kalerkantho


আজ প্রধানমন্ত্রীর গণসংবর্ধনা

নির্বাচনী বার্তা পেতে মুখিয়ে নেতাকর্মীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২১ জুলাই, ২০১৮ ০০:০০



আজ প্রধানমন্ত্রীর গণসংবর্ধনা

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গণসংবর্ধনা উপলক্ষে বর্ণিল সাজে সাজানো হয়েছে রাজধানীকে। ছবিটি গতকাল বিজয় সরণি মোড় থেকে তোলা। ছবি : কালের কণ্ঠ

আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আজ শনিবার বিকেলে রাজধানীর ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে গণসংবর্ধনা দেওয়া হবে। এই সংবর্ধনা দেবে আওয়ামী লীগ।

আওয়ামী লীগ সূত্রে জানা গেছে, আজকের এ গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনা আগামী নির্বাচন সামনে রেখে বার্তা দেবেন। এ কারণে দলীয় নেতাকর্মীরা বিশেষভাবে উৎসাহিত। অনুষ্ঠানের সব ধরনের প্রস্তুতি শেষ হয়েছে।

মহাকাশে বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইটের সফল উৎক্ষেপণ, স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণ, অস্ট্রেলিয়ায় গ্লোবাল উইমেনস লিডারশিপ অ্যাওয়ার্ড, ভারতের কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডিলিট ডিগ্রি অর্জনসহ শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সরকার উন্নয়ন-অর্জনে অসামান্য অবদান রাখায় প্রধানমন্ত্রীকে এ গণসংবর্ধনা দেওয়া হচ্ছে।

গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি দেখতে গতকাল শুক্রবার দুপুরে অনুষ্ঠানস্থল পরিদর্শন করেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি সাংবাদিকদের জানান, অনুষ্ঠানের সব ধরনের প্রস্তুতি শেষ হয়েছে।

ওবায়দুল কাদের জানান, জাতীয় সংসদের উপনেতা সাজেদা চৌধুরী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন। মূল বক্তব্য দেবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। অনুষ্ঠানে সাংস্কৃতিক পর্বও থাকবে। তিনি আরো জানান, অনুষ্ঠানে একটি স্মারক পাঠ করা হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়ও গণসংবর্ধনায় উপস্থিত থাকবেন। বিকেল ৩টা থেকে অনুষ্ঠান শুরু হবে। দুই ঘণ্টার গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্যে আগামী নির্বাচনের বার্তা থাকবে। 

যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হবে : জানা গেছে, সংবর্ধনাস্থলে প্রবেশের জন্য সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের সাতটি প্রবেশ পথ খোলা থাকবে। ছবির হাট, টিএসসি, বাংলা একাডেমি ও তিন নেতার মাজার প্রান্তের প্রবেশপথ সর্বসাধারণের জন্য, রমনার প্রবেশপথ ভিআইপি ও ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউশনের প্রবেশপথ শুধু আমন্ত্রিত অতিথিদের জন্য খোলা থাকবে। ব্যাপক লোকসমাগম হবে বলে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের চারদিকের রাস্তায় যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণ করবে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)।

ডিএমপি সূত্রে জানা গেছে, আজ দুপুর ১টা থেকে অনুষ্ঠান শেষ না হওয়া পর্যন্ত শাহবাগ থেকে মৎস্য ভবন, টিএসসি থেকে দোয়েল চত্বর সড়ক বন্ধ থাকবে। প্রয়োজনে বাংলামোটর, কাকরাইল চার্চ, ইউবিএল, জিরো পয়েন্ট, গোলাপশাহ মাজার, চানখাঁরপুল, বকশীবাজার, পলাশী, নীলক্ষেত, কাঁটাবন ক্রসিং দিয়ে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ও বিশ্ববিদ্যালয়মুখী সাধারণ গাড়িগুলোকে ডাইভারশন দেওয়া হতে পারে। ডিএমপির নির্দেশনা অনুসারে, অনুষ্ঠান উপলক্ষে মিরপুর থেকে যেসব নেতাকর্মী বাসে করে যাবে তাদের গাড়ি মিরপুর রোড দিয়ে নীলক্ষেত এলাকায় পার্ক করতে হবে। উত্তরা ও মহাখালীর দিক দিয়ে  আসা নেতাকর্মীদের বাস মগবাজার-কাকরাইল চার্চ-নাইটিংগেল-ইউবিএল-জিরো পয়েন্ট-হাইকোর্ট হয়ে দোয়েল চত্বরে নামিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় জিমন্যাশিয়ামে পার্ক করতে হবে। ফার্মগেট-সোনারগাঁও-শাহবাগ হয়ে আসা নেতাকর্মীদের বাস টিএসসিতে ডানে ঘুরে মল চত্বরে পার্ক করতে হবে। যাত্রাবাড়ী, ওয়ারী, বংশাল দিয়ে আসা গাড়িগুলো জিরো পয়েন্ট, হাইকোর্ট হয়ে দোয়েল চত্বরে যাত্রী নামিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের জিমনেশিয়াম এলাকায় পার্ক করতে হবে। লালবাগ ও কামরাঙ্গীর চর থেকে আগতদের গাড়ি পলাশী-নীলক্ষেত এলাকায় পার্ক করতে হবে।

‘জোয়ার আওয়ামী লীগের পক্ষে’ : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশের ‘অভূতপূর্ব’ অগ্রগতি হওয়ায় নির্বাচনেও আওয়ামী লীগের পক্ষে জনমতের জোয়ার আসবে বলে মনে করছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গণসংবর্ধনার আগের দিন গতকাল রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে চিত্রকর্ম প্রদর্শনী উদ্বোধনের পর ওবায়দুল কাদের সাংবাদিকদের এ কথা বলেন।

এ সময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ, আব্দুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক এ কে এম এনামুল হক শামীম, খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, দপ্তর সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপ, কেন্দ্রীয় সদস্য মির্জা আজম প্রমুখ।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘একসময় আমাদের ভাটা ছিল। এখন বিএনপির ভাটা চলছে। তাদের জোয়ার হবে কি না জানি না। তবে আজকে যে জোয়ার তা আওয়ামী লীগের পক্ষে। আগামী নির্বাচনে আবারও আওয়ামী লীগ এ জোয়ারে ভাসবে। বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করার পর ২১ বছর আমরা ভাটাতে ছিলাম। আবার যখন বিএনপি ক্ষমতায় ছিল তখনো এক ভয়াল পরিস্থিতিতে ভাটায় ছিলাম। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ও। আজকে রাজনীতিতে আমরা ক্ষমতায় এসে উন্নয়ন করতে পেরেছি, অর্জন করতে পেরেছি। যা দেশ-বিদেশে সমাদৃত হচ্ছে। এটা তো অভূতপূর্ব সাফল্য। এ কারণে এই সংবর্ধনা কৃতজ্ঞ জাতির পক্ষ থেকে আমরা স্বাধীনতা সংগ্রামের নেতৃত্বদানকারী জাতির জনকের কন্যাকে দিচ্ছি। লোকসমাগমের বিষয়টা আপনাদের ক্যামেরাই বলে দেবে।’

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘সব দলের অংশগ্রহণে নির্বাচন আমরা চাই না—এ কথা কি আমরা বলছি? তবে আমরা কাউকে টেনে আনব না। সব গণতান্ত্রিক দেশে রাজনৈতিক দলগুলো নির্বাচনে অংশ নেবে—এটা তাদের রাজনৈতিক অধিকার, এটা করুণা নয়। করুণা বা দয়ায় কেন বিএনপি নির্বাচনে আসবে। এটা তাদের অধিকার।’

নির্বাচনের আগে বিএনপির সঙ্গে কোনো সংলাপ হতে পারে কি না— সাংবাদিকরা জানতে চাইলে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘সংলাপ কেন? কী প্রয়োজনে? নির্বাচন হতে তো কোনো সমস্যা নেই। তারা কি জাতীয়তাবাদী নির্বাচন কমিশন চায়?’



মন্তব্য