kalerkantho


বাদলা হাওয়ায় ভোটের তাপ

সিলেট অফিস   

২২ জুলাই, ২০১৮ ০০:০০



বাদলা হাওয়ায় ভোটের তাপ

আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী বদরউদ্দিন আহমদ কামরান গতকাল সিলেটের কররপাড়া এলাকায় এবং বিএনপির মেয়র প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরী নয়াসড়ক এলাকায় গণসংযোগ করেন। ছবি : কালের কণ্ঠ

টানা দু-দিন দাবদাহের পর গতকাল শনিবার সিলেট নগর ছিল বর্ষণসিক্ত। অঝোর বৃষ্টিতে গতকাল সকাল থেকেই প্রকৃতিতে ছিল না সেই উত্তাপ। কিন্তু নির্বাচনী মাঠে যেন উল্টো। ছড়িয়েছে ‘দাবদাহ’। দুই কর্মীকে গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে গতকাল প্রায় আড়াই ঘণ্টা পুলিশ কার্যালয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন সিটি নির্বাচনে বিএনপির মেয়র প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরী। তবে তাঁর এই অবস্থানকে ‘নাটক’ বলছেন আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী বদরউদ্দিন আহমদ কামরান।

অন্যদিকে গতকাল নগরের বিভিন্ন স্থানে গণসংযোগ ও পথসভায় বিএনপির মেয়র প্রার্থী হুমকি দিয়ে বলেছেন, নির্বাচনে ষড়যন্ত্র করে কোনো লাভ হবে না। সিলেটে কোনো অন্যায় সহ্য করা হবে না। আর আওয়ামী লীগের প্রার্থীর দাবি, বিএনপির মেয়র প্রার্থী ও তাঁর লোকজন অপপ্রচার চালাচ্ছেন, প্রতিনিয়ত মিথ্যাচার করছেন। কিন্তু সিলেটের মানুষ এতে বিভ্রান্ত হবে না বলে তিনি মন্তব্য করেন।

সিলেট জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলী আহমেদ জানান, গত শুক্রবার রাতে পুলিশ নগরের দক্ষিণ সুরমার ঝালোপাড়া এলাকা থেকে রাসেল আহমদ ও সুমন আহমদ নামে আরিফের প্রচারকাজে অংশ নেওয়া দুই ব্যক্তিকে আটক করে। তবে পুলিশ আটকের বিষয়টি অস্বীকার করে। এ খবর পেয়ে গতকাল দুপুর ২টার দিকে মেয়র প্রার্থী আরিফ সিলেট মহানগর পুলিশের উপকমিশনার (দক্ষিণ) কার্যালয়ের সামনে গিয়ে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন। এ সময় বিএনপির অন্য নেতারাও সেখানে অবস্থান নেন। পরে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, জেলার ওসমানীনগর থানায় দায়ের করা নিয়মিত মামলায় তাঁদের আটক করা হয়েছে। এ অবস্থায় প্রায় আড়াই ঘণ্টা পর বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে আরিফুল হক চৌধুরী ও নেতাকর্মীরা অবস্থান প্রত্যাহার করে ফিরে যায়।

মহানগর পুলিশের উপকমিশনার (দক্ষিণ) আজবাহার আলী শেখ বলেন, ওসমানীনগর থানার একটি মামলার এজাহারভুক্ত আসামি হিসেবে রাসেল ও সুমনকে আটক করা হয়েছে। তাঁদের আদালতে পাঠানো হচ্ছে।

এদিকে পুলিশ কার্যালয়ের সামনে বিএনপি প্রার্থী আরিফুল হকের এভাবে বসে পড়াকে ‘নাটক’ আখ্যায়িত করে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী বদরউদ্দিন আহমদ কামরান বলেন, তিনি জনগণের সহানুভূতি আদায়ের জন্য একের পর এক নাটক করে চলছেন। কামরান বলেন, ‘আমি তাঁকে নাটক করা বাদ দিয়ে জনগণের মন জয়ের চেষ্টায় মনোনিবেশ করার আহ্বান জানাব।’

উল্লেখ্য, এর আগে এভাবে এক কর্মীকে আটকের অভিযোগে গত ১২ জুলাই মধ্যরাতে নগরের বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়ির সামনে অবস্থান নিয়েছিলেন আরিফুল হক চৌধুরী। প্রায় ৪০ মিনিট অবস্থানের পর সে রাতে আটক কর্মীকে ছাড়িয়ে আনতে সক্ষম হয়েছিলেন তিনি।

গণসংযোগেও উত্তাপ : গতকাল বৃষ্টিভেজা পরিবেশেও উত্তাপ ছড়িয়েছেন বড় দুই দলের মেয়র প্রার্থী। বিএনপির মেয়র প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরী গতকাল নগরের জেলরোড, নয়াসড়ক, শাহজালাল উপশহর, দক্ষিণ সুরমার খোজারখলা ও বরইকান্দি এলাকায় গণসংযোগ করেন। এ সময় তিনি বলেন, ‘একটা কথা স্পষ্ট করে বলে দিতে চাই, ষড়যন্ত্র করে কোনো লাভ হবে না। একটি সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সবার কাম্য। অন্যথায় সিলেটে কোনো অন্যায় সহ্য করা হবে না। মনে রাখতে হবে, সিলেটে অন্যায় করে কেউ পার পায় না।’

অন্যদিকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী বদরউদ্দিন আহমদ কামরান গতকাল নগরের করেরপাড়া,পাঠানটুলা, সুবিদবাজার, যতরপুর ও সোবহানীঘাট এলাকায় গণসংযোগ করেন। এ সময় তিনি বলেন, ‘সিলেট শান্তির জনপদ। এখানে বসবাসকারী লোকজন শান্তিপ্রিয়। নির্বাচন উপলক্ষে নগরে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটছে না। কিন্তু কেউ কেউ অপপ্রচার চালিয়ে পরিবেশ ঘোলা করতে চাইছে। বিশেষ করে একজন মেয়র প্রার্থী ও তাঁর পক্ষের কিছু লোক প্রতিনিয়ত মিথ্যাচার করছে। তবে তাদের এসব ধোঁকাবাজিতে এ পুণ্যভূমির মানুষ বিভ্রান্ত হবে না। তারা ৩০ জুলাইয়ের নির্বাচনে নৌকা প্রতীককে বিজয়ী করে অপপ্রচারকারীদের সমুচিত জবাব দেবে।’

সেলিম অসুস্থ : দলীয় প্রার্থীকে সমর্থন দিয়ে নির্বাচন থেকে সরে যাওয়া সিলেট মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বদরুজ্জামান সেলিম অসুস্থ হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আছেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। তবে তিনি কোথায় চিকিৎসাধীন তা জানা যায়নি। মহানগর বিএনপির দপ্তর সম্পাদক সৈয়দ রেজাউল করিম আলো স্বাক্ষরিত দলের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সুস্থ হয়ে শিগগিরই তিনি দলীয় মেয়র প্রার্থীর প্রচারে নামবেন। উল্লেখ্য, বদরুজ্জামান সেলিম বিদ্রোহী হিসেবে মেয়র পদে মনোনয়ন দাখিল করেছিলেন। যথাসময়ে তিনি প্রত্যাহারও করেননি। অবশেষে নাটকীয়ভাবে গত বৃহস্পতিবার তিনি নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান।

এক ভোট এক নোট : নির্বাচনে সিপিবি-বাসদের মেয়র প্রার্থীর পক্ষে গতকাল নগরে ব্যতিক্রমী গণসংযোগ করা হয়। ‘এক ভোট, এক নোট’ স্লোগানে গণসংযোগকালে প্রচারের পাশাপাশি ভোটারদের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করা হয়। এ সময় বাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য বজলুর রশীদ ফিরোজ জনগণের টাকায় জনগণের নেতা নির্বাচিত হবেন বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ‘কালো টাকা ও পেশিশক্তির নির্বাচনের সংস্কৃতির বিপরীতে আমরা নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তুলতে চাই।’ এ সময় নগরের বিভিন্ন পেশার মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে নোট (টাকা) দিয়ে নির্বাচনী তহবিলে আর্থিক সহযোগিতা করে।

 

 

 



মন্তব্য