kalerkantho


সিটি নির্বাচন বরিশাল

শের-ই-বাংলা মেডিক্যালের অধ্যক্ষ ও পরিচালককে ইসির শোকজ নোটিশ

কারণ দর্শাতে হবে নৌকা, ধানের শীষ ও হাতপাখার প্রার্থীদেরও

রফিকুল ইসলাম ও মঈনুল ইসলাম সবুজ, বরিশাল   

২৩ জুলাই, ২০১৮ ০০:০০



নির্বাচনী কাজে সরকারি স্থাপনা ব্যবহার এবং সরকারি কর্মকর্তা হয়ে নিজেরা নির্বাচনী প্রচারাভিযানে অংশ নেওয়ায় শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজের (শেবাচিম) অধ্যক্ষ ও শেবাচিক হাসপাতালের পরিচালককে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। বরিশালে এই প্রথম সরকারি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আচারণবিধি লঙ্ঘনের ঘটনায় ইসি নোটিশ পাঠাল। একই অভিযোগে নৌকা প্রতীকের মেয়র পদপ্রার্থীকেও নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া নির্বাচনী আচারণ ভঙ্গের দায়ে ইসলামী আন্দোলনের মেয়র পদপ্রার্থীর দুই দফা জরিমানা হয়েছে। তাঁকে উসকানিমূলক বক্তব্যের জন্য নোটিশ দেওয়া হয়েছে। একইভাবে ধানের শীষের প্রতীক মেয়র প্রার্থীকেও নোটিশ দেওয়া হয়েছে। অসদাচরণের ঘটনায় এক কাউন্সিলর প্রার্থী লিখিতভাবে ক্ষমা চেয়েছেন। অপর পৃথক ঘটনায় তিন কাউন্সিলর প্রার্থীকে জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা গুনেছেন কাউন্সিলরদের এক সমর্থকও।

জানা গেছে, নির্বাচনে প্রার্থীদের বিরুদ্ধে আচরণবিধি লঙ্ঘনের ঘটনায় অন্তত ২২টি অভিযোগ পড়েছে রিটার্নিং অফিসারের কাছে। এর মধ্যে ১৪টি অভিযোগ পড়েছে নৌকা, ধানের শীষ ও হাতপাখার মেয়র প্রার্থীর বিরুদ্ধে।

রিটার্নিং অফিসার মো. মুজিবুর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘নৌকা-ধানের শীষ প্রতীকের মেয়র প্রার্থীর পক্ষ থেকে এর আগে ১০টি অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগগুলো জেলা ও পুলিশ প্রশাসনের কাছে পাঠিয়েছি। তারা প্রাথমিকভাবে তদন্ত করে দেখেছে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে প্রার্থীদের মৌখিকভাবে সতর্ক করা হয়েছে। আবার অনেক ক্ষেত্রেই অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি। আমাদের আচরণবিধিসংশ্লিষ্ট কমিটিগুলো মাঠে কাজ করছে। তারা বিধি লঙ্ঘনের দায়ে প্রার্থীদের জরিমানা করেছে। তিন মেয়র প্রার্থীকে নোটিশ পাঠানো হয়েছে। সরকারি দুই কর্মকর্তাকেও নোটিশ দেওয়া হয়েছে। 

সরকারি দপ্তরে আ. লীগের নির্বাচনী প্রচারাভিয়ান :  বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের অডিটরিয়ামে গত ১৮ জুলাই নৌকা প্রতীকের প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনী সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেই সভায় শেবাচিম হাসপাতালের পরিচালক, কলেজের অধ্যক্ষসহ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অংশ নেন। মেয়র প্রার্থী সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহর পক্ষে তাঁরা ভোট চান, যা আচরণবিধির ৬-খ এবং ২২-১ ধারা অনুযায়ী লঙ্ঘন হয়েছে। সেই মর্মে ১৯ জুলাই ধানের শীষ প্রতীকের মেয়র প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়ে অভিযোগ দেওয়া হয়। মেয়র প্রার্থীর পাশাপাশি তাঁরা কলেজের পরিচালক ও অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ তোলেন। সেই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে কলেজের অধ্যক্ষ ডা. ভাস্কর সাহা ও হাসপাতালের পরিচালক ডা. বাকির হোসেনকে শনিবার রাতে নোটিশ দেওয়া হয়। একই অভিযোগে নৌকা প্রতীকের মেয়র প্রার্থীকেও নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

বরিশালে নৌকার প্রচারাভিযানে গাজীপুরের মেয়র : বরিশাল সিটি করপোরেশনে নির্বাচনে গাজীপুরের মেয়র জাহাঙ্গীর আলম নগরীর বিভিন্ন স্থানে প্রচার প্রচারণা চালিয়েছেন। তিনি নৌকা প্রতীকের প্রার্থী সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহকে সঙ্গে নিয়ে রবিবার দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত প্রচার চালান।

বিএনপির বিরুদ্ধে উসকানির অভিযোগ : বিএনপির প্রার্থী মজিবর রহমান সরোয়ার শুক্রবার ৫ নম্বর ওয়ার্ডে প্রচার ও পথসভায় নৌকা প্রতীকের মেয়র প্রার্থী এবং আওয়ামী লীগ ও সরকারকে নিয়ে কটূক্তি ও উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট গোলাম আব্বাস চৌধুরী দুলাল নিবার রিটার্নিং অফিসারের কাছে এ ব্যাপারে লিখিত অভিযোগ দেন। এ নিয়ে বিএনপির প্রার্থীকে শোকজ নোটিশ দিয়েছে ইসি।

ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীর বিরুদ্ধে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ব্যবহারের অভিযোগ : ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী ওবায়দুর রহমান মাহাবুবের বিরুদ্ধে ধর্মীয় উসকানিমূলক বক্তব্যের অভিযোগ আনা হয়েছে। আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে দুটি অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে। লিখিত অভিযোগের সঙ্গে ওই বক্তব্যের সিডির কপি সংযুক্ত করা হয়েছে।

 



মন্তব্য