kalerkantho


হামলার পর উল্টো ছাত্রলীগ নেতাদের বিরুদ্ধে মামলা!

রাজধানীর উপকণ্ঠ কামরাঙ্গীর চরের এ ঘটনায় নিন্দা ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২১ জুলাই, ২০১৮ ০০:০০



একজন সম্ভাব্য প্রার্থীকে সমর্থন করায় আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগ নেতাদের বাড়িঘরে হামলা-ভাঙচুর, ছাত্রলীগের থানা কার্যালয়ে ভাঙচুরের পর ওই নেতাদের বিরুদ্ধে থানায় দায়ের করা হয়েছে চুরির মামলা। রাজধানীর উপকণ্ঠ কামরাঙ্গীর চরের এ ঘটনায় নিন্দা ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে।

গত বৃহস্পতিবার মো. হারুনের সই করা একটি এজাহারে দাবি করা হয়, তিনি এবং তাঁর ছেলে জুয়েল খলিফাঘাট এলাকায় ভ্যানে করে কাপড়চোপড় বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করেন। তাঁর আগের দিন বুধবার রাত পৌনে ১২টার দিকে বাড়ি ফেরার পথে আধিপত্য বিস্তার কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মারামারির মধ্যে পড়ে যায় তাঁর ছেলে জুয়েল। বড়গ্রাম চেয়ারম্যান বাড়ির মোড় পাকা রাস্তায় এ ঘটনায় জুয়েলের ওপর আক্রমণ করা হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়।

সাইদুর রহমান রতন, এইচ এম মিন্টু, মোরসালিন, মো. ফারুক, শাকিল, মো. সজল এবং অজ্ঞাতপরিচয় আরো ১৫-২০ জনকে মামলার এজাহারে অভিযুক্ত করা হয়। এ ছাড়া জুয়েলের সঙ্গে থাকা ৩৫ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয় বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়।

অথচ ওই রাতেই এই ছাত্রলীগ নেতাদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে দফায় দফায় হামলার ঘটনা ঘটে। কামরাঙ্গীর চর থানা ছাত্রলীগের কার্যালয় ভাঙচুর করা হয়। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি ছুড়ে অবমাননা করা হয়। স্থানীয় সংসদ সদস্য খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলামের ইশারায় ওই হামলার ঘটনা ঘটেছিল বলে ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করে আসছে। এ নিয়ে থানায় একটি অভিযোগ জমা দিলেও সেটি মামলা হিসেবে গ্রহণ করা হয়নি। ভুক্তভোগীদের দাবি, সেই হামলার ঘটনাকে আড়াল করতে তাদের সাজানো মামলায় ফাঁসানোর চক্রান্ত চলছে।

এই মামলার এক নম্বর আসামি উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি সাইদুর রহমান রতন বলেন, ‘ওই সময় আমি এলাকায় ছিলাম না। উপজেলা চেয়ারম্যান শাহীন আহমেদের সঙ্গে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ব্যানার-ফেস্টুন লাগাচ্ছিলাম। তখন আমার বাড়িতে সন্ত্রাসীরা হামলা চালায়। আর গতকাল রাতে আমার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। এসব হচ্ছে খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলামের ইশারায়। আমাদের দোষ আমরা কেন উপজেলা চেয়ারম্যানকে সমর্থন করি।’

আরেক নেতা কামরাঙ্গীর চর ছাত্রলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক মোরসালিন হোসেন বলেন, ‘তখন তো আমি আমার বাড়ির সামনে ছিলাম। সঙ্গে পুলিশও ছিল। আমার বাড়ি, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা চালায় সন্ত্রাসীরা। ওই সময় আমি এসব নিয়ে ব্যস্ত ছিলাম। তখন আমি কাকে মারব, কার পকেট থেকে টাকা নেব! এইভাবে আমাদের হয়রানির মানে হয় না।’

জানা গেছে, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নৌকা প্রতীকে মনোনয়ন প্রত্যাশা করে তৃণমূল পর্যায়ে আওয়ামী লীগকে সংগঠিত করে আসছিলেন কেরানীগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শাহীন আহমেদ। ঢাকা-২ আসনের মনোনয়নপ্রত্যাশী এই আওয়ামী লীগ নেতাকে ঘিরে সাভারের ভাকুর্তা, আমিন বাজার, কামরাঙ্গীর চরসহ সংসদীয় আসনের প্রতিটি এলাকায় বিপুল জনমত গড়ে ওঠে।

এ আসনের বর্তমান সাংসদ খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলামের সঙ্গে এ নিয়ে তৈরি হয় দ্বন্দ্ব। এরই জের ধরে গত বুধবার রাতে পাঁচ নেতার বাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটে। সেই হামলার ঘটনায় থানায় মামলা গ্রহণ না করলেও শেষে তাঁদের বিরুদ্ধেই উল্টো গতকাল চুরির মামলা নিল পুলিশ।



মন্তব্য