kalerkantho


হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা

পুরান ঢাকার ২২০০ ভবন ভাঙা যাবে না

রাজউককে কোনো নকশা অনুমোদন না দেওয়ার নির্দেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৭ আগস্ট, ২০১৮ ০০:০০



মোগল-ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক আমলে নির্মিত রাজধানীর পুরান ঢাকার দুই হাজার ২০০ ভবন ভাঙা এবং যেকোনো রকমের পরিবর্তন বা পরিবর্ধনের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন হাইকোর্ট। এসব বাড়ি বা স্থাপনার মালিকদের ওপর এ নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।

বিচারপতি তারিক উল হাকিম ও বিচারপতি মো. সোহরাওয়ার্দীর হাইকোর্ট বেঞ্চ সম্প্রতি এ আদেশ দেন। আরবান স্টাডি গ্রুপের (ইউএসজি) প্রধান নির্বাহী তাইমুর ইসলামের করা এক রিট আবেদনে এ আদেশ দেওয়া হয়। রিট আবেদনকারীর পক্ষে আইনজীবী ছিলেন আশিক আল জলিল। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আমাতুল করীম।

আদেশে বলা হয়, কোন কোন ভবন ঐতিহ্যবাহী ও সংরক্ষণ করা প্রয়োজন তার তালিকা চূড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত আরবান স্টাডি গ্রুপের খসড়া তালিকাভুক্ত ভবনে কোনো পরিবর্তন বা পরিবর্ধন করা যাবে না। তালিকাভুক্ত এসব বাড়ির ক্ষেত্রে কোনো বাড়ি বা স্থাপনা নির্মাণের নকশা অনুমোদন না দিতে রাজউককে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তালিকাভুক্ত এসব বাড়ি যথাযথ হয়েছে কি না, তা এক এক করে পরীক্ষার জন্য একটি উপদেষ্টা কমিটি করতে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ওই কমিটিকে কাজের অগ্রগতি প্রতিবেদন তিন মাস পর পর আদালতে দাখিল করতে হবে।

রিট আবেদনকারী তাইমুর ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, ঢাকা মহানগরীর ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা ও এলাকার তালিকা প্রণয়নের জন্য হেরিটেজ কমিটি করে সরকার। ওই কমিটির পক্ষ থেকে রাজউক প্রাথমিকভাবে ৯৪টি ভবন ও চারটি অঞ্চলের আওতায় ১৩টি সড়ককে সংরক্ষিত ঘোষণা করে গেজেট প্রকাশ করে। এই তালিকা চূড়ান্ত করতে একাধিক বৈঠক হয়েছে। কিন্তু ঐতিহ্যবাহী ভবন ভাঙা চলছেই। সরকার কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না। আরবান স্টাডি গ্রুপের পক্ষ থেকে ঢাকা মহানগরীর ঐতিহ্যবাহী স্থাপনার তালিকা চূড়ান্ত করার জন্য গত ৫ ডিসেম্বর প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে একটি চিঠি দেওয়া হয়। ওই চিঠির ভিত্তিতে হাইকোর্টে রিট আবেদন করা হয়।

২০১২ সালে সরকারের পক্ষ থেকে ঢাকা জেলা পরিষদ ভবনটি ভাঙার উদ্যোগ নিলে আরবান স্টাডি গ্রুপ হাইকোর্টে রিট আবেদন করে। এ আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্ট ঢাকা মহানগরীসহ সারা দেশের ঐতিহ্যবাহী স্থাপনার তালিকা তৈরি করতে সরকারকে নির্দেশ দেন। এরই মধ্যে রাজউক থেকে প্রাথমিকভাবে ৯৪টি ভবন ও চারটি অঞ্চলের আওতায় ১৩টি সড়ককে সংরক্ষিত ঘোষণা করে গেজেট প্রকাশ করে। এই রায়ের আলোকে ২০১৪ সালে গঠিত হেরিটেজ কমিটি গঠন করা হয়। হেরিটেজ কমিটি সভায় আরবান স্টাডি গ্রুপের করা তালিকার ভিত্তিতে পূর্ণাঙ্গ তালিকাটি প্রণয়নের সিদ্ধান্ত হয়। এই পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরির জন্য করা হয় একটি উপকমিটি। কমিটি দফায় দফায় বৈঠকে বসে। এরই মধ্যে আরবান স্টাডি গ্রুপ তাদের তালিকাটি সংশোধন করে কমিটিতে উপস্থাপন করে। এরপর ২০১৬ সালের মাঝামাঝি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর জন্য একটি খসড়া তালিকা করা হয়। তবে আরবান স্টাডি গ্রুপ তালিকা করার কাজ অব্যাহত রাখে। কিন্তু সর্বশেষ গত ২৯ নভেম্বর সরকারের পক্ষ থেকে মাত্র ৭৫টি ভবনের তালিকা প্রকাশ করে। এটা যথাযথ না হওয়ায় আপত্তি ওঠে। এরই ধারাবাহিকতায় আরবান স্টাডি গ্রুপ একটি খসড়া তালিকা করে। সেখানে দুই হাজার ২০০ বাড়ি স্থান পায়। এই তালিকা সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরে দেওয়া হয়। কিন্তু সরকার তেমন কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় একের পর এক বাড়ি ভেঙে ফেলা হচ্ছে। এ অবস্থায় নতুন করে রিট আবেদন করে আরবান স্টাডি গ্রুপ।



মন্তব্য