kalerkantho


বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রীর ছবি ছুড়ে ফেললেন ছাত্রলীগ নেতা!

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২০ জুলাই, ২০১৮ ০০:০০



‘তোর ছেলেকে রাজনীতি ছাইড়া দিতে বলবি। নইলে ওরে মাইরা ফালামু। মন্ত্রী মহোদয়ের অর্ডার, কালকে থেকে ওকে যেন রাজনীতির মাঠে দেখা না যায়।’ কামরাঙ্গীর চর থানা ছাত্রলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক মোরসালিন হোসেনের মাকে এভাবেই হুমকি দিয়ে যান থানা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক পারভেজ হোসেন বিপ্লব ও শিমুল। গত বুধবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে পশ্চিম ইসলামনগর এলাকায় ছাত্রলীগের কার্যালয়ে ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগও উঠেছে। বিপ্লব ও শিমুলের নেতৃত্বে শতাধিক সন্ত্রাসী ছাত্রলীগ কার্যালয়ে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি লাথি মেরে ছুড়ে ফেলে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।

জানা গেছে, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-২ আসনে নৌকা প্রতীকে মনোনয়ন প্রত্যাশা করে তৃণমূল পর্যায়ে আওয়ামী লীগকে সংগঠিত করে আসছেন কেরানীগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শাহীন আহমেদ। তাঁকে ঘিরে সাভারের ভাকুর্তা, আমিনবাজার, কামরাঙ্গীর চরসহ সংসদীয় আসনের প্রায় প্রতিটি এলাকার নেতাকর্মীরা উজ্জীবিত হয়ে উঠেছে। বিষয়টি ভালোভাবে নেননি এ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে দ্বন্দ্ব তৈরি হয়। এ কারণে শাহীন আহমেদের সমর্থকদের ওপর হামলা-নির্যাতন চলছে। এর অংশ হিসেবেই বুধবার রাতে পাঁচ নেতার বাড়ি ও ছাত্রলীগের কার্যালয়ে হামলার ঘটনা ঘটে।

অভিযোগ উঠেছে, বুধবার রাতে প্রথমে ছাত্রলীগের কার্যালয়ে হামলা চালায় শতাধিক সন্ত্রাসী। এরপর যুগ্ম আহ্বায়ক মোরসালিনের বাড়িতে হামলা চালানো হয়। এ সময় মোরসালিনের মাকে ভয়ভীতি দেখানোর পাশাপাশি হুমকি দেওয়া হয়। হামলাকারীরা পরে থানা ছাত্রলীগের আরেক যুগ্ম আহ্বায়ক এম এইচ মাসুদ মিন্টু, সাবেক সভাপতি সাইদুর রহমান রতন, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি এম এ রহমান এবং শাহীন আহমেদের সমর্থক মধ্য ইসলামনগর গ্রামের হাবীব সজলের বাড়িতে হামলা চালায়। এসব হামলার সময় খাদ্যমন্ত্রীর নামে স্লোগানও দেওয়া হয়।

এ ঘটনায় মোরসালিনের বাবা ২ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি মনজুর হোসেন বাদী হয়ে কামরাঙ্গীর চর থানায় অভিযোগ জানান। তবে পুলিশ মামলা নিতে গড়িমসি করছে অভিযোগ করে মনজুর বলেন, ‘আমার বাড়িতে তারা হামলা করেছে। হুমকি দিয়ে গেছে। আমরা জীবন নিয়ে চরম ঝুঁকিতে রয়েছি। অথচ পুলিশ আমাদের অভিযোগ আমলেই নিচ্ছে না।’

এলাকাবাসী জানায়, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৫৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মোহাম্মদ হোসেনের নির্দেশে কদিন পর পরই আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের ত্যাগী ও প্রবীণ নেতাদের বাড়িঘরে হামলা-ভাঙচুর চালানো হচ্ছে।

মোরসালিন হোসেন বলেন, ‘আমাদের দোষ, আমরা উপজেলা চেয়ারম্যান শাহীন আহমেদকে সমর্থন করি, তৃণমূল পর্যায়ে শেখ হাসিনার জয়গান করি। দলের নীতি অনুযায়ী যে কেউ মনোনয়ন চাইতে পারেন। আমরা শাহীন আহমেদকে সমর্থন করি। এ কারণে আমাদের বাড়িঘরে হামলা করে ভয়ভীতি দেখিয়ে তারা প্রকৃতপক্ষে আওয়ামী লীগেরই ক্ষতি করছে।’

এলাকার কয়েকজন প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, যারা বঙ্গবন্ধু ও শেখ হাসিনার ছবি ছুড়ে ফেলে দেয়, লাথি মারে, তারা কিভাবে নিজেদের আওয়ামী লীগ বা ছাত্রলীগের নেতাকর্মী দাবি করে? তাদের বিচার হওয়া উচিত।



মন্তব্য