kalerkantho


গভর্নরের পদত্যাগ চান মওদুদ

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২২ জুলাই, ২০১৮ ০০:০০



বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেছেন, সোনা চুরির দায়-দায়িত্ব সরকারকেই নিতে হবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরকে পদত্যাগ করতে হবে। বর্তমান গভর্নরের উচিত হবে নিজের সম্মান রক্ষা করার জন্য অবিলম্বে পদত্যাগ করা। উনি যদি ওই পদে থাকেন তাহলে সেখানে কোনো রকমের সুষ্ঠু তদন্ত সম্ভবপর নয়। যার কারণে তাঁর সরে যাওয়া উচিত।

গতকাল শনিবার দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের কনফারেন্স লাউঞ্জে বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক সাংস্কৃতিক জোটের অষ্টম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ‘সংঘাতের রাজনীতির পথ সুশাসনের জন্য হুমকি’ শীর্ষক আলোচনাসভায় মওদুদ এ কথা বলেন।

২০১৬ সালে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রার মজুদ থেকে ৮০০ কোটি টাকা ‘লুণ্ঠনের ঘটনায়’ ব্যাংকের তৎকালীন গভর্নর আতিউর রহমান স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেন উল্লেখ করে মওদুদ বলেন, ‘এখন বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় ব্যাংক হয়ে গেছে সোনা চোর এবং টাকা চোরের ব্যাংকিংয়ের সবচেয়ে বড় প্রতিষ্ঠান। বাকি ব্যাংকিং সেক্টর এরপর আর টিকে থাকে কি না সেই প্রশ্ন এমনিতেই আসে। সব ব্যাংককে আজকে ফোকলা করে দেওয়া হয়েছে সরকারি দলের ব্যবসায়ী ও মদদপুষ্ট রাজনীতিবিদদের টাকা দিয়ে, ঋণ দিয়ে। ব্যাংকগুলো থেকে তারা সব টাকা লুট করেছে।

মওদুদ বলেন, ‘সরকারের তদন্ত সংস্থাগুলো বলছে, গোয়েন্দা সংস্থাগুলো বলছে যে সোনা তামা হয়ে গেছে, সোনার পরিমাণ কমে গেছে। তারা বলছে, এটা অঙ্কের হেরফের। এটা হতে কী পারে? এটা দেশের মানুষ কখনো গ্রহণ করবে না। একজন লোককেও এখন পর্যন্ত গ্রেপ্তার করা হয়নি।’

সাবেক এই আইনমন্ত্রী সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে প্রধানমন্ত্রীকে সংবর্ধনা দেওয়ার প্রসঙ্গে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর জনসভায় অনেক মানুষ আসবে, তাঁর জনপ্রিয়তা আজকে প্রমাণিত হবে। খুব ভালো কথা। আমরা চাই, প্রধানমন্ত্রী, তাঁর সরকার ও তাঁর দলের যখন এত জনপ্রিয়তা, তখন তিনি (শেখ হাসিনা) একটা ঘোষণা দেবেন আজকে, আগামী নির্বাচন হবে একটি  নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে। তাহলেই হবে এই বিরাট জনসভার সার্থকতা।’

সোহরাওয়ার্দীতে বিএনপিকেও জনসভা করার অনুমতি দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, খালেদা জিয়া কারাবন্দি থাকা অবস্থায় আমাদেরও এখানে জনসভা করতে দেন। আমরা প্রমাণ করব আজকে আপনাদের যে জনসভা হচ্ছে তার চেয়ে বেশি জনসমাবেশ হবে আমাদের সমাবেশে। আজকে প্রধানমন্ত্রী নিশ্চয়ই নৌকায় ভোট দেওয়ার জন্য আহ্বান জানাবেন। তাহলে আমরা কেন ধানের শীষে ভোট চাইতে পারব না, আমরা কেন জনসভা করতে পারব না।’ 

কোটা সংস্কারের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘সুপ্রিম কোর্টে এমন কোনো রায় নেই যে রায়ে বলা হয়েছে এই কোটা পদ্ধতি সংস্কার করা যাবে না। এ ধরনের কোনো রায় তাঁরা দেখাতে পারবেন না। আমি আহ্বান জানাই আওয়ামী লীগের কোনো নেতা বা যেকোনো আইনজীবীকে তাঁরা এই রায়টা দেখাক।’  তিনি বলেন, ‘অথচ এই  রায়ের অজুহাত দেখিয়ে, এই রায়ের কথা বলে প্রধানমন্ত্রী সরে এসেছেন। তাঁর যে ওয়াদা দিয়েছিলেন, যে বক্তব্য তিনি সংসদে রেখেছিলেন তিনি সেটা থেকে সরে এসেছেন। প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে আমরা এটা প্রত্যাশা করি না। তাঁকে ভুল বোঝানো হয়েছে।’

সংগঠনের উপদেষ্টা সালমান ওমর রুবেলের সভাপতিত্বে আলোচনাসভায় বিএনপির খায়রুল কবির খোকন, আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ প্রমুখ বক্তব্য দেন।

 

 



মন্তব্য