kalerkantho


জমতে শুরু করেছে ঢাকার কোরবানির হাট

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৮ আগস্ট, ২০১৮ ০০:০০



কোরবানির ঈদের আরো কয়েক দিন বাকি। এরই মধ্যে গতকাল শুক্রবার রাজধানীর কোরবানির পশুর হাটগুলোতে ক্রেতাদের আনাগোনা শুরু হয়েছে। ছুটির দিন থাকায় সকাল থেকেই ছিল উত্সুক ক্রেতাদের যথেষ্ট উপস্থিতি। তবে বিক্রি তেমন একটা হয়নি। বিক্রেতারা জানায়, সকাল থেকে অনেক ক্রেতা হাটে এসেছে, দরদামও করেছে, তবে কিনছে কম।

এবার কোরবানির পশুর হাটে দেশি গরুর পাশাপাশি বিদেশি গরুও চোখে পড়েছে। এরই মধ্যে রাজধানীতে ২৫টি কোরবানির পশুর হাটে পশুর উপস্থিতি দেখা গেছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পশু নিয়ে হাজির হতে শুরু করেছে বিক্রেতারা। এদিকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) ১৫টি ও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) ১০টি হাট রয়েছে। ডিএসসিসির ১৫টি হাটের মধ্যে সাতটি হাট ইজারা এবং আটটি হাটকে স্পট টেন্ডারের মাধ্যমে টোল আদায়ের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। ডিএনসিসির ১০টি হাটের মধ্যে একটি হলো গাবতলী স্থায়ী হাট।

কোরবানির পশুর কয়েকটি হাট ঘুরে দেখা গেছে, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পশু নিয়ে হাটে এরই মধ্যে হাজির হয়েছে বিক্রেতারা। শামিয়ানা টাঙিয়ে তারা পশুগুলোকে বেশ যত্নের সঙ্গে রেখেছে। ইজারাদারের পক্ষ থেকেও পাইকারদের জন্য নানা ব্যবস্থা করা হয়েছে। খাবার ও থাকার জায়গাও প্রস্তুত করেছে কেউ কেউ। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতাও চোখে পড়ার মতো। রয়েছে সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ ছাড়া হাটে জাল টাকা শনাক্ত করার মেশিনও বসানো হয়েছে। গতকাল ছুটির দিনে অনেক হাটে কিছু গরু বিক্রি হয়েছে বলেও জানায় বিক্রেতারা। এবার মাঝারি মানের গরুর চাহিদা একটু বেশি বলে জানায় বিক্রেতারা।

ডিএসসিসি সূত্র জানায়, মেরাদিয়া বাজার সংলগ্ন খালি জায়গাটি ৬৮ লাখ ৩০ হাজার টাকায় ইজারা পেয়েছেন ৩ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম। উত্তর শাহজাহানপুর খিলগাঁও রেলগেট বাজারের পেছনে মৈত্রী সংঘ মাঠের পশুর হাট ইজারা পেয়েছেন ১১ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুল লতিফ। তিনি আট লাখ ২০ হাজার টাকায় হাট ইজারা পেয়েছেন। জিগাতলা হাজারীবাগ মাঠ সংলগ্ন খালি জায়গা ইজারা পেয়েছেন  ডিএনসিসির ২২ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তরিকুল ইসলাম সজীবের ছোট ভাই জাহিদুল ইসলাম রাজীব। তিনি সরকারি মূল্য ৭১ লাখ ৪০ হাজার ৮৭৬ টাকার বিপরীতে এর দাম দিয়েছেন এক কোটি ১৫ লাখ টাকা। রহমতগঞ্জ খেলার মাঠ সংলগ্ন খালি জায়গাটি ইজারা পেয়েছেন রহমতগঞ্জ মুসলিম ফ্রেন্ডস সোসাইটির সহসভাপতি ও ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ সদস্য হাজি শফি মাহমুদ। এ হাটের দর উঠেছে ১১ লাখ সাত হাজার ১৫০ টাকা। কামরাঙ্গীর চর চেয়ারম্যানবাড়ির হাটের ইজারা পেয়েছেন থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল হোসেন সরকার। এ হাটের জন্য তিনটি দরপত্র কেনা হলেও জমা পড়েছে মাত্র একটি। এ হাটের দর উঠেছে পাঁচ লাখ ২০ হাজার টাকা। পোস্তগোলা শ্মশানঘাট লাগোয়া খালি জায়গা ইজারা পেয়েছেন মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান। এ হাটের দর উঠেছে ২৬ লাখ ৫০ হাজার টাকা। শ্যামপুর বালুর মাঠ ইজারা পেয়েছেন শেখ মাসুক রহমান। এ হাটের দর উঠেছে এক কোটি পাঁচ লাখ টাকা। এ ছাড়া ব্রাদার্স ইউনিয়নের পাশে বালুর মাঠ সংলগ্ন খালি জায়গা, কমলাপুর স্টেডিয়াম এলাকার আশপাশের খালি জায়গা, আরমানিটোলা খেলার মাঠ ও আশপাশের খালি জায়গা, ধুপখোলা ইস্ট অ্যান্ড ক্লাব মাঠ, দনিয়া কলেজ মাঠ সংলগ্ন খালি জায়গা এবং সাদেক হোসেন খোকা মাঠ সংলগ্ন ধোলাইখাল ট্রাক টার্মিনাল ও সংলগ্ন খালি জায়গার আটটি স্থানে স্পট টেন্ডারের মাধ্যমে রাজস্ব আদায়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

ডিএনসিসি মোট ১০টি হাট চূড়ান্ত করেছে। এর মধ্যে অস্থায়ী ৯টি আর গাবতলীতে রয়েছে স্থায়ী পশুর হাট। এ হাট বরাবরের মতো এবারও পেয়েছেন লুত্ফর রহমান। উত্তরা ১৫ নম্বর সেক্টরের ২ নম্বর সেতুর পশ্চিমের ফাঁকা জায়গা ইজারা পেয়েছেন মো. শফিকুল ইসলাম। তিনি এটির সরকারি মূল্য দুই কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৭৮ টাকার বিপরীতে দর দিয়েছেন দুই কোটি ২১ লাখ টাকা। তেজগাঁওয়ে ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট খেলার মাঠের পশুর হাট ইজারা দেওয়া হয়েছে মাসুদ হোসেনকে। এটি ৭৫ লাখ টাকায় ইজারা দেওয়া হয়েছে। খিলক্ষেত ৩০০ ফুট সড়ক সংলগ্ন উত্তর পাশের বসুন্ধরা হাউজিংয়ের খালি জায়গা ইজারা পেয়েছেন মো. ইসহাক মিয়া। এটির দর উঠেছে এক কোটি এক লাখ টাকা। ভাটারা (সাঈদনগর) হাট ইজারা পেয়েছেন মারফত আলী। এ হাটের সরকারি মূল্য ৫৫ লাখ ৩৪ হাজার ৯৬৭ টাকার বিপরীতে তিনি দর দিয়েছেন দুই কোটি ২৯ লাখ টাকা।

মোহাম্মদপুর বুদ্ধিজীবী সড়ক সংলগ্ন (বসিলা) পুলিশ লাইনসের জায়গার হাট পেয়েছেন মো. শাহ আলম হোসেন সজীব। এটি ৯০ লাখ টাকায় ইজারা হয়েছে। মিরপুর ৬ নম্বর সেকশনের ইস্টার্ন হাউজিংয়ের খালি জায়গার হাট পেয়েছেন আশরাফ উদ্দিন। এটি এক কোটি ৪৮ লাখ ৭১ হাজার ৭৮৬ টাকা দর উঠেছে। মিরপুরের ডিওএইচএস সংলগ্ন উত্তর পাশের খালি জায়গা পেয়েছেন মো. আবুল বাশার। এটি ২৫ লাখ ২০ হাজার ৭৮৬ টাকায় ইজারা দেওয়া হয়েছে। খিলক্ষেত বনরূপা আবাসিক প্রকল্পের খালি জায়গার হাটের ইজারা পেয়েছেন আনিছুর রহমান নাইম। এক কোটি ৫৬ লাখ ৮০ হাজার ৯৬৯ টাকায় এ হাট পেয়েছেন তিনি। উত্তরখান মৈনারটেক শহীদনগর হাউজিংয়ের খালি জায়গা ইজারা পেয়েছেন মো. আলমগীর হোসেন। ১০ লাখ ৬৫ হাজার টাকায় হাটটি তিনি ইজারা নিয়েছেন।

 



মন্তব্য