kalerkantho


জামিন জালিয়াতিতে জড়িত সুপ্রিম কোর্টের ৫ জন চিহ্নিত

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৩ জুলাই, ২০১৮ ০০:০০



জামিন জালিয়াতিতে জড়িত সুপ্রিম কোর্টের ৫ জন চিহ্নিত

বিশ হাজার পিস ইয়াবা জব্দের একটি মামলায় আসামির জাল জামিননামা তৈরির ঘটনায় পাঁচজনের সংশ্লিষ্টতা খুঁজে পেয়েছে সুপ্রিম কোর্টের তদন্ত কমিটি। হাইকোর্টের রেজিস্ট্রার গোলাম রব্বানীর নেতৃত্বে গঠিত সুপ্রিম কোর্টের অনুসন্ধান কমিটি এরই মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেছে। বিচারপতি শেখ আবদুল আউয়ালের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। সংশ্লিষ্ট আদালতের সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আলী জিন্নাহ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

সূত্র জানায়, তদন্ত প্রতিবেদনে মূল অভিযুক্ত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে হাইকোর্ট বিভাগের ফৌজদারি শাখার এমএলএসএস মঞ্জু রানী কৈরীকে। এ ছাড়া প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. আবদুল বাসেদ ও মৌসুমী দেব এবং অফিস সহকারী মো. মনিরুজ্জামান মনি ও মো. মুজিবুর রহমানের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। জালিয়াতির ঘটনায় এ চারজনের পরোক্ষ সহযোগিতার অভিযোগ আনা হয়েছে। আরো চার কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ আনা হয়েছে প্রতিবেদনে।

পুলিশ গত বছর ৭ জানুয়ারি বিশ হাজার পিস ইয়াবাসহ মো. সেলিম উদ্দিন, মো. রফিক, শিরিন সুলতানা আঁখি, আপন মজুমদার ও দিপক দাস নামের পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে। চট্টগ্রামের বায়েজিদ বোস্তামী থানায় এ ঘটনায় মামলা হয়। বর্তমানে মামলাটি চট্টগ্রামের পঞ্চম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতে বিচারাধীন। মামলার আসামি মো. রফিক হাইকোর্টে জামিন আবেদন করলে গত ২৫ জানুয়ারি শুনানি হয়। শুনানিকালে রফিকের আইনজীবী আদালতকে জানান, আরেক আসামি মো. সেলিম উদ্দিন এই আদালত থেকে জামিন নিয়েছে।

জামিন নিয়ে সন্দেহ থাকায় আদালত আগের আদেশের কপি দাখিলের নির্দেশ দেন। নির্ধারিত দিনে তা দাখিল হয়। কপিতে দেখা যায়, গত বছর ১৩ ডিসেম্বর মো. সেলিমকে ছয় মাসের জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট। আদেশের কপিতে স্বাক্ষর দেখে তলব করা হয় সুপ্রিম কোর্টের সহকারী রেজিস্ট্রার বেগম সুলতানা, তত্ত্বাবধায়ক মোহাম্মদ আলী ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা মনিরকে। তাঁরা হাজির হয়ে এসব স্বাক্ষর তাঁদের নয় বলে জানান। এ অবস্থায় ঘটনাটি তদন্ত করতে সিআইডিকে নির্দেশ দেন আদালত। একই সঙ্গে জামিন জালিয়াতির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলকে নির্দেশ দেওয়া হয়। এরপর সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন ঘটনা তদন্ত করতে কমিটি গঠন করে।

তদন্ত শেষে আদালতে দাখিল করা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হাইকোর্ট বিভাগের ফৌজদারি শাখার কর্মচারী মঞ্জু রানী কৈরী জাল জামিন আদেশ প্রস্তুতে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছেন। তিনি ফৌজদারি বিবিধ শাখার প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. আবদুল বাসেদের টেবিলে রক্ষিত রেজিস্ট্রার খাতায় এ বিষয়ে এন্ট্রি  দিয়েছেন। দায়িত্বে না থাকার পরও মঞ্জু রানীর অনুরোধে সংশ্লিষ্ট মোশনের নাম্বারিং (জামিন আবেদন) এন্ট্রি করতে সংশ্লিষ্ট শাখার মুদ্রাক্ষরিক তথা অফিস সহকারী মো. মনিরুজ্জামান মনি, ড্রাফট ও কম্পেয়ার করার জন্য প্রশাসনিক কর্মকর্তা মৌসুমী দেব, জামিন আদেশ টাইপ করার জন্য অফিস সহকারী মো. মুজিবুর রহমান ও প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. আবদুল বাসেদ পরোক্ষভাবে সহযোগিতা করেছেন।

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, সহকারী রেজিস্ট্রার বেগম সুলতানা, তত্ত্বাবধায়ক (সুপারিনটেনডেন্ট) মো. মুজিবুর রহমান, রঞ্জন মণ্ডল ও মো. জালালউদ্দিন সংশ্লিষ্ট শাখার অধীনস্থ কর্মচারীদের মধ্যে যথাযথ দায়িত্ব বণ্টন ও তদারকির মাধ্যমে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছেন।

 



মন্তব্য