kalerkantho


মতবিনিময়সভায় বক্তারা

বিচার পেতে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে নারীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৯ আগস্ট, ২০১৮ ০০:০০



নারীদের জন্য বিচারব্যবস্থা বিষয়ক এক মতবিনিময়সভায় আলোচকরা বলেছেন, দেশে বিচার প্রাপ্তির ক্ষেত্রে নারীদের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হয়। কাঙ্ক্ষিত বিচার পায় না নারীরা। প্রতি ১০০ জনে ৯৮ জন নারীই বিচার পায় না। এ তথ্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক। নারীর জন্য দ্রুত ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে না পারলে দেশকে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়।

গতকাল শনিবার রাজধানীর ডেইলি স্টার ভবনের আজিমুর রহমান কনফারেন্স হলে ‘নারীদের জন্য বিচারব্যবস্থা : প্রেক্ষিত বাংলাদেশ’ শীর্ষক মতবিনিময়সভা অনুষ্ঠিত হয়। ‘আমরাই পারি পারিবারিক নির্যাতন প্রতিরোধ জোট’ আয়োজিত এ সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান কাজী রিয়াজুল হক।

আলোচনায় অংশ নেন জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ফরিদা ইয়াসমিন, ওমেন সাপোর্ট অ্যান্ড ইনভেস্টিগেশন ডিভিশনের ডেপুটি কমিশনার ফরিদা ইয়াসমিন, সাংবাদিক কুররাতুল আইন তাহমিনা ও ঢাকার পরিবেশ আদালতের বিচারক মো. শওকত হোসেন প্রমুখ। সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ নারী প্রগতি সংঘের নির্বাহী পরিচালক রোকেয়া কবির।

কাজী রিয়াজুল হক বলেন, বিচার পাওয়া প্রতিটি মানুষের মানবিক অধিকার। নারীরা বিচারব্যবস্থায় চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হচ্ছে এবং আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, কিন্তু কাঙ্ক্ষিত বিচার পাচ্ছে না। প্রতি ১০০ জনে ৯৮ জন বিচার পায় না। এ তথ্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক। বিচারকাজের সঙ্গে জড়িত সবার মানসিক পরিবর্তন অত্যন্ত জরুরি। ন্যায্য সমাজ গড়তে হলে নারীর ওপর নির্যাতন বন্ধ করতেই হবে। যত দিন বিচারহীনতার সংস্কৃতি বজায় থাকবে, বিচারিক দীর্ঘসূত্রতা দূর না হবে তত দিন মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠিত হবে না। এ নিয়ে সরকারের সঙ্গে আলোচনার কথা উল্লেখ করেন তিনি।

জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, রূপা ও রিশার মামলায় অপরাধী তেমন প্রভাবশালী নয়। তবু বিচারকার্যে ধীরগতি, দীর্ঘসূত্রতা। তিনি সাংবাদিকদের আরো দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান এবং পুলিশের ওপর ভরসা না করে সাংবাদিকদের নিজেদেরই তদন্ত করার পরামর্শ দেন।

রোকেয়া কবির বলেন, বিচারব্যবস্থা ও মনমানসিকতা পরিবর্তন করা সময়ের দাবি। নারীর জন্য আইনিব্যবস্থা, সুযোগ-সুবিধা, বিচারব্যবস্থা সমান হওয়া বাঞ্ছনীয়। আইনের শিক্ষার পরিবর্তনের বিষয়ে তিনি মতামত ব্যক্ত করেন।

 



মন্তব্য