kalerkantho


বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ড প্রসঙ্গে কূটনীতিকদের আ. লীগ

মূল পরিকল্পনাকারীরা ধরাছোঁয়ার বাইরে

কূটনৈতিক প্রতিবেদক   

১৯ আগস্ট, ২০১৮ ০০:০০



জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হত্যার বিচার কার্যক্রম শেষ হলেও এখন পর্যন্ত হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারীদের বিচার হয়নি। আওয়ামী লীগের আন্তর্জাতিকবিষয়ক উপকমিটি আয়োজিত শোক দিবসের আলোচনায় দলের নেতা আইনমন্ত্রী আনিসুল হক ও সংসদ সদস্য ফজলে নূর তাপস এ কথা বলেন। আলোচনাসভায় বিভিন্ন দেশের প্রায় ৫০ জন কূটনীতিক উপস্থিত ছিলেন।

গতকাল শনিবার ঢাকায় ধানমণ্ডির ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু জাদুঘর মিলনায়তনে এই আলোচনাসভা হয়।

বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার প্রধান প্রসিকিউটর ছিলেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। তিনি বলেন, জাতির পিতাকে হত্যা করার পর আইন করে সেই হত্যার বিচার কার্যক্রম বন্ধ রাখার ব্যবস্থা করা হয়। ১৯৭৫ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর খন্দকার মোশতাক আহমদ ‘ইনডিমিনিটি বিলে’ স্বাক্ষর করেন। তারপর জিয়াউর রহমান ক্ষমতা নিলেও ওই আইন বাতিল করেননি। শুধু তাই নয়, জিয়াউর রহমানের পর এরশাদ এবং ১৯৯০ সালে বিএনপি আবার ক্ষমতায় আসার পরও এই কালো আইন বাতিল করেনি। বরং ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর এই আইন বাতিল হয় এবং মামলার কার্যক্রম শেষ হয়।

আনিসুল হক বলেন, ‘মামলা নিয়ে বিচারকদের বিব্রতবোধের বিড়ম্বনার পাশাপাশি তথ্য ও দলিলাদি সংগ্রহ করতে আমাদের অনেক কষ্ট করতে হয়েছে। শেষ পর্যন্ত বঙ্গবন্ধু ও তাঁর পরিবারকে সরাসরি হত্যাকারীদের আমরা বিচারের আওতায় আনতে পেরেছি। কিন্তু ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে গেছে মূল পরিকল্পনাকারীরা।’ তিনি আরো বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু হত্যায় জিয়াউর রহমানের সংশ্লিষ্টতা এখন বেশ স্পষ্ট। তাই আমি মনে করি, আদালতে বিচার কার্যক্রম শেষ হলেও এখন পর্যন্ত হত্যার মূল পরিকল্পনাকারীদের বিচার হয়নি।’

সংসদ সদস্য ফজলে নূর তাপস ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট তাঁর বাবা শেখ ফজলুল হক মনি ও মা আরজু মনি হত্যাকাণ্ডের কথা স্মরণ করে বলেন, ‘আমার বয়স তখন মাত্র তিন বছর ৯ মাস। মা-বাবার সঙ্গে কোনো সুখস্মৃতি আমার মনে নেই। শুধু মনে আছে মেঝেতে রক্তাক্ত পড়ে থাকা আমার বাবার লাশ এবং মেঝেজুড়ে ছড়িয়ে থাকা রক্তের কথা।’

মা-বাবাকে হারানোর পর তাঁকে নিয়ে তাঁর বড় ভাইয়ের অবর্ণনীয় কষ্টের কথা উল্লেখ করে তাপস  আরো বলেন, ‘এটা বড় কষ্ট ছিল না। সবচেয়ে বড় কষ্ট ছিল হত্যাকারীদের বিচার করতে না পারা। আর তার থেকেও বড় কষ্ট ছিল বঙ্গবন্ধু ও আমার বাবাকে নিয়ে চালানো প্রপাগান্ডা।’ ১৯ নভেম্বর নিজের জন্মদিনের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই দিনে বঙ্গবন্ধু ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের হত্যাকারীদের বিরুদ্ধে পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়। এটি ছিল তাঁর জন্য সবচেয়ে বড় জন্মদিনের উপহার।

তাপস বিদেশি কূটনীতিকদের উদ্দেশে বলেন, আত্মস্বীকৃত খুনিরা জানিয়েছে যে জিয়াউর রহমানের সঙ্গে দেখা করে ‘ক্যু’ এর কথা জানানো হয় এবং উত্তরে জিয়া বলেন, ‘গো অ্যাহেড’ (এগিয়ে যাও)। তিনি প্রশ্ন করে বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, এমনকি ভারতেও কোনো সেনা কর্মকর্তার এমন মন্তব্যকে কী বলা হয়? এটা কি সরাসরি রাষ্ট্রদোহিতা নয়?’

তাপস বলেন, বিষয়টাকে এভাবেই বলা যে ‘আমি যেতে পারছি না, তোমরা কাজটি করে এসো’। এ ছাড়া বঙ্গবন্ধু হত্যায় জিয়াউর রহমানের সংশ্লিষ্টতা এখন স্পষ্ট। তিনি বলেন, ‘আমি কবরে যাওয়ার আগ পর্যন্ত বলে যাব, বঙ্গবন্ধু ও আমার পরিবার হত্যায় সরাসরি জড়িত জিয়াউর রহমান ও খন্দকার মোশতাক।’

আলোচনাসভায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ওপর জাপানি চলচ্চিত্রকারের নির্মিত একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। এর পাশাপাশি বঙ্গবন্ধুর আত্মস্বীকৃত খুনিদের সাক্ষাৎকার এবং এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের একটি সাক্ষাৎকার প্রদর্শন করা হয়।

সভায় আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কর্নেল (অব.) ফারুক খান ও আওয়ামী লীগের আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক ড. শাম্মী আহমেদও বক্তব্য দেন। দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ডা. দীপু মনি, চিফ হুইপ আ স ম ফিরোজ ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

আওয়ামী লীগের আন্তর্জাতিকবিষয়ক উপকমিটির সদস্য শাহ আলী ফরহাদের সঞ্চালনায় আলোচনাসভায় উপকমিটির সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন।



মন্তব্য