kalerkantho


ব্যবসায়ী স্বপন নিখোঁজ নন, খুন হয়েছেন

নারায়ণগঞ্জের আদালতে স্বীকারোক্তি

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি   

২০ জুলাই, ২০১৮ ০০:০০



নারায়ণগঞ্জ শহরের আলোচিত কাপড় ব্যবসায়ী স্বপন কুমার সাহা নিখোঁজ হননি, খুন হয়েছেন। তাঁকে হত্যার দায় স্বীকার করে গতকাল বৃহস্পতিবার আদালতে জবানবন্দি দিয়েছে রত্না রানী চক্রবর্তী ও আবদুল্লাহ আল মোল্লা মামুন নামের দুজন। রত্না আদালতকে জানিয়েছে, স্বর্ণ ব্যবসায়ী পিন্টু দেবনাথের সঙ্গে বিরোধের জের ধরেই তার (রত্না) বাড়িতে স্বপনকে ডেকে নিয়ে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়। লাশ সাত টুকরা করে ফেলে দেওয়া হয় শীতলক্ষ্যা নদীতে।

পিন্টুর বান্ধবী হিসেবে পরিচিত রত্না। মামুন শহরের স্বর্ণপট্টি এলাকার সুদ ও চোরাই সোনা ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। পিন্টুসহ স্বর্ণ ব্যবসায়ীদের কাছে সে বড় ভাই বলে পরিচিত।

গতকাল বিকেলে নারায়ণগঞ্জ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আশেক ইমামের আদালতে রত্নার ও জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাহমুদুল মহসীনের আদালতে মামুনের জবানবন্দি ১৬৪ ধারায় রেকর্ড করা হয়।

নিহত স্বপন কুমার সাহা নারায়ণগঞ্জ শহরের নিতাইগঞ্জ কাছারি গলি এলাকার মৃত সোনাতন চন্দ্র সাহার ছেলে।

রত্না আদালতকে জানায়, ২০১৬ সালের ২৭ অক্টোবর নারায়ণগঞ্জ শহরের মাসদাইর বাজার কাজীবাড়ির প্রবাসী আজহারুল ইসলামের চারতলা ভবনের দ্বিতীয় তলায় রত্না রানী চক্রবর্তীর ফ্ল্যাট বাসায় স্বপনকে পেছন থেকে শিলপুতা দিয়ে আঘাত করে রত্না ও পিন্টু। পরে তারা তাঁকে অচেতন অবস্থায় টয়লেটে নিয়ে সাত টুকরা করে। এরপর টুকরাগুলো ব্যাগে ভরে পিন্টু ঠাণ্ডা মাথায় ভবনের পাশে খালি স্থানে রাখে। পরে সুযোগ বুঝে শীতলক্ষ্যা নদীতে ফেলে দেয় পিন্টু।

স্বপন হত্যায় গত ১৫ জুলাই রাতে মাসদাইর এলাকা থেকে গ্রেপ্তার হয় মামুন ও রত্না। ১৮ জুলাই রাতে রত্না ও রিমান্ডে থাকা পিন্টুকে নিয়ে মাসদাইরে রত্নার ফ্ল্যাট বাসায় যায় ডিবি পুলিশের একটি দল। পরে ফ্ল্যাটটি থেকে স্বপন কুমার সাহাকে হত্যায় ব্যবহৃত শিলপুতা, বঁটি, রক্তমাখা বিছানার চাদর ও তোষক উদ্ধার করা হয়।

এর আগে প্রবীর ঘোষ হত্যা মামলায় ৯ জুলাই গ্রেপ্তার হয় পিন্টু দেবনাথ। সেদিন তার দেখানো মতে শহরের আমলাপাড়ার ফ্ল্যাট বাসার সেপটিক ট্যাংক থেকে স্বর্ণ ব্যবসায়ী প্রবীর ঘোষের খণ্ডিত লাশ উদ্ধার করা হয়। ১৮ জুন রাতে প্রবীরকে হত্যা করেছিল পিন্টু।

স্বপনের বড় ভাই অজিত কুমার সাহা বলেন, ‘স্বপন ছিল খুচরা কাপড় ব্যবসায়ী। ২০১৬ সালের ২৭ অক্টোবর থেকে সে নিখোঁজ। গত ৯ জুলাই স্বর্ণ ব্যবসায়ী পিন্টুর ফ্ল্যাটের সেপটিক ট্যাংক থেকে স্বর্ণ ব্যবসায়ী প্রবীর ঘোষের খণ্ডিত লাশ উদ্ধারের পর পিন্টুর প্রতি আমাদের সন্দেহ বাড়ে। ১৫ জুলাই বিষয়টি ডিবিকে জানালে রিমান্ডে থাকা পিন্টুর সহযোগী বাপন ভৌমিক বাবু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেয়। পিন্টুর এক বান্ধবী রত্না রানী চক্রবর্তীর সন্ধান দেয় সে। তার মোবাইল ফোন নম্বর পর্যালোচনা করে জানা গেছে, স্বপনের মোবাইল ফোনসেটটি রত্না ব্যবহার করছে। ১৫ জুলাই রাতে তাকে আটকের পর তার কাছ থেকে স্বপনের ব্যবহৃত দুটি মোবাইল ফোনসেট উদ্ধার করে পুলিশ।’

জানা গেছে, মূলত পিন্টুর টাকা নিয়ে স্বপন ভারতে একটি ফ্ল্যাট বাসা কেনেন। ফ্ল্যাটটি পিন্টুকে না দিয়ে উল্টো হুমকি দিচ্ছিলেন স্বপন। এ নিয়ে পিন্টু আমলাপাড়ার মোল্লা মামুনের কাছে বিচার দেয়। এ কারণে ২০১৬ সালের মার্চ থেকে স্বপনকে হুমকি দিতে থাকে মামুন। তখন থেকেই স্বপন ও প্রবীরকে হত্যার পরিকল্পনা করে পিন্টু। ২০১৬ সালের ২৭ অক্টোবর স্বপনকে ডেকে নেয় পিন্টু। এর পর থেকেই তিনি নিখোঁজ ছিলেন।

স্বপন হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবির এসআই মফিজুল ইসলাম জানান, রত্না ও মামুন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। রত্নার ফ্ল্যাট থেকে হত্যায় ব্যবহৃত শিলপুতা, বঁটি, রক্তমাখা বিছানার চাদর ও তোষক উদ্ধার করা হয়েছে। এ ছাড়া স্বপন হত্যাকাণ্ডে স্বর্ণ ব্যবসায়ী পিন্টু ও তার সহকারী বাপনকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।



মন্তব্য