kalerkantho


ঈদ যাত্রার টিকিট নেই

ট্রেনের ছাদ বাম্পারে এবারও ঝুলবে যাত্রী

নূপুর দেব, চট্টগ্রাম   

১৬ আগস্ট, ২০১৮ ০০:০০



ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথে আন্ত নগর ট্রেন তূর্ণা চলাচল করে গড়ে ১৬টি বগি (কোচ) দিয়ে। ট্রেনটি প্রতিরাত ১১টায় চট্টগ্রাম থেকে ঢাকার উদ্দেশে এবং রাত সাড়ে ১১টায় ঢাকা থেকে চট্টগ্রামের উদ্দেশে ছেড়ে যায়। প্রতি ট্রেনে আসন রয়েছে ৬৬৮টি। ঈদুল আজহা সামনে রেখে যাত্রীর চাহিদার কথা মাথায় রেখে আগাম টিকিট বিক্রি শুরুর দিন গত ৮ আগস্ট থেকে উভয় ট্রেনে (তূর্ণা) আরো চারটি করে বগি অতিরিক্ত রাখা হয়। পাঁচ দিনের আগাম টিকিট বিক্রি গত ১২ আগস্ট শেষ হয়। এই ট্রেনে ঈদ যাত্রায় আগামী ১৭ থেকে ২১ আগস্ট প্রতিদিন ২০ বগিতে যাত্রীরা ভ্রমণ করবে।

আর এমন প্রস্তুতির মধ্যে আগামী ২০ আগস্ট রাতে ঢাকামুখী যাত্রীর চাপের কারণে এদিন আরো দুটি বগি সংযোজন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পূর্বাঞ্চল রেলওয়ে। গত সোমবার নেওয়া এই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আগামী ২০ আগস্ট রাত ১১টায় তূর্ণা চট্টগ্রাম রেলস্টেশন থেকে ঢাকার কমলাপুর রেলস্টেশনের উদ্দেশে ২২টি বগিতে হাজারো যাত্রী ভ্রমণের কথা রয়েছে।

শুধু তূর্ণা নয়, ঈদ উপলক্ষে পূর্বাঞ্চল রেলের ১৫ জোড়া (৩০টি) আন্ত নগর ট্রেন চলাচল করবে। এসব ট্রেনের একেকটিতে এক থেকে চারটি পর্যন্ত অতিরিক্ত বগি সংযোজন করা হয়। ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, ময়মনসিংহ, চাঁদপুরসহ বিভিন্ন গন্তব্যে এসব ট্রেন আসা-যাওয়া করবে। ট্রেনগুলোতে সাধারণত প্রতিদিন গড়ে মোট আসন থাকে ২১ হাজার থেকে ২২ হাজার। অতিরিক্ত বগিতে আসনের ব্যবস্থা থাকছে তিন হাজারের বেশি।

রেলওয়ের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রতিবছর দুই ঈদে অতিরিক্ত বগি সংযোজন করার কথা বলা হলেও তা অনেকটাই ‘আইওয়াশ’। সাধারণত ট্রেনগুলো নিয়মিত যে যাত্রী নিয়ে চলে সমানসংখ্যক বগি দিয়েই ঈদে যাত্রী পরিবহন করা হয়ে থাকে। ঈদের এক মাস আগে থেকে চট্টগ্রামের পাহাড়তলী কারখানা থেকে মেরামত করে বর্তমানে যে বগিগুলোতে যাত্রী ভ্রমণ করা হচ্ছে সেগুলোও ঈদের অতিরিক্ত বগি ধরা হচ্ছে। প্রতিদিনই বাড়ছে জনসংখ্যা। ঈদে প্রতিবারই যাত্রীর অস্বাভাবিক চাপ থাকে। আন্ত নগর ট্রেনের ভ্রমণের ১০ দিন আগে আগাম টিকিট সংগ্রহ করতে হুড়োহুড়ি হয়। টিকিট না পেয়ে অগণিত মানুষ হতাশ হয়ে স্টেশন ছাড়ে। কিন্তু ঈদ উপলক্ষে প্রয়োজনীয় টিকিট নেই। সরকারি এই বাহনের ব্যাপক চাহিদা থাকলেও যেন তার সিকি ভাগ টিকিটও রেলওয়ে সরবরাহ করতে পারছে না। আসনের চেয়ে বেশি যাত্রী যাবে স্ট্যান্ডিং (দাঁড়িয়ে) এবং ছাদ ও বাম্পারে।

পূর্বাঞ্চল রেলওয়ের মহাব্যবস্থাপক সৈয়দ ফারুক আহমেদ বলেন, ‘ঈদুল আজহার পাঁচ দিনের আগাম টিকিট বিক্রি শেষ হয়েছে। আগামী ১৭ আগস্ট থেকে ঈদ যাত্রা শুরু হবে। এদিন থেকে ২১ আগস্ট পর্যন্ত ট্রেনে যাত্রীসাধারণের ভ্রমণের সুবিধার্থে আমরা সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছি।’ তিনি বলেন, ‘আসলে ঈদে ট্রেনের টিকিটের চাহিদা অনেক। অনেকে লাইনে দাঁড়ানো অবস্থায় টিকিট বিক্রি শেষ হয়ে যায়। লাইনে আগে যারা থাকে তারা আগে টিকিট পায়। এবারের ঈদ উপলক্ষে পূর্বাঞ্চল রেলওয়েতে অতিরিক্ত ৭৫টি বগি সংযোজন করা হবে।’

চট্টগ্রাম বিভাগীয় বাণিজ্যিক কর্মকর্তা মিজানুর রহমান বলেন, ‘চট্টগ্রাম রেলস্টেশন থেকে গত ঈদুল আজহা উপলক্ষে আগাম টিকিট নিয়ে গড়ে প্রতিদিন ১৯ থেকে ২০ হাজার যাত্রী বিভিন্ন গন্তব্যে গেছে। আশা করছি, এবারের ঈদেও এ রকম যাত্রী চট্টগ্রাম থেকে যাবে। ট্রেনগুলোতে যাত্রী ভ্রমণের ধারণক্ষমতা প্রায় ২০ হাজার।’

চট্টগ্রাম রেলস্টেশনের ব্যবস্থাপক আবুল কালাম আজাদ বলেন, আগাম টিকিট সব বিক্রি হয়ে গেছে। ঈদ যাত্রায় পাঁচ দিনের মধ্যে প্রতিদিন চট্টগ্রাম থেকে ২৫টি ট্রেনে করে প্রায় ২০ হাজার যাত্রী দেশের বিভিন্ন গন্তব্যে যাবে। সব মিলিয়ে এবার লক্ষাধিক যাত্রী চট্টগ্রাম থেকে ট্রেনে করে বাড়ি যেতে পারে। ১৫ থেকে ২০ শতাংশের মতো যাত্রী স্ট্যান্ডিং থাকে।

 



মন্তব্য