kalerkantho


রাজধানীতে সংঘবদ্ধ দুই চক্রের ১৬ জন গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৯ আগস্ট, ২০১৮ ০০:০০



রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে দুটি চক্রের ১৬ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত শুক্রবার ও গতকাল শনিবার পৃথক অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। এর মধ্য নিউ মার্কেট ও যাত্রাবাড়ী এলাকা থেকে সংঘবদ্ধ ছিনতাইকারীচক্রের আট সদস্যকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। গোয়েন্দা পুলিশ অভিযান চালিয়ে লালবাগ ও কামরাঙ্গীর চর এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে জাল নোট চক্রের আটজনকে।

যাত্রাবাড়ী এলাকায় গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিরা হলো সাজ্জাদ হোসেন ওরফে সাগর, আলী হাসান, সবুজ বিশ্বাস, মো. রকি ওরফে নুরুজ্জামান, মুক্তা বেগম, বেবি আক্তার, নুপুর ওরফে ঝুমুর ও লিটন মিয়া। তাদের কাছ থেকে আট লাখ টাকাও জব্দ করা হয়েছে। পুলিশের ভাষ্য, গ্রেপ্তারকৃতরা ছিনতাই করা টাকার একাংশ দিয়ে ‘কল্যাণ ফান্ড’ গঠন করে বিভিন্ন সময়ে মামলা চালানোর খরচ জোগায়। 

এ ছাড়া গোয়েন্দা পুলিশের উত্তর বিভাগ রাজধানীর লালবাগ ও কামরাঙ্গীর চর এলাকা থেকে ৭৫ লাখ টাকার জাল নোটসহ আরো আটজনকে গ্রেপ্তার করে। তারা হলো কাউসার হামিদ, আলাউদ্দিন, নজরুল ইসলাম, মোস্তফা, সোহেল, মজিবর রহমান বাদশা, সজিব হোসেন ও সালেহা বেগম। এ সময় তাদের কাছ থেকে কালি, কাগজ, প্রিন্টার ও জাল টাকা ছাপানোর বিভিন্ন যন্ত্রপাতি জব্দ করা হয়।

গতকাল দুপুর ১টার দিকে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার আবদুল বাতেন সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান।

ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার আবদুল বাতেন ব্রিফিংয়ে জানান, ছিনতাইকারীদের একটি ‘কল্যাণ ফান্ড’ রয়েছে। পুরুষ ছিনতাইকারীদের অনেকেই এর আগে গ্রেপ্তার হয়ে পাঁচ-ছয়বার করে জেলে গেছে। এ চক্রের নারী সদস্যরাও এর আগে দুইবার করে জেলে গিয়েছিল। তাদের মামলা চালানোর খরচ কমন ফান্ড থেকেই খরচ করা হতো।

ব্রিফিংয়ে বলা হয়, রাজধানীর বিভিন্ন মার্কেটে ভিড়ের সময় অমনোযোগী থাকা লোকজনের ব্যাগসহ মোবাইল নিয়ে যায় ছিনতাইকারীরা। অনেক সময় নারী ছিনতাইকারীরা ভালোভাবে সেজেগুজে মার্কেটগুলোতে যায়। সেখান থেকে টার্গেট করে পরে রাস্তায় ছিনতাই করে। দ্রুত ও নিরাপদে ঘটনাস্থল থেকে সরে যাওয়ার জন্য তারা একটি মাইক্রোবাস ব্যবহার করত। মাইক্রোবাসটিও ছিনতাইয়ের টাকায় কেনা বলে জানায় তারা।

ছিনতাইকারীচক্রের সদস্যরা প্রতিদিন যে টাকা ও মোবাইল ছিনতাই করত তার একটি মাসিক লিস্ট পাওয়ার দাবি করে আব্দুল বাতেন জানান, তালিকার তথ্য অনুযায়ী কোনো মাসে পাঁচ লাখ, কোনো মাসে ছয় লাখ, কোনো মাসে চার লাখ, আবার কোনো মাসে তিন লাখ ৭০ হাজার টাকা পাওয়া গেছে।

এ ছাড়া ব্রিফিংয়ে এক প্রশ্নের জবাবে আব্দুল বাতেন জানান, কোরবানির ঈদকে টার্গেট করে এরই মধ্যে ৪০ থেকে ৪৫ লাখ টাকা বাজারে ছেড়েছে জাল টাকার কারবারিরা। গরুর হাটকে কেন্দ্র করে এই টাকা চালানো হবে বলে তথ্য পাওয়া গেছে। তবে এই অপরাধীরা সুবিধা করতে পারবে না।

 



মন্তব্য