kalerkantho


ফেসবুকে গুজব উসকানি

গ্রেপ্তার ফারিয়া তিন দিনের রিমান্ডে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৮ আগস্ট, ২০১৮ ০০:০০



নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মধ্যে বিভ্রান্তিমূলক তথ্য ও গুজব ছড়িয়ে উসকানিমূলক পোস্ট ছড়ানোর অভিযোগে ফারিয়া মাহজাবিন নামে আরো এক শিক্ষার্থীকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব। গত বৃহস্পতিবার রাতে রাজধানীর হাজারীবাগ থানাধীন হাজি আফসার উদ্দীন রোডের একটি বাসা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এদিকে গতকাল বিকেলে ফারিয়া মাহজাবিনকে তথ্য-প্রযুক্তির এক মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিন দিনের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ। পুলিশের রিমান্ড আবেদনের শুনানি করে গতকাল শুক্রবার ঢাকার মহানগর হাকিম এ কে এম মাইনুদ্দীন এই রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

এর আগে গতকাল সকাল ১১টার দিকে র‌্যাব ফারিয়াকে হাজারীবাগ থানায় সোপর্দ করে তাঁর বিরুদ্ধে তথ্য-প্রযুক্তি আইনে ৫৭ ধারায় একটি মামলা দায়ের করে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মাজেদুর রহমান তাঁকে সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন করে আদালতে পাঠান। শুনানি শেষে বিচারক তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

র‌্যাব জানায়, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে র‌্যাব-২-এর একটি দল রাত পৌনে ১১টার দিকে অভিযান চালিয়ে ধানমণ্ডির ওই বাসায় অভিযান চালিয়ে ফারিয়া মাহজাবিনকে আটক করে। তাঁর কাছ থেকে একটি মোবাইল ফোনসেট, এক পাতা করে ফেসবুক আইডি প্রোফাইলের প্রিন্ট কপি ও অডিও ক্লিপের প্রিন্ট কপি জব্দ করা হয়। তাঁর বিরুদ্ধে নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে ফেসবুকে উসকানিমূলক পোস্ট ও গুজব ছড়ানোর অভিযোগ রয়েছে। রাজধানীর নর্থ ওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী ফারিয়া মাহজাবিন ধানমণ্ডিতে নার্ডি বিন কফি হাউস নামের একটি কফিশপ চালান।

ফারিয়ার তথ্যের ভিত্তিতে র‌্যাব-২ এর সহকারী পরিচালক রবিউল ইসলাম বলেন, ছাত্র আন্দোলনে ফেসবুকে উসকানিমূলক গুজব ছড়ানো, ছাত্র আন্দোলনকে ভিন্নদিকে প্রবাহিত করা, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি খারাপ করতে ফেসবুক আইডি ও মেসেঞ্জার থেকে বিভিন্ন স্ট্যাটাস, উসকানিমূলক মিথ্যা তথ্য ছড়ানো ভিডিও ক্লিপ পোস্ট করতেন তিনি। এসব তিনি ব্যক্তিগত মোবাইল ইন্টারনেট ব্যবহার করে করতেন।

এর আগে গত ৪ আগস্ট রাতে নিরাপদ সড়কের দাবিতে ফেসবুক লাইভে উসকানি ছড়ানোর অভিযোগে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনে মামলায় গ্রেপ্তার করা হয় অভিনেত্রী ও মডেল কাজী নওশাবা আহমেদকে। দুই দফা রিমান্ডে নিয়ে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। একই অভিযোগে আলোকচিত্রী শহিদুল আলমসহ শিক্ষার্থী ওয়ালিউল্লাহ, তৌহিদুল ইসলাম তুষার ও ইহসান উদ্দিন ইফাজ, নাজমুস সাকিব, আহমাদ হোসাইনসহ আরো অনেককে এর আগে গ্রেপ্তার করা হয়। এ ছাড়া ফেসবুকে গুজব ও সড়কে হট্টগোল ছড়ানোর অভিযোগে ইস্ট ওয়েস্ট, ব্র্যাক, নর্থ সাউথ ও সাউথইস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের ২২ শিক্ষার্থীকে আটক করে পুলিশ। গুজব রটানোর অভিযোগে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথোপকথনকারী মিলহানুর রাহমান নাওমি, অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট মাহবুবুর রহমান আরমান, আলমগীর হোসেইন ও সাইদুল ইসলামকে আটক করা হয়।

এদিকে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে গুজব ও বিভ্রান্তিমূলক তথ্য ছড়িয়ে ধ্বংসাত্মক কার্যক্রমের উসকানিদাতা হিসেবে ২৮টি ফেসবুক ও টুইটার আইডি শনাক্ত করেছে সাইবার ক্রাইম বিভাগ। তাদের বিরুদ্ধে গত ২ আগস্ট রাজধানীর রমনা থানায় এ মামলাটি দায়ের করা হয়।

গত ২৯ জুলাই রাজধানীর কুর্মিটোলায় বাসচাপায় শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী দিয়া খানম মীম ও আবদুল করিম নিহত হয়। এরপর রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলন শুরু করে। থানা পুলিশের পাশাপাশি ঢাকা মহানগর পুলিশের সাইবার ক্রাইম ইউনিট, গোয়েন্দা পুলিশ, র‌্যাব ও সিআইডি এসব ঘটনার তদন্ত করছে।

 



মন্তব্য