা পেতে লবণ-পানি খাওয়াসহ সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন। রংপুর আবহাওয়া অফিস জানায়, গতকাল রংপুরে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা এই মৌসুমের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা।

এদিকে বড়পুকুরিয়ায় দেশের একমাত্র কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রটি কয়লাসংকটের কারণে গত ২২ জুলাই রাতে বন্ধ করে দেওয়া হয়। এতে এ অঞ্চলে লোড শেডিংয়ের মাত্রা আরো বেড়েছে। বিদ্যুৎ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কম্পানি লিমিটেডের (নেসকো) রংপুর অঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী শাহাদৎ হোসেন সরকার জানান, রংপুর বিভাগের আট জেলায় প্রতিদিন ৬৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুতের প্রয়োজন। এই চাহিদার বিপরীতে জাতীয় গ্রিড থেকে সরবরাহ পাওয়া যায় ৫০০ থেকে ৫৫০ মেগাওয়াট।

 



মন্তব্য