kalerkantho


বৃক্ষমেলা

আমের নানা প্রজাতি নিয়ে আগ্রহ বেশি

শাহাদত হোসেন, শেকৃবি   

২৩ জুলাই, ২০১৮ ০০:০০



নানা জাতের গাছের চারায় সেজেছে এবারের বৃক্ষমেলা। রাজধানীর শেরেবাংলানগরে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রসংলগ্ন মাঠে বসেছে মাসব্যাপী এই আয়োজন। ‘সবুজে বাঁচি, সবুজ বাঁচাই, নগর-প্রাণ-প্রকৃতি সাজাই’ প্রতিপাদ্য নিয়ে বুধবার থেকে শুরু হয়েছে এই মেলা। এতে নানা প্রজাতির গাছের চারার পাশাপাশি স্থান পেয়েছে কাঠজাত বাহারি আসবাবপত্র ও শৌখিন পণ্যসামগ্রী, গাছের পরিচর্যায় ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি, ভেষজ নানা ওষুধ ও জৈব সার, দৈনন্দিন ব্যবহার্য নানা পণ্য ও রূপচর্চার সামগ্রী।

মেলায় ৭৫টি প্রতিষ্ঠানের ১০১টি সুসজ্জিত স্টল রয়েছে। এর মধ্যে ১৩টি স্টল সাতটি সরকারি প্রতিষ্ঠানের। বেসরকারি ৫৭টি সংস্থা ও ব্যক্তিমালিকানাধীন নার্সারির রয়েছে ৭৭টি স্টল। অবশিষ্ট ৯টি স্টল রয়েছে নন-নার্সারি ৯টি প্রতিষ্ঠানের, যেগুলোতে স্থান পেয়েছে কাঠ ও ছোট ছোট গাছ দিয়ে তৈরি ঘরের শোভা বর্ধনকারী চোখ জুড়ানো শোপিস। সরকারি প্রতিষ্ঠানের স্টলগুলোতে বিতরণ হচ্ছে পরিবেশ সংরক্ষণে নানা পরামর্শসংবলিত লিফলেট। এগুলোতে থাকছে গাছের সঠিক পরিচর্যা পদ্ধতি ও কাঠজাত পণ্যসামগ্রী অধিক টেকসই করার বিভিন্ন কৌশল।

মেলার প্রবেশপথ পেরোনোর সঙ্গে সঙ্গে চোখে পড়ে রং-বেরঙের ফলদ, ঔষধি ও সৌন্দর্য বর্ধনকারী কয়েক শ জাতের উদ্ভিদ। তবে মেলাজুড়ে রয়েছে ফলদ উদ্ভিদের আধিক্য। এসবের মধ্যে আম, আমড়া, পেয়ারা, বাতাবি লেবু, করমচা, আমলকী, চালতা, কামরাঙার মতো দেশি ফলের পাশাপাশি বিদেশি নানা জাতের ফলগাছের চারাও রয়েছে। আগতদের আগ্রহের কেন্দ্রে রয়েছে নানা জাতের আমের চারা। পালমা, কিউজাই, মহাচর্মা, সূর্য ডিম, তুতাবরি, দোকমাই, চোষাপুরি, উর্ষার মতো দৃষ্টিনন্দন আমের জাতগুলোই ক্রেতা-দর্শনার্থীদের টানছে বেশি।

রাজধানীর শ্যামলী থেকে আসা হেলালুজ্জামান কালের কণ্ঠকে বললেন, ‘এমন বাহারি সব আম একসঙ্গে দেখা যায় না। এমন রং ও আকার-আকৃতির আমও সচরাচর চোখে পড়ে না। আপেলের মতো দেখতে পালমা আকৃতির আম সবচেয়ে বেশি পছন্দ আমার।’

ফলদ, বনজ, ফুল ও ঔষধি গাছের পাশাপাশি দেশীয় বাজারের চাহিদা মাথায় রেখে শোভা বর্ধনকারী উদ্ভিদ রয়েছে মেলায়। এর মধ্যে বেশ কয়েক জাতের অর্কিডের বড় রকমের সংগ্রহ রয়েছে। মেলা ঘুরে দেখা গেছে, পাঁচ ধরনের জান্ডা অর্কিড, সাত ধরনের রেন্ডুবিয়াম অর্কিড ও চার ধরনের মাকার অর্কিডের পাশাপাশি অর্ধশতাধিক প্রজাতির ক্যাকটাস স্টলগুলোতে স্থান পেয়েছে। বনসাইয়ের স্টলগুলোতে দর্শনার্থীর ভিড় থাকলেও এখনো বিক্রি সেভাবে জমেনি বলে জানালেন দোকানিরা। কাশবন, আনন্দ, বরিশাল, ব্র্যাক নার্সারি, আশুলিয়া গার্ডেন সেন্টার ও গ্রিনল্যান্ড নার্সারিতে দেখা মিলেছে নানা আকার-আকৃতির পাঁচ শ থেকে সাড়ে চার লাখ টাকা দামের কয়েক শ বনসাইয়ের।

আয়োজক কর্তৃপক্ষ জানায়, আগামী ১৭ আগস্ট পর্যন্ত প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত মেলার দরজা খোলা থাকবে। টিকিট ছাড়াই যে কেউ মেলা পরিদর্শন ও কেনাকাটা করতে পারবে।

 



মন্তব্য