kalerkantho


কোটি টাকার মহল ছেড়ে লাপাত্তা ‘বড়ি কামরুল’

আঞ্চলিক প্রতিনিধি, ময়মনসিংহ   

২২ জুলাই, ২০১৮ ০০:০০



ইয়াবার ব্যবসা করে যেন আলাদিনের চেরাগ হাতে পেয়ে যান মো. কামরুল ইসলাম (৩০)। সাধারণ মাছচাষি কামরুল টিনের চালার ঘর ফেলে এক বছরের মধ্যেই তুলে ফেলেন কোটি টাকা মূল্যের আলিশান বাড়ি। আলোচনা-সমালোচনার তোয়াক্কা না করে আরো প্রায় অর্ধকোটি টাকা মূল্যের জমিজমার মালিক বনে যান। আশপাশের থানায় মামলা হলেও গত তিন বছরে তিনি শুধু একবার (২০১৬ সালের ২৩ নভেম্বর) ডিবি পুলিশের হাতে ধরা পড়েন এবং এক মাসের মধ্যেই জামিনে ফিরে আবার ইয়াবা ব্যবসায় মন দেন। পরিচিত হয়ে ওঠেন আন্ত জেলা ইয়াবা ব্যবসায়ী হিসেবে। তাঁর নাম হয় ‘বড়ি কামরুল’। 

সারা দেশে মাদকবিরোধী অভিযান শুরুর পর গাঢাকা দেন। চিহ্নিত মাদক কারবারি হলেও পুলিশ এখনো তাঁকে ধরতে পারেনি। কিন্তু তাঁর হাত ধরেই বড় বড় ইয়াবার চালান নান্দাইলে আসে বলে জানা গেছে।

কামরুলের বাড়ি নান্দাইল সদর থেকে প্রায় আট কিলোমিটার পশ্চিমে মোয়াজ্জেমপুর ইউনিয়নের আতকাপাড়া গ্রামে। সেখানে গিয়ে দেখা যায়, আলিশান বাড়িটিতে কেউ নেই। প্রতিবেশীরা জানায়, মাঝে মাঝে পুলিশ এসে খোঁজখবর নিয়ে চলে যায়। কিন্তু রাত নামার সঙ্গে সঙ্গে বাড়িটিতে লোকজনের আনাগোনা তারা টের পায়। কামরুল গোপনে এলাকায় আসা-যাওয়া করে বলে তাদের বিশ্বাস। ইয়াবার ব্যবসাও বহাল রয়েছে।

এলাকাবাসী জানায়, তিনতলা ভিতের বাড়িটি কামরুল তৈরি করেছেন বড়ির ব্যবসা শুরু করার পর। একসময় তিনি নিজেদের দুটি পুকুরে মাছের চাষ করতেন। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, তিনদিকে সিঁড়িবিশিষ্ট বাড়িটির ভেতরে কয়েকটি কক্ষ। প্রতিটি কক্ষে টাইলস ছাড়াও অত্যাধুনিক সরঞ্জাম লাগানো হয়েছে। ঝাড়বাতিও রয়েছে কয়েকটি কক্ষে। প্রবেশের গেটটি তৈরি করা হয়েছে দামি স্টিল দিয়ে। এ দেখে পথচারীরা থমকে দাঁড়ায়। এ নিয়ে গত ২৫ নভেম্বর ২০১৬ সালে কালের কণ্ঠে ‘ছাত্রদলের সহসভাপতি ইয়াবা বেচে কোটিপতি’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছিল।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কামরুলের ইয়াবা ব্যবসার সঙ্গে জড়িত এলাকার ১৫-২০ জন যুবক। তাদের অনেকেই সম্প্রতি এলাকা ছেড়ে গিয়েছিল। তবে অজ্ঞাত কারণে পুলিশের তৎপরতা ঝিমিয়ে পড়ায় পালিয়ে থাকা অনেকেই প্রকাশ্যে আসতে শুরু করেছে। ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ মহাসড়কের চামটা ও কানুরামপুর এলাকায় রয়েছে এদের ঘাঁটি। এখান থেকেই নান্দাইলের বেশির ভাগ এলাকায় ইয়াবা যায়। রমরমা ব্যবসা অব্যাহত রয়েছে। এ ছাড়া নান্দাইল সদরের নাথপড়া, নান্দাইল সদরের বাইপাস সড়ক, উত্তর চারআনি পাড়া শাহাব উদ্দিনের বাড়ি, পৌর সদরের হেমগঞ্জ ফিশারিসংলগ্ন এলাকা, পৌর সদরের দশালিয়ার বিভিন্ন স্থানে, নান্দাইল চৌরাস্তা, নান্দাইল রোড বাজার, শেরপুর, বাকচান্দা, পাঁছরুখি ও মুশলী এলাকায় চলে ইয়াবার রমরমা ব্যবসা। সেখানকার চিহ্নিত ব্যবসায়ীদের ধরতে পুলিশের কোনো তৎপরতা চোখে পড়ছে না বলে এলাকাবাসী জানায়।

সম্প্রতি উপজেলা পরিষদ কর্তৃক আয়োজিত মাসিক আইন-শৃঙ্খলা সভায় নান্দাইল উপজেলার ‘কমিউনিটি পুলিশিং কমিটি’র সভাপতি হাসানুজ্জামান জুয়েল মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত ৫৪ জনের একটি তালিকা থানার ওসির হাতে তুলে দেন। কিন্তু ওই তালিকার কাউকেই পুলিশ এখন পর্যন্ত ধরতে পারেনি। এ বিষয়ে ওসি কামরুল ইসলাম মিয়া জানান, তালিকা ধরে তদন্ত চলছে। সঠিক প্রমাণ পাওয়া গেলে অবশ্যই আইনের আওতায় আনা হবে। অন্যদিকে কামরুল তালিকাভুক্ত কি না জানতে চাইলে ওসি বলেন, এটা দেখে বলতে হবে।

 



মন্তব্য