kalerkantho


মহাখালীতে যুবলীগকর্মীর লাশ

নিজ কার্যালয়ে রাশেদকে গুলি করেন সোহেল

রেজোয়ান বিশ্বাস   

২১ জুলাই, ২০১৮ ০০:০০



রাজধানীর মহাখালীতে যুবলীগকর্মী কাজী রাশেদের লাশ উদ্ধারের ঘটনায় গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেয়েছে পুলিশ। মহাখালী স্কুল রোডের একটি ভবনের নিচতলা থেকে জব্দ করা ক্লোজড সার্কিট (সিসি) টিভি ক্যামেরায় ধারণ করা ভিডিও ফুটেজ জব্দ করার পর তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, রাশেদকে হত্যা করা হয়েছে ওই ভবনের নিচতলায় বনানী থানা শাখা যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক ইউসুফ সরদার সোহেলের কার্যালয়ে। এ হত্যাকাণ্ডে সোহেলসহ ছয়জন জড়িত।

তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আরো বলছেন, ঘটনায় জড়িতদের গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত গ্রেপ্তার করা যায়নি।

তদন্তসংশ্লিষ্ট পুলিশের ভাষ্য, সিসিটিভি ক্যামেরার তিনটি ভিডিও ফুটেজ পাওয়া গেছে। এর মধ্যে কার্যালয়ের ভেতরের দুটি ফুটেজে রাশেদকে হত্যার দৃশ্য এবং বাইরেরটিতে তাঁর লাশ ফেলার দৃশ্য রয়েছে। এ ফুটেজ পাওয়ার পর তদন্তে নতুন মোড় নেয়। জড়িত ছয়জনকেই শনাক্ত করা হয়েছে। ওই ছয়জনের মধ্যে একজন বনানী থানা যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক ইউসুফ সরদার সোহেল।

ঘটনাস্থল পরিদর্শনকারী বনানী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শাহিন আলম বলেন, রাশেদকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ১৫ জুলাই সকালে রাজধানীর মহাখালী স্কুল রোডের জিপি, গ ৩৩/১ নম্বর বহুতল ভবনের পেছনের গলি থেকে যুবলীগকর্মী কাজী রাশেদের (৩২) গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার করা হয়। ওই ভবনের নিচতলায় যুবলীগ নেতা সোহেলের রেইনবো নিউজ২৪ডটকম নামের একটি প্রতিষ্ঠানের কার্যালয় আছে।

রাশেদের স্বজনদের দাবি অনুযায়ী, ঘটনার আগের দিন দুপুরে রাশেদ সোহেলের ওই কার্যালয়ে গিয়েছিলেন। তাঁর লাশ উদ্ধারের ঘটনায় স্ত্রী মৌসুমী আক্তার বনানী থানায় ইউসুফ সরদার সোহেলকে প্রধান আসামি করে ছয়জনের নামে মামলা করেছেন।

ভিডিও ফুটেজের তথ্য অনুযায়ী, আগের দিন শনিবার রাত ৩টা থেকে সাড়ে ৩টার মধ্যে সোহেলের রেইনবো নিউজ২৪ডটকমের কার্যালয়ের ভেতরই রাশেদকে গুলি করে হত্যা করা হয়। সোহেল ও রাশেদ ছাড়াও সিসিটিভির ফুটেজে যে পাঁচজনকে দেখা গেছে, তারা হলো মহাখালীর দক্ষিণপাড়ার ফিরোজ, আকিজপাড়ার দীপু, আমতলীর সন্ত্রাসী হাসু, সোহেলের সহযোগী রবি ও জাকির। গুলশান, বনানী ও মহাখালী এলাকার চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি ও মাদকের কারবার নিয়ন্ত্রণের সঙ্গে তাদের জড়িত থাকার তথ্য রয়েছে পুলিশের কাছে।

ফুটেজে পাওয়া দৃশ্যের বরাত দিয়ে পুলিশ বলছে, ওই রাতে সোহেলের কার্যালয়ে আড্ডা চলছিল। চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজির আর্থিক লেনদেন নিয়ে নিজেদের মধ্যে কথা হচ্ছিল। একপর্যায়ে সোহেল তাঁর দেহরক্ষী কাজী রাশেদের ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। কিলঘুষি মারার একপর্যায়ে কাছে থাকা পিস্তল বুকে ঠেকিয়ে রাশেদকে গুলি করেন সোহেল। এরপর সোহেলের হাত থেকে পিস্তল নিয়ে একইভাবে পরপর আরো তিনটি গুলি করে ফিরোজ। তারপর মৃত্যু নিশ্চিত ভেবে লাশ ফেলার প্রস্তুতি নেয় তারা। তখন জাকির, হাসু, দীপু ও ফিরোজ রাশেদের হাত-পা ধরে টেনেহিঁচড়ে বাইরে এনে সীমানাপ্রাচীরের পাশের গলিতে ফেলে দেয়। তাদের হাতে পলিথিন পেঁচানো ছিল। লাশ ফেলে আসার পর আবার তারা সোহেলের কার্যালয়ে আসে। হত্যাকাণ্ডের পর রক্তের দাগ মোছার জন্য রাশেদের গায়ে পানি ঢেলে দিয়েছিল খুনিরা। কার্যালয়ের ওই ঘরটিও, যেটি রক্তে ভেসে গিয়েছিল সেটিও পানিতে দিয়ে মুছে ফেলা হয়।



মন্তব্য