kalerkantho


এক বাজারে ভাঙা সড়ক, ক্ষতিগ্রস্ত তিন বাজার

জহিরুল ইসলাম   

২১ জুলাই, ২০১৮ ০০:০০



এক বাজারে ভাঙা সড়ক, ক্ষতিগ্রস্ত তিন বাজার

পুরান ঢাকার চকবাজারে ভাঙাচোরা ও খানাখন্দে ভরা রাস্তার কারণে দুর্ভোগ পোহাচ্ছে বেগমবাজার, মৌলভীবাজারসহ পার্শ্ববর্তী এলাকার ব্যবসায়ী ও বাসিন্দারা। সামান্য বৃষ্টিতেই রাস্তায় ময়লা কাদাপানি জমে একাকার অবস্থা। ফুটপাতবিহীন রাস্তায় খোলা ড্রেনগুলো হয়ে ওঠে চরম ভোগান্তির ফাঁদ। ভাঙা রাস্তা ঘিরে এমন নানা সমস্যায় রাজধানীর অন্যতম এই বাণিজ্যিক এলাকায় ক্রেতাবিমুখতা বাড়ছে। জনভোগান্তির পাশাপাশি ব্যবসায়ের ভবিষ্যৎ নিয়েও চিন্তা বাড়ছে ব্যবসায়ীদের।

চকবাজার, বেগমবাজার ও মৌলভীবাজারে প্রায় ১৯ হাজার দোকান রয়েছে। এসব ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে জড়িয়ে আছে আরো কয়েক লাখ মানুষের রুটি-রুজি। ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় কর্মচারীদের বেতন দিয়ে মাস শেষে কিছুই থাকছে না—এমনটা বলছেন ব্যবসায়ীরা।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) অঞ্চল-৩-এর ২৮ নম্বর ওয়ার্ডে পড়েছে বেগমবাজার ও মৌলভীবাজার। আর চকবাজার পড়েছে ডিএসসিসি অঞ্চল-৪-এর ৩১ নম্বর ওয়ার্ডে। স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীরা বলেন, বেগমবাজার ও মৌলভীবাজারে রাস্তার অবস্থা ভালো থাকলেই খোলা ড্রেন আর রাস্তার দুই পাশে দাঁড়িয়ে থাকা রিকশা, ঠেলাগাড়ি, ভ্যান আর পিকআপ ভ্যানের কারণে সরু রাস্তা আরো সরু হয়ে যায়। ফুটপাতহীন রাস্তাগুলো মাত্র ৯ ফুট থেকে ১৫ ফুট প্রশস্ত। যেখানে পথচারী হাঁটার জায়গাটুকুও নেই। তার ওপর সড়কের অবস্থা বেহাল হয়ে পড়ায় পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে উঠেছে। আর চকবাজার সড়কের ভাঙাচোরা আর খানাখন্দে ভরা রাস্তার কারণে বাকি দুই বাজারে যানজট আরো বেড়ে গেছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, পুরনো জেলখানার পশ্চিম পাশ দিয়ে দ্বীন মোহাম্মদ সড়ক হয়ে চকবাজারের রাস্তা পুরোটাই খানাখন্দে ভরা। একই অবস্থা কেল্লার মোড় থেকে পোস্তা হয়ে চকবাজার ঢুকতে ওয়াটার ওয়ার্কার্স সড়কের। এ ছাড়া চক সার্কুলার সড়ক ও চকবাজারের ছোট-বড় সব গলির রাস্তারই বেহাল দশা। চকবাজার হয়ে মৌলভীবাজার ও বেগমবাজার গিয়ে পণ্য কিনতে গেলেই দীর্ঘ যানজটে পড়ে থাকতে হয়। আবার মৌলভীবাজার ও বেগমবাজার থেকে চকবাজার হয়ে লালবাগ দিয়ে বের হতে চাইলেও ভাঙাচোরা রাস্তার কারণে যানজটে আটকা পড়তে হচ্ছে।

সকাল ১১টার দিকে কথা হলো যানজটে রিকশায় আটকে থাকা আমলীগোলার ফাস্টফুড ব্যবসায়ী বিবিএস বার্গার অ্যান্ড সাব’র দোকানি সুমন মিয়াজীর সঙ্গে। তিনি বললেন, ‘দোকানের মালামাল কিনতে সকাল ৯টায় বেগমবাজারে এসেছি। ৪০ মিনিটের মধ্যে সব কিনতে পারলেও এখন এক ঘণ্টা ধরে যানজটে আটকে আছি। সঙ্গে মালামাল থাকায় হেঁটেও যেতে পারছি না।’

স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, ‘সামান্য বৃষ্টিতেই রাস্তায় কাদাপানি জমে যাওয়ায় বাসা থেকে বের হওয়ার মতো অবস্থা থাকে না।’ সাফা নামে মৌলভীবাজারের এক ব্যবসায়ী বলেন, ‘বৃষ্টি হলে ব্যবসা-বাণিজ্য সব স্থবির হয়ে যায়। বৃষ্টি বন্ধ হলেও সেদিন আর ক্রেতা পাওয়া যায় না। ভাঙা রাস্তায় কাদাপানির কারণে মানুষ হাঁটতে পারে না। আর যানজট তো নিত্যদিনের ভোগান্তি হয়ে লেগেই আছে।’

চকবাজার বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক হাজি মো. ফারুক হোসেন বলেন, ‘যানজটের কারণে ব্যবসায়িক অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। রাস্তা কেটে সিটি করপোরেশন ড্রেনেজের কাজ করে গেলেও এ পর্যন্ত রাস্তা ঠিক করা হয়নি। বাজারে সকাল থেকে যানজট লেগে থাকে। মৌলভীবাজার আর বেগমবাজারের রাস্তা ঠিক করা হলেও চকবাজারের ভেতরের ভাঙাচোরা রাস্তার কারণে যানজট কমছে না। আর বৃষ্টি হলে তো রাস্তায় ময়লা পানি আর বৃষ্টির পানি মিশে কাদার ছড়াছড়িতে ভয়াবহ অবস্থার সৃষ্টি হয়। এমন ভোগান্তি মাথায় নিয়ে কী ক্রেতারা আসবে? বিক্রেতাদেরই দোকানে আসতে কষ্ট হয়ে যায়।’

ডিএসসিসির ২৮ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর আনোয়ার পারভেজ বাদল বলেন, ‘বৃষ্টির পানি সরে যাওয়ার জন্য চকবাজারে সিটি করপোরেশন রাস্তার মাঝখানে ড্রেনের কাজ করেছেন। গত রমজানে কাজ শুরু করে এই রমজানে তা অনেকটা শেষ হয়েছে। দীর্ঘ সময় নিয়ে কাজ করায় এলাকার মানুষের ভোগান্তির সীমা ছিল না। চানখাঁরপুল থেকে চকবাজার হয়ে সোয়ারীঘাট পর্যন্ত হবে এই ড্রেন। পুরো কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত রাস্তা সংস্কার করা হচ্ছে না। শুনেছি রাস্তা সংস্কারের জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে।’



মন্তব্য