kalerkantho


অস্বাভাবিক গরমে দুর্বিষহ জীবন

রংপুরে মানুষের হাঁসফাঁস

স্বপন চৌধুরী, রংপুর   

২১ জুলাই, ২০১৮ ০০:০০



‘দুই দিন না খ্যায়া থাকা যায়। তয় এই রইদোত কাম করলে জীবন বাইচপার নয়।’ এমন মন্তব্য করেন প্রচণ্ড রোদ আর গরমে নাকাল রংপুরের উত্তম বারঘরিয়া এলাকার কৃষি শ্রমিক শহিদুল ইসলাম। গতকাল শুক্রবার কাজ ফেলে মাঠ থেকে উঠে আসেন তিনি। শুধু তিনিই নন, স্মরণকালের তীব্র গরমে গতকাল শ্রমজীবী মানুষজন মাঠে কাজ করতে পারেনি।

বৃষ্টির দেখা নেই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে। প্রচণ্ড রোদ আর গরমে জনজীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে শ্রমজীবীসহ রংপুর অঞ্চলের মানুষ নাকাল হয়ে পড়েছে। গতকাল রংপুরে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৮ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আর আবহাওয়ার এই বৈরী আচরণে ঘরে ঘরে রোগবালাই শুরু হয়েছে। রংপুর আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা যায়, কয়েক দিন ধরে রংপুরে তাপমাত্রা ৩৩ থেকে ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে ওঠানামা করছে। গতকালের তাপমাত্রা অস্বাভাবিক উল্লেখ করে সূত্র জানায়, জুলাইয়ে এমন তাপমাত্রা বিরল ঘটনা। বর্ষা মৌসুমে এবার পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত না হওয়ায় আরো বেশি গরম অনুভূত হচ্ছে।

সরেজমিনে গতকাল বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ায় চরম বেকায়দায় পড়েছে লোকজন। বিশেষ করে বর্তমান সময়ে আমন ফসলের চারা রোপণে প্রচণ্ড গরমে কৃষি শ্রমিকরা হাঁপিয়ে উঠেছে। আমন চাষের ভরা মৌসুমেও গতকাল মাঠ ছিল জনশূন্য। কাজ বাদ দিয়ে শ্রমজীবীসহ সাধারণ মানুষকে গাছতলায় মাচা পেতে বিশ্রাম নিতে দেখা যায়। নগরীর জাফরগঞ্জ এলাকায় ধানের চারা রোপণ করতে গিয়েছিল কয়েকজন শ্রমিক। কিছুক্ষণ পরই তারা কাজ বাদ দিয়ে ফিরে এসে গাছতলায় বিশ্রাম নেয়। তাদের মধ্যে ষাটোর্ধ্ব নওশের আলী বলেন, ‘এই রইদোত জমিত একদণ্ড থাকা যায় না।’ জফুর আলী বলেন, ‘গরমোত গাও সিদ্ধ হয়া গেইচে। না খ্যায়া থাকলেও কাম করার শক্তি নাই বাহে।’

রংপুর শহরে গতকাল দুপুরবেলা ক্লান্ত-পরিশ্রান্ত রিকশাচালকদের লাইন ধরে গাছতলায় বিশ্রাম নিতে দেখা গেছে। রিকশাচালক শরিফুল আলম বলেন, ‘এ সময় তো এত গরম নাগার কতা নোয়ায়। এত রইদোত কি রিকশা চলা যায়!’ প্রচণ্ড গরমের কারণে গতকাল দুপুরবেলায় ব্যস্ততম রংপুর শহর ছিল অনেকটাই ফাঁকা।

অস্বাভাবিক গরমকে ঘিরে শহরের ফুটপাতগুলোতে তালপাখাসহ বাঁশ, কাপড় ও সুতার তৈরি বিভিন্ন ধরনের হাতপাখার পসরা সাজিয়ে বসে ব্যবসায়ীরা। ১০ থেকে ২০ টাকা দামে এসব পাখা প্রচুর বিক্রি হয়েছে। শহরের কাছারিবাজার এলাকায় ফুটপাতে পাখা কিনতে আসা মুন্সীপাড়ার আকতারা বেগম বলেন, কয়েক দিন ধরে খুব গরম পড়ছে। দিনের বেশির ভাগ সময়েই বিদ্যুৎ থাকে না। হাতপাখা ছাড়া উপায় কী! চিকিৎসকরা বলছেন, এমন আবহওয়ায় হিটস্ট্রোক, চর্মরোগসহ শ্বাসকষ্ট ও ডায়রিয়ার প্রাদুর্ভাব হওয়ার আশঙ্কা বেশি থাকে।

রংপুরের সিভিল সার্জন ডা. আবু মো. জাকিরুল ইসলাম গতকাল কালের কণ্ঠকে বলেন, বর্তমানে এ অঞ্চলে যে আবহাওয়া বিরাজ করছে, তা মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য মোটেও উপযোগী নয়। এতে ঘাম ঝরে শরীর দুর্বল হয়ে পড়ে। বিশেষ করে ৬০ বছরের বেশি এবং পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের ঝুঁকি বেশি। তিনি এই বৈরী আবহাওয়ায় রোগবালাইয়ের হাত থেকে রক্ষায় বেশি করে পানি পানসহ রোদে না বেড়ানোর পরামর্শ দেন।



মন্তব্য