kalerkantho


পুলিশ হেফাজতে ধর্ষিতা কিশোরী বিদ্যুৎস্পৃষ্ট!

আঞ্চলিক প্রতিনিধি, ময়মনসিংহ    

২২ জুলাই, ২০১৮ ০০:০০



ময়মনসিংহের নান্দাইল থানার ভেতরে তিন দিন ধরে পুলিশ হেফাজতে থাকা ধর্ষিতা এক কিশোরী অরক্ষিত একটি কক্ষে বিদ্যুত্স্পর্শে আহত হয়েছে। গতকাল শনিবার বিকেলে এ ঘটনার পর ওসিসহ অন্য কর্মকর্তারা তাকে উদ্ধার করে নান্দাইল স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করান। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে কিশোরগঞ্জ সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। থানার ভেতর কিশোরীর এমন ঘটনায় সমালোচনার ঝড় বইছে।

জানা যায়, ওই কিশোরী স্থানীয় একটি উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্রী। মোবাইলে ফোনে তার প্রেমের সম্পর্ক হয় স্থানীয় যুবক মামুনের সঙ্গে। মামুন বিয়ের কথা বলে গত বৃহস্পতিবার ওই কিশোরীর বাড়িতে ঢুকে ধর্ষণ করে। একপর্যায়ে মামুন চলে যেতে চাইলে কিশোরী তাকে বিয়ের কথা বললে সে রাজি হচ্ছিল না। পরে কিশোরীর চিৎকারে লোকজন ছুটে এসে মামুনকে ধরে পুলিশে দেয়। এ ঘটনায় পুলিশ কিশোরীসহ অভিযুক্ত মামুনকে থানায় এনে কিশোরীর মাকে বাদী করে মামলা নেয়। পরদিন অভিযুক্ত ধর্ষককে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠালেও ধর্ষিতা কিশোরী ও তার মা থানার ভেতরেই একটি কক্ষে অবস্থান করতে থাকে। এ অবস্থায় গতকাল সকালে পুলিশ ধর্ষিতাকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগে নিয়ে যায়। কিন্তু ধর্ষিতা সেই পরীক্ষা করাতে রাজি না হওয়ায় তাকে ফিরিয়ে আনা হয়। জানা যায়, থানায় থাকা অবস্থায় গ্রামের সালিসকারী থানায় এসে কয়েক দফায় দেনদরবার করে ঘটনাটি সমঝোতার চেষ্টা চালায়। এর মধ্যে ওই কিশোরীকে ময়মনসিংহে পাঠালে সেখানেও সালিসকারীর কয়েকজনের উপস্থিতিতে মামলার বাদী কিশোরীর মাকে দুই কাঠা জমি লিখে দেওয়ার প্রস্তাবসহ বিয়ে করার কথা বলে ডাক্তারি পরীক্ষা করতে দেয়নি। এর মধ্যে গতকাল দুপুরের

পর ফের কিশোরীকে থানায় এনে একটি কক্ষে রাখা হয়। সেখানেই বিকেল ৫টার দিকে বিদ্যুত্স্পর্শে আহত হয়ে চিৎকার দিলে ওসি বাসভবন থেকে থানায় এসে একটি মাইক্রোবাসে করে আহত কিশোরীকে হাসপাতালে নিয়ে যান। থানায় দুটি পিকআপ থাকলেও তিনি লোকচক্ষুর আড়াল করতে এই ব্যবস্থা নেন।

 



মন্তব্য