kalerkantho


হান্নান-মান্নান কাহিনি

মোখলেছুর রহমান মনির, ভালুকা (ময়মনসিংহ)   

২৩ জুলাই, ২০১৮ ০০:০০



হান্নান-মান্নান কাহিনি

বড় ভাই হান্নান, ছোট মান্নান। দুই যমজ। এক নারীকে নিয়ে তাঁদের সম্পর্কটা এখন সাপে-নেউলে। ওই এক নারীকেই স্ত্রী দাবি করে বসেছেন দুই ভাই। ব্যাপারটি এখন থানা-পুলিশ মাড়িয়ে আদালতের কাঠগড়ায়। ঘটনাটি ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার ভালুকা ইউনিয়নের বাশিল গ্রামের।

ঘটনার শুরুটা এভাবে—নিজের জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) না থাকায় ছোট ভাই মান্নানের নাম ও এনআইডি ব্যবহার করে মালয়েশিয়া পাড়ি জমান হান্নান। কিছুদিন আগে দেশে ফিরে হান্নান গত ১২ মার্চ চার লাখ টাকা দেনমোহরে গাজীপুরের শ্রীপুরের তালতলী গ্রামের মৃত আব্দুর রশিদের অনার্স পড়ুয়া মেয়ে তাসনিয়া জাহান রিপাকে বিয়ে করেন। আশ্চর্যের বিষয় হলো—ওই বিয়ের কাবিননামায়ও হান্নানের নাম মান্নান লেখা হয়। তবে আনুষ্ঠানিকতায় হান্নানের নাম উল্লেখ করেই শেষ করা হয় বিয়ের কাজ। বিয়ের পর স্ত্রীকে বাড়িতে রেখে গত ২০ মার্চ ফের মালয়েশিয়া যান রিপার স্বামী হান্নান। এদিকে হান্নান চলে যাওয়ার পর তাঁর সহোদর মান্নান রিপাকে উত্ত্যক্ত করতে থাকেন। মাসখানেক আগে ঘরে একা পেয়ে এবং কাবিনমূলে রিপাকে নিজের স্ত্রী দাবি করে অনৈতিক প্রস্তাব দেন মান্নান। এ সময় রিপার চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে এলে মান্নান পালিয়ে যান। পরে ঘটনাটি প্রবাসী স্বামী হান্নান এবং বাড়িতে থাকা শাশুড়িকে জানান রিপা। কিন্তু এ ব্যাপারে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে ছোট ছেলে মান্নানের পক্ষ নেন রিপার শাশুড়ি। পরে বিষয়টি জানতে পেরে রিপাকে ওই বাড়ি থেকে নিয়ে যায় তাঁর পরিবার। ঘটনাটি স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানকে জানানো হলে তিনি গত শনিবার উভয় পক্ষকে ইউনিয়ন পরিষদে উপস্থিত হওয়ার নোটিশ দেন। কিন্তু মান্নান চেয়ারম্যানের ডাকে সাড়া না দিয়ে উল্টো রিপাকে হুমকি দিতে থাকেন।

পরে ওই ঘটনায় গত শনিবার রাতে রিপা বাদী হয়ে ভালুকা মডেল থানায় মামলা করেন। ওই মামলায় হান্নান-মান্নান ছাড়াও তাঁদের বড় ভাই মনির ও মা আমেলা খাতুনকে আসামি করা হয়। মামলার পরপরই থানা পুলিশ আমেলা খাতুন ও তাঁর ছেলে মনিরকে গ্রেপ্তার করে। তাঁদের গতকাল রবিবার সকালে আদালতে পাঠানো হয়েছে। মান্নানকে এখনো গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।

তাসনিয়া জাহান রিপা বলেন, ‘হান্নানের সঙ্গে বিয়ে হওয়ার পর আমরা সুখে ছিলাম। ছুটি শেষে আমার স্বামী আবার বিদেশ চলে যান। এরপর আমার দেবর মান্নান আমাকে অনৈতিক প্রস্তাব দিতে থাকে। আমাদের বিয়ের কাবিনে স্বামীর নামের কলামে তার নাম উল্লেখ রয়েছে বলে জানায়।’

মালয়েশিয়াপ্রবাসী হান্নান মোবাইল ফোনে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান শিহাব আমীন খানকে বলেন, ‘জাতীয় পরিচয়পত্র না থাকায় তিনি যমজ ছোট ভাই মান্নানের এনআইডি ব্যবহার করে বিদেশে যান এবং স্ত্রীকে বিদেশে নেওয়ার সুবিধার্থে কাবিননামায়ও নিজের নামের স্থলে ছোট ভাইয়ের নাম ব্যবহার করেন। ছোট ভাই মান্নান তার স্ত্রীকে উত্ত্যক্ত করছে বলে তার স্ত্রী জানিয়েছে।’

অভিযুক্ত মান্নান বলেন, ‘নিকাহ্ রেজিস্ট্রিমূলে (কাবিন) রিপা আমার স্ত্রী। আমি আমার স্ত্রীর কাছে যাব—এটাই স্বাভাবিক। এতে কারো কিছু আসে যায় না।’

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান শিহাব আমীন খান বলেন, ‘হান্নানের স্ত্রী আমার কাছে বিচার চাইলে আমি অভিযুক্ত মান্নানকে ইউনিয়ন পরিষদে ডাকি। কিন্তু আমার ডাকে সে আসেনি। পরে ভালুকা মডেল থানার ওসির সঙ্গে কথা বলে মেয়েটিকে থানায় পাঠিয়ে দিয়েছি।’

ভালুকা মডেল থানার ওসি ফিরোজ তালুকদার জানান, ওই ঘটনায় মামলা হলে দুজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

 



মন্তব্য