kalerkantho


শত বাধা পেরিয়ে

প্রতিবন্ধিতা দমাতে পারেনি মোমিনুরকে

আহমেদ উল হক রানা, পাবনা   

২৩ জুলাই, ২০১৮ ০০:০০



প্রতিবন্ধিতা দমাতে পারেনি মোমিনুরকে

নবম শ্রেণিতে পড়ার সময় হঠাৎ করেই দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে ফেলে মোমিনুর ইসলাম। অনেক চিকিৎসার পরেও দৃষ্টিশক্তি ফিরে পায়নি। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, বিদেশে চিকিৎসা করালে দৃষ্টিশক্তি ফিরে পেতে পারে। কিন্তু তার দিনমজুর বাবার পক্ষে টাকা জোগাড় করা সম্ভব ছিল না। তাই দৃষ্টিপ্রতিবন্ধিতাকে মেনে নিতে হয় মোমিনুরকে। চোখের জ্যোতি হারিয়ে গেলেও পড়ালেখার প্রতি আগ্রহ দমেনি তার। এ বছরের এইচএসসি পরীক্ষায় সবাইকে তাক লাগিয়ে জিপিএ ৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে মোমিনুর। পাবনার মানবকল্যাণ ট্রাস্টের সহায়তায় সে এবারের পরীক্ষায় অংশ নেয়।

লালমনিরহাটের হাতিবান্ধা উপজেলার পারুলিয়া গ্রামের দিনমজুর আব্দুল কাদেরের তিন ছেলে-মেয়ের মধ্যে মোমিনুর দ্বিতীয়। তার বড় ভাইও দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী।

মোমিনুর জানায়, দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের লেখাপড়ার জন্য প্রয়োজন ব্রেইল পদ্ধতি। অথচ দেশের বেশির ভাগ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এ সুযোগ নেই। পরীক্ষার জন্য প্রয়োজন শ্রুতি লেখকের। আর্থিক সংগতি না থাকায় শ্রুতি লেখককে সম্মানী দেওয়া সম্ভব নয়। পাশাপাশি লেখাপড়া চালিয়ে যাওয়ার আর্থিক ব্যয় বহন করার সক্ষমতাও নেই তাদের। এর পরও জীবনে প্রতিষ্ঠা পাওয়ার জন্য তারা দুই ভাই পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছে। তাদের থাকা-খাওয়াসহ পড়াশোনার সুযোগ করে দিয়েছেন মানবকল্যাণ ট্রাস্টের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবুল হোসেন।

ট্রাস্টের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবুল হোসেন জানান, মোমিনুরসহ ১৬ জন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী মানবকল্যাণ ট্রাস্ট থেকে এবারের এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। তারা সবাই বিভিন্ন গ্রেডে উত্তীর্ণ হয়েছে। মোট ৭২ জন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী মানবকল্যাণ ট্রাষ্ট থেকে ব্রেইল পদ্ধতিতে লেখাপড়া করছে। এ ছাড়া এ প্রতিষ্ঠান থেকে ১২ জন পথশিশুকে প্রাথমিক শিক্ষা দেওয়া হচ্ছে। তা ছাড়া এ প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতায় আটজন নবম শ্রেণিতে, সাতজন দশম শ্রেণিতে, ৯ জন একাদশ শ্রেণিতে ও দুজন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করছে।

নিজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা জানাতে গিয়ে মোমিনুর বলে, ‘আমি উচ্চশিক্ষা নিতে চাই। শিক্ষাজীবন শেষ করে প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য রিসোর্স টিচার হিসেবে কাজ করতে চাই।’

 



মন্তব্য