kalerkantho


ময়মনসিংহ

এতিম শিশুদের মাঝে ছেলেকে খুঁজে ফেরেন মিজানুর রহমান

নিয়ামুল কবীর সজল, ময়মনসিংহ   

১৬ আগস্ট, ২০১৮ ০০:০০



ময়মনসিংহের কৃষ্টপুর এলাকার বাসিন্দা মিজানুর রহমান (৫২) একসময় সাংবাদিকতা করতেন। পাশাপাশি জেলা আনসার অফিসের জনসংযোগ কর্মকর্তা হিসেবে চাকরি করেছেন। স্বামী-স্ত্রী মিলে দুটি স্কুলের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। কখনোই তেমন সঞ্চয় করেননি। এখন সাংবাদিকতা আর চাকরি দুটি থেকেই অবসরে রয়েছেন। সাধারণভাবেই জীবন চলছে। এর পরও মানবিক বোধ থেকে নিজের জীবনের সঙ্গে যুক্ত করেছেন আরো ১৮ এতিম শিশুকে। অনেক আগে একমাত্র সন্তানকে হারিয়েছেন তিনি। সেই থেকে এতিম শিশুদের মাঝে ছেলেকে খুঁজে ফেরেন। তাদের শিক্ষারও দায়িত্ব নিয়েছেন মিজানুর রহমান। এতিম ১৮ শিশু আর মাদরাসার শিশুদের নিয়ে এখন তাঁর প্রতিষ্ঠিত আৎ তাবীব ইসলামিয়া মাদরাসা ও এতিমখানায় মোট ৩৫টি শিশু রয়েছে। চাকরি না করায় নিজের জীবনই চলে কষ্টে। তার পরও ধারদেনা আর লোকজনের দান-সহায়তায় প্রতিষ্ঠানটি চালিয়ে নিচ্ছেন তিনি।

মিজানুর রহমান জানান, ২০১৪ সালের ২৯ জুন তাঁর একমাত্র ছেলে রফিক উদ্দিন তাবীব (৫) পুকুরে ডুবে মারা যায়। এরপর ছেলের শোকে কাতর হয়ে পড়েন তিনি। ছেলে মাদরাসায় পড়ত। ছেলের শোক কাটাতে এবং ছেলের আত্মার শান্তির জন্য তিনি পথ খুঁজতে থাকেন। ছেলে যেহেতু মাদরাসায় পড়ত, তাই প্রথমে চিন্তা করলেন একটি মাদরাসা করবেন। শহরের কেওয়াটখালী ঈদগাহ মাঠের পাশে রেলের কিছুটা জমি স্ত্রী নাছিমা খাতুনের নামে ২০০১ সালে লিজ নিয়েছিলেন তিনি। সেখানে শিশুদের পড়াতেন। চিন্তা করলেন স্কুলের পাশের ঘরেই চালু করবেন মাদরাসা। ২০১৫ সালে ছয় এতিম শিশু নিয়ে কার্যক্রম শুরু করেন। ২০১৬ সালে আরো ৯ মাদাসাছাত্র আসে। এভাবেই বাড়তে থাকে ছাত্রের সংখ্যা।

মিজানুর রহমান জানান, প্রতি মাসে সবার খাওয়াদাওয়ায় প্রায় ৬০ হাজার টাকা খরচ হয়। এ ছাড়া দুজন হুজুর, রন্ধনশিল্পীর বেতন ও বিদ্যুতের বিল মিলিয়ে প্রায় এক লাখ টাকা ব্যয় হয়। বিভিন্নজনের সাহায্যের পাশাপাশি নিজের চেষ্টায় এসব টাকা জোগাড় করেন। তিনি বলেন, কষ্ট করতে পছন্দ করেন তিনি। রিকশায় ওঠেন না। কারণ রিকশায় উঠলে ন্যূনতম ২০ টাকা ভাড়া লাগে। সেই ২০ টাকা এতিমখানায় ব্যয় করতে চেষ্টা করেন তিনি। মূলত দানের ওপরই চলছে এতিমখানাটি, যদিও সব সময় ঋণের বোঝা টানতে হয়। প্রতি মাসে গড়ে ৩০ হাজার থেকে ৪০ হাজার টাকা ঋণ করতে হয়। পরে কারো দান পেলে ঋণ শোধ করেন। কিন্তু ঋণ আর শেষ হয় না। গরিব ও অসহায় শিশুরা এখানে থাকা-খাওয়ার সুযোগ পায়, সেটাই বড় কথা বলে মনে করেন মিজানুর রহমান।



মন্তব্য