kalerkantho


কারিগরি ত্রুটির কারণে গতকাল শুক্রবার কালের কণ্ঠ’র নগর সংস্করণে তিনটি প্রতিবেদনের শেষ পৃষ্ঠায় প্রকাশিত অংশের সঙ্গে ভেতরের পৃষ্ঠায় প্রকাশিত জাম্পের অংশে গরমিল হয়ে গেছে। এই অনিচ্ছাকৃত ভুলের জন্য আমরা ক্ষমাপ্রার্থী। পাঠকদের সুবিধার্থে প্রতিবেদন তিনটি আজ আবার ছাপা হলো—

নির্দিষ্ট স্টপেজ ছাড়া থামবে না বাস

পুলিশ-মালিক সমিতি বৈঠকে সিদ্ধান্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৮ আগস্ট, ২০১৮ ০০:০০



ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে যেভাবে যানবাহনের সংখ্যা বাড়ছে, সেভাবে চালকের সংখ্যা অপ্রতুল। সংখ্যায় কম থাকায় চালকরা অতিরিক্ত ট্রিপ (ভাড়া) দিচ্ছে। চালকরা যাতে সহজভাবে লাইসেন্স পায় সেজন্য বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটিকে আরো আন্তরিক হতে হবে। চালকরা হালকা যানের লাইসেন্স দিয়ে যাতে ভারী যান চালাতে না পারে, সেদিকেও বিশেষ নজরদারি করা হবে। নির্দিষ্ট স্টপেজ ছাড়া অন্য কোথায়ও বাস দাঁড়াতে পারবে না। তা অমান্য করলে কঠোরভাবে আইন প্রয়োগ করা হবে। পরিবহন মালিকরা চালকদের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দিতে পারবে না।

গত বৃহস্পতিবার দুপুরে পুলিশ সদর দপ্তরে বাস মালিকদের সঙ্গে পুলিশের শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তাদের বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে পুলিশ সূত্র জানিয়েছে।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী, অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক (প্রশাসন) মোখলেসুর রহমান, ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া, ডিআইজি (ক্রাইম) ব্যারিস্টার মাহবুবুর রহমান, ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন, ডিআইজি (প্রশাসন) হাবিবুর রহমান, হাইওয়ে রেঞ্জের ডিআইজি আতিকুল ইসলাম ও বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক খন্দকার এনায়েত উল্লাহসহ অন্য নেতারা। বৈঠকে ঈদুল আজহা উপলক্ষে সড়ক ও মহাসড়কে নিরাপদ যানবাহন চলাচলের নিমিত্তে পুলিশ কর্তৃক গৃহীত ব্যবস্থা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোচনা করা হয়।

আইজিপি জাবেদ পাটোয়ারী বৈঠকে বলেন, অত্যন্ত সফলভাবে ট্রাফিক সপ্তাহ ২০১৮ এর কার্যক্রম শেষ হয়েছে। এ সময়ে দেশের মহাসড়কে আগের তুলনায় বেশির ভাগই শৃঙ্খলা ফিরে এসেছে। বিভিন্ন পরিবহন তথা গাড়ির চালক ও জনগণের মাঝে ড্রাইভিং লাইসেন্স, গাড়ির ফিটনেসসহ অন্যান্য কাগজপত্র সম্পর্কে অধিক সচেতনতা বৃদ্ধি পেয়েছে। সর্বোপরি ট্রাফিক সপ্তাহের কার্যক্রমে আপামর জনসাধারণের মনে রোড সেফটি সম্পর্কে একটি ধারণা সৃষ্টি হয়েছে।

বৈঠকে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক খন্দকার এনায়েত উল্লাহ বলেন, চালকরা বিআরটিএতে লাইসেন্স করতে গিয়ে নানাভাবে হয়রানির শিকার হচ্ছে। এ জন্য লাইসেন্স করা সহজ করতে হবে। দেশে যানবাহনের তুলনায় চালকের সংখ্যা অনেক কম। আরো পেশাদার চালক তৈরি করতে হবে। সড়ক নিয়ম-শৃঙ্খলার মধ্যে থাকতে হবে। এজন্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকেই বেশি এগিয়ে আসতে হবে। কেউ যদি ফিটনেসবিহীন গাড়ি চালানোর চেষ্টা করে তাহলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে। তবে কাগজপত্র পরীক্ষা-নিরীক্ষার নামে কাউকে হয়রানি করা যাবে না।

এনায়েত উল্লাহ বলেন, ‘বেশির ভাগই হয়েছে রেষারেষির কারণে। কে বেশি ট্রিপ দিতে পারবে সেদিকেই চালকরা প্রতিযোগিতায় নেমে যায়। এ জন্য আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, মাসিক ভিত্তিতেই চালকদের বেতন দেওয়া হবে। ট্রিপের ওপর কেউ বেতন দিলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ তাঁর বক্তব্যের সঙ্গে পুলিশ কর্মকর্তারাও একমত হন বলে ডিআইজি পদমর্যাদার এক কর্মকর্তা কালের কণ্ঠকে বলেন।

সূত্র জানায়, বৈঠকে আরো বেশ কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ঈদের আগে ও পরে ওই সব সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা হবে। সিদ্ধান্তগুলো হচ্ছে টার্মিনালে প্রবেশ ও বাহির পথগুলো যানজটমুক্ত রাখতে পর্যাপ্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন থাকবে। সড়ক ও মহাসড়কে পুলিশ সদস্য মোতায়েন থাকবে। টার্মিনাল থেকে বাস ছাড়ার আগে পরিবহন মালিক-শ্রমিক সংগঠনের সহায়তায় ড্রাইভিং লাইসেন্স এবং গাড়ির ফিটনেস সার্টিফিকেট পরীক্ষা করা হবে। গাড়ির গতি পর্যবেক্ষণ করা হবে। মোবাইল কোর্ট কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। বাস টার্মিনালে পরিবহন মালিক সমিতি কর্তৃক সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হবে। গাড়ির ছাদে বা ট্রাকে যাত্রী উঠানো যাবে না। বেপরোয়া বা প্রতিযোগিতামূলকভাবে গাড়ি চালানো যাবে না। হেল্পার বা অপ্রাপ্ত বয়স্ক চালক দিয়ে গাড়ি চালানো যাবে না, হাইড্রোলিক হর্ন ব্যবহার করা যাবে না, নির্ধারিত স্টেশন ছাড়া গাড়ি থামানো যাবে না, যত্রতত্র যাত্রী উঠানো-নামানো বন্ধ করতে হবে, যাত্রীদের সঙ্গে অশোভন ব্যবহার করা যাবে না, ড্রাইভারদের অতিরিক্ত সময় গাড়ি চালানো যাবে না, নির্ধারিত ভাড়ায় যাত্রী পরিবহন করতে হবে। এসব সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন না করলে কঠোর ব্যবস্থা নিতে পারবে বলে পুলিশ ও মালিকরা একমত হয়েছেন।

 

 



মন্তব্য