kalerkantho


চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড

বিজ্ঞান বিভাগের পাসে পদার্থ-রসায়নে ফল খারাপের প্রভাব

নূপুর দেব, চট্টগ্রাম   

২০ জুলাই, ২০১৮ ০০:০০



বিজ্ঞান বিভাগের পাসে পদার্থ-রসায়নে ফল খারাপের প্রভাব

চট্টগ্রাম মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডে এবার এইচএসসি পরীক্ষায় পাসের হার ও জিপিএ ৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা গত বছরের চেয়ে বেড়েছে। তবে মানবিক বিভাগ ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে পাসের হার বাড়লেও বিজ্ঞান বিভাগে ৪.২৩ শতাংশ কমে গেছে। তিন বছর পর এসে এবার বিজ্ঞানে পাসের হার কমার অন্যতম প্রধান কারণ হলো পদার্থবিজ্ঞান ও রসায়নে খারাপ ফল করা।

অন্যদিকে কয়েক বছর ধরে মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে শিক্ষার্থীরা আইসিটি ও ইংরেজি বিষয়ে কিছুটা খারাপ করলেও এবার ভালো করেছে। ফলে ওই দুই বিভাগে গতবারের চেয়ে এবার পাসের হার যথাক্রমে ৪.২০ ও ২.৬৫ শতাংশ বেশি।

গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড প্রকাশিত উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট পরীক্ষার (এইচএসসি) ফল পর্যালোচনায় এসব তথ্য পাওয়া যায়। দেখা যায়, এই শিক্ষা বোর্ডে ২০১৮ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় গত বছরের চেয়ে পাসের হার ১.৬৪ শতাংশ বেড়েছে। এ বছর পাসের হার ৬২.৭৩ শতাংশ। পাশাপাশি ২২২ জন বেড়ে এবার জিপিএ ৫ পেয়েছে এক হাজার ৬১৩ জন। এর মধ্যে বিজ্ঞান বিভাগে এক হাজার ১৮৭, মানবিকে ৭৩ ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ৩৫৩ জন।

বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, বিজ্ঞান বিভাগে পদার্থবিজ্ঞান ও রসায়নে ফল খারাপ হয়েছে। পাসের হার পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্রে ৭২.৩৬ ও দ্বিতীয় পত্রে ৭৫.৬৭ শতাংশ এবং রসায়ন প্রথম পত্রে ৮৬.১২ ও দ্বিতীয়য় পত্রে ৮৫ শতাংশ। এর প্রভাব পড়েছে বিজ্ঞান বিভাগের সামগ্রিক ফলে। অন্যদিকে ইংরেজি প্রথম পত্রে ৮০.২১ ও দ্বিতীয় পত্রে ৬২.৬২ এবং আইসিটি বিষয়ে পাসের হার ৮৩.০২ শতাংশ।  

চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মোহাম্মদ মাহবুব হাসান গতকাল দুপুর দেড়টায় আনুষ্ঠানিকভাবে ফল ঘোষণা করেন। এ উপলক্ষে বোর্ড মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সচিব অধ্যাপক শওকত আলম, কলেজ পরিদর্শক অধ্যাপক জাহেদুল হক, বিদ্যালয় পরিদর্শক অধ্যাপক আবু তাহের প্রমুখ।

জানা যায়, চট্টগ্রাম নগর ও জেলা, কক্সবাজার এবং তিন পার্বত্য জেলার ২৫৩টি কলেজ থেকে এবার মোট পরীক্ষার্থী ছিল ৯৭ হাজার ৭৮৪ জন। এর মধ্যে অনুপস্থিত ছিল ৯২৬ জন, দুজনের ফল স্থগিত করা হয় এবং বহিষ্কার হয় ৩৪ জন। পাস করেছে ৬০ হাজার ৭৫৫ জন। পাসের হার বিজ্ঞান বিভাগে ৭৩.১১, মানবিকে ৫১.৬৯ ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ৬৮.০১ শতাংশ।

ফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, চট্টগ্রাম মহানগরে পাসের হার গত বছরের চেয়ে কিছুটা কমেছে। গত বছর ছিল ৭৬.৬৮ শতাংশ। আর এবার তা নেমে এসেছে ৭৪.৬৯ শতাংশে। তবে চট্টগ্রাম জেলায় পাসের হার বেড়েছে। গত বছর ছিল ৫৫.৮১ শতাংশ। এবার তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৯.২৫ শতাংশ।

এ ছাড়া পাসের হার কক্সবাজার জেলায় গত বছর ছিল ৫৫.৩২, এবার ৬১.৬৬ শতাংশ; রাঙামাটিতে গত বছর ছিল ৪৫.৯৯, এবার ৪৯.৮৯ শতাংশ; খাগড়াছড়িতে গত বছর ছিল ৪৪.৬৩, এবার ৩৬.৫১ শতাংশ এবং বান্দরবানে গত বছর ছিল ৫৫.২২, এবার ৬২.৩১ শতাংশ। এবার শতভাগ পাস করেছে পাঁচটি কলেজ—হালিশহর ক্যান্টনমেন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ক্যান্টনমেন্ট ইংলিশ স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ফৌজদারহাট ক্যাডেট কলেজ, বর্ডার গার্ড স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং সীতাকুণ্ড গার্লস হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ। নগরের কসমোপলিটন স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে একজন পরীক্ষার্থী অংশ নিলেও উত্তীর্ণ হতে পারেনি। এ ছাড়া সীতাকুণ্ড গার্লস হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে একজন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে।

এদিকে চট্টগ্রাম বোর্ডে ছাত্র পাসের হার গত বছরের চেয়ে কমেছে। ২০১৭ সালে এই হার ছিল ৫৯.৫৫ শতাংশ, যা এবার কমে দাঁড়িয়েছে ৫৯.৪৭ শতাংশ। অন্যদিকে ছাত্রী পাসের হার ৩.২২ শতাংশ বেড়ে হয়েছে ৬৫.৮৭ শতাংশ।

পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মোহাম্মদ মাহবুব হাসান গতকাল বিকেলে কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বিজ্ঞান বিভাগে পদার্থ ও রসায়নে শিক্ষার্থীরা খারাপ করেছে। নইলে এই বিভাগে পাসের হার আরো অনেক বেশি হতো। তবে ইংরেজি ও আইসিটি বিষয়ে ভালো করাটা ইতিবাচক দিক। সামগ্রিক ফলও গতবারের চেয়ে একটু এগিয়েছে।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এবার ৭০টির মতো কলেজ ভালো ফল করেনি। তাদের ডাকা হবে। আগের বছর ফল খারাপ করা কলেজগুলোকেও ডাকা হয়েছিল। এবার ওই কলেজগুলোর মধ্যে অনেকেই ভালো করেছে।



মন্তব্য