kalerkantho


ফেসবুকে গুজব ছড়ানোর অভিযোগ

সবুজবাগ থেকে আরো একজনকে ধরল পুলিশ

সারা দেশে ৫২ মামলায় মোট ১০৩ জন গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৯ আগস্ট, ২০১৮ ০০:০০



সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে উসকানিমূলক পোস্ট দিয়ে গুজব ছাড়ানোর অভিযোগে রাজধানীতে আরো একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাঁর নাম খালেদ সাইফুল্লাহ (২৩)। গত শুক্রবার রাতে সবুজবাগ থানাধীন দক্ষিণগাঁও এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।

‘নিরাপদ সড়ক চাই’ আন্দোলনে সহিংসতা ও ফেসবুকে গুজব ছড়িয়ে উসকানি দেওয়ার অভিযোগে ঢাকা ও ঢাকার বাইরে এখন পর্যন্ত ১০৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। মামলা হয়েছে ৫২টি। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে পাঁচজন এখনো রিমান্ডে।

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সাইবার ক্রাইম ইউনিট সূত্রের দাবি, খালেদ সাইফুল্লাহকে দক্ষিণগাঁও বাজারের ইউসুফ বেকারির সামনে থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ আন্দোলনকে ভিন্ন দিকে নিয়ে দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর চেষ্টা করার কথা স্বীকার করেছেন। সাইফুল্লাহ সে লক্ষ্যে (ঝধরভঁষষধয ঘধযরফ) নামের তাঁর ফেসবুক আইডি থেকে মিথ্যা, অসত্য, বানোয়াট, উসকানিমূলক লেখা ও ভিডিও পোস্ট আপলোড করেন। এ ঘটনায় খালেদ সাইফুল্লাহকে আসামি করে রমনা মডেল থানায় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনে মামলা করা হয়। এ মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে গতকাল আদালতে সোপর্দ করা হয়। পুলিশের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করার পর তাঁকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার রাতে রাজধানীর পশ্চিম ধানমণ্ডির হাজী আফসার উদ্দিন সড়কের নিজ বাসা থেকে ফারিয়া মাহজাবিন (২৮) নামের এক নারীকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। তাঁকে তিন দিনের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ। এ ছাড়া রিমান্ডে আছেন নাজমুস সাকিব, আহমাদ হোসাইনসহ তিনজন। তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

গত ১৫ আগস্ট সিরাজগঞ্জের বেলকুচির ক্ষিদ্র চাপড়ির চর থেকে গুজব ছড়ানোর অভিযোগে কোটা সংস্কার আন্দোলনকারী বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক লুতফুন্নাহার লুমাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁকেও তিন দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়। গত ৪ আগস্ট রাতে গ্রেপ্তার করা হয় অভিনেত্রী ও মডেল কাজী নওশাবা আহমেদকে। দুই দফা রিমান্ডে নিয়ে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। একই অভিযোগে আলোকচিত্রী শহিদুল আলমকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে আরো আছেন ইস্ট ওয়েস্ট, ব্র্যাক, নর্থ সাউথ ও সাউথইস্ট ইউনিভার্সিটির ২২ শিক্ষার্থী। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে আরো আছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথিত কথোপকথনকারী মিনহানুর রহমান নাওমি, অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট মাহবুবুর রহমান আরমান, আলমগীর হোসেইন ও সাইদুল ইসলাম।

সংশ্লিষ্ট সূত্র আরো জানায়, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উসকানির অভিযোগ ছাড়াও নিরাপদ সড়ক আন্দোলনে সহিংসতার ঘটনায় এখন পর্যন্ত রাজধানীর রমনা বিভাগের ১৪টি মামলায় ৩১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। ১৪টি মামলার মধ্যে ১৩টির তদন্ত করছে সংশ্লিষ্ট থানার পুলিশ এবং একটি মামলা তদন্ত করছে পুলিশের গোয়েন্দা শাখা। এ ছাড়া লালবাগ বিভাগে অজ্ঞাতপরিচয় ৫০-৬০ জনকে আসামি করে একটি মামলা করা হয়। মামলায় একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ওয়ারী বিভাগে দুটি মামলায় অজ্ঞাতপরিচয় ৩৫০-৪৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে। এর মধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে একজনকে। মতিঝিল বিভাগে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে ছয়টি মামলা করা হয়েছে। এসব মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে ১০ জনকে। তেজগাঁও বিভাগে ছয়জনকে আসামি করে দায়ের করা দুটি মামলায় সবাইকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মিরপুর বিভাগে ৭০০-৮০০ জনকে আসামি করে পাঁচটি মামলা করা হয়েছে। গুলশান বিভাগে দুই-আড়াই হাজার জনকে আসামি করে ৯টি মামলা করা হয়েছে। এসব মামলায় ২৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। উত্তরা বিভাগে ২০০-২৫০ জনকে আসামি করে চারটি মামলা করা হয়েছে। গ্রেপ্তার করা হয়েছে তিনজনকে। এ ছাড়া খুলনায় গত বুধবার করা একটি মামলায় বৃহস্পতিবার রাতে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

উল্লখ্য, গত ২৯ জুলাই রাজধানীর কুর্মিটোলায় বাসচাপায় শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী দিয়া খানম মীম ও আবদুল করিম নিহত হয়। এরপর রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলন শুরু করে।

 

 



মন্তব্য