kalerkantho


বাকৃবির ৫৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে রাষ্ট্রপতি

খাদ্যশস্য উৎপাদনে বিশ্বে বাংলাদেশের দৃষ্টান্ত বিরল

বাকৃবি প্রতিনিধি   

২৩ জুলাই, ২০১৮ ০০:০০



খাদ্যশস্য উৎপাদনে বিশ্বে বাংলাদেশের দৃষ্টান্ত বিরল

রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ গতকাল ময়মনসিংহে শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন মিলনায়তনে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাফল্য ও গৌরবের ৫৭ বছর উদ্‌যাপন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন। ছবি : পিআইডি

বর্তমান সরকার নিরলস প্রচেষ্টায় জলবায়ু পরিবর্তনজনিত বৈরিতা মোকাবেলা করায় খাদ্যশস্য উৎপাদনে বাংলাদেশ আজ বিশ্বে বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। এর পেছনে শক্তি হিসেবে কাজ করে যাচ্ছেন এ দেশের কৃষি গ্র্যাজুয়েটরা। ধান, গম, ভুট্টা, মাছ, মাংস উৎপাদনে বিশ্বের অন্যান্য দেশের গড় উৎপাদনকে পেছনে ফেলে বাংলাদেশ অব্যাহতভাবে এগিয়ে চলছে। কৃষি ভর্তুকি, কৃষকের অনুকূলে সার, সেচ, বিদ্যুৎ, জ্বালানিতে সরকারের সহযোগিতার পাশাপাশি কৃষিবিদদের নিরলস প্রচেষ্টা এবং সরকারের বাস্তবমুখী ও সময়োপযোগী পদক্ষেপে এটি সম্ভব হয়েছে। গতকাল রবিবার শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন মিলনায়তনে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) সাফল্য ও গৌরবের ৫৭ বছর উদ্‌যাপন এবং হাওর ও চর ইনস্টিটিউটের ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনাসভায় রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘বর্তমান বিশ্বে বাংলাদেশ উন্নয়নের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় ও বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে সমুন্নত রেখে বর্তমান সরকার দেশের আর্থ-সামাজিক ক্ষেত্রে অসামান্য উন্নয়ন করে চলছে। এর ধারাবাহিকতায় রূপকল্প ২০২১ ও রূপকল্প ২০৪১ অনুসরণ করে বাংলাদেশ আজ উন্নয়নের মহাসড়কে এগিয়ে যাচ্ছে। আমাদের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন যুদ্ধে জয়ী হতে হবে।’

রাষ্ট্রপতি তাঁর বক্তব্যে আরো বলেন, ক্রমবর্ধিত জনসংখ্যা, জমির স্বল্প অনুপাত, জলবায়ু ও পরিবেশগত অবস্থা, অবকাঠামো ও বিভিন্ন স্থাপনার বিস্তৃতিতে কৃষিজমি উদ্বেগজনক হারে কমছে। ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভশীলতা, দুর্যোগ সহনশীল নানা জাতের ফসল উদ্ভাবনসহ বিভিন্ন সমস্যা মোকাবেলা করে বাংলাদেশের কৃষি উন্নয়নের ধারাকে এগিয়ে নিতে হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আলী আকবরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. জসিমউদ্দিন খান। অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অধ্যাপক ড. এম এ সাত্তার মন্ডল। অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে ছিলেন ধর্মমন্ত্রী অধ্যক্ষ মতিউর রহমান, বাকৃবি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি কৃষিবিদ মো. আবদুর রাজ্জাক, সাধারণ সম্পাদক কৃষিবিদ আব্দুল মান্নান ও নির্বাহী সম্পাদক কৃষিবিদ বদিউজ্জামান বাদশা।

পরে রাষ্ট্রপতি হাওর ও চর উন্নয়ন ইনস্টিটিউটের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন আয়োজিত প্রযুক্তি মেলা পরিদর্শন করেন।

পুড়ে ছাই অ্যালামনাই অনুষ্ঠানের প্যান্ডেল

এদিকে বাকৃবির ৫৭তম বছর পূর্তি ও অ্যালামনাই পুনর্মিলনী গতকাল রবিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন মাঠের প্যান্ডেলে হওয়ার কথা ছিল। ৩০ লাখ টাকা ব্যয়ে সাজানো হয়েছিল পুরো মাঠ। কিন্তু গত শনিবার মধ্যরাতে আকস্মিক অগ্নিকাণ্ডে অনুষ্ঠানস্থলের সব পুড়ে যায়। শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

অনুষ্ঠানস্থল পুড়ে যাওয়ার পর তাত্ক্ষণিক উপাচার্যের বাসভবনে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জরুরি সভা করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন মিলনায়তনে অনুষ্ঠানটি করার সিদ্ধান্ত নেয়।

জানা যায়, সমাবর্তন মাঠে পাঁচ হাজার লোকের আসনবিশিষ্ট একটি প্যান্ডেল ও মঞ্চ তৈরি করা হয়েছিল। গত শনিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে প্যান্ডেলের ওপর একজন হঠাৎ আগুনের ফুলকি দেখতে পান। কয়েক মিনিটের মধ্যে আগুন ভয়াবহ আকার ধারণ করে। ময়মনসিংহ ফায়ার সার্ভিসের সাতটি ইউনিট এক ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। প্যান্ডেলের চেয়ার, ফ্যান, সাউন্ড সিস্টেম, এলইডি স্ক্রিনসহ অন্যান্য সরঞ্জাম পুড়ে গেছে।

ময়মনসিংহ ফায়ার সার্ভিস এবং সিভিল ডিফেন্সের ভারপ্রাপ্ত উপপরিচালক সহিদুর রহমান বলেন, ‘আমরা ঘণ্টাব্যাপী চেষ্টা করে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনি।’

 



মন্তব্য