kalerkantho


একটি কাটা পা ও এক হাজার টাকা

মো. মাসুদ খান, মুন্সীগঞ্জ   

১৯ জুলাই, ২০১৮ ০০:০০



ঘটনাস্থল মুন্সীগঞ্জের লৌহজংয়ের মাওয়া পুরনো ফেরি ঘাট এলাকা। গতকাল বুধবার সকাল ১০টায় খবর এলো যে সেখানে কার যেন একটি কাটা পা পড়ে আছে। নজরে এসেছিল পদ্মা সেতুর নির্মাণকাজ পাহারাদানকারী টহল দলের। তারা খবর দেয় মাওয়া নৌ পুলিশ ফাঁড়িকে। সেখান থেকে খবর আসে লৌহজং থানায়। মোটরসাইকেলযোগে ঘটনাস্থলে ছুটলেন লৌহজং থানার এসআই হাফিজুর রহমান। সঙ্গে নিলেন লাশ বহনের ‘বডি ব্যাগ’। তিনি কর্তিত পাটি দেখার আগেই নৌ ফাঁড়ির ইনচার্জ ইন্সপেক্টর আরমান হোসেনের কাছ থেকে ঘটনাটি মোটামুটি জেনে নেন। তারপর শুরু সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি!

পলিথিনের ব্যাগে রাখা ছিল পায়ের গোড়ালির নিচ থেকে কাটা সেই পা। চোখে পড়ল ইনজেকশনের একটি শিশিও। এসআই হাফিজুর এবার ভালো করে খেয়াল করে দেখেন পায়ের কর্তিত অংশটুকুতে বেশ কিছু সেলাইয়ের চিহ্ন! সুরতহাল পর্ব শেষ করে এবার উপস্থিত লোকজনের সাক্ষ্য গ্রহণের পালা। তখনই একজন জানান, পাশের গ্রামের ৬০ বছর বয়সী এক ডায়াবেটিস রোগীর পায়ে ঘা থেকে পচন ধরে যায়। পরে হাসপাতালে গিয়ে পা কেটে ফেলতে হয়। কিন্তু হাসপাতালের ক্লিনারদের দাবি—এই কাটা পা ফেলতে তাদের এক হাজার টাকা দিতে হবে। রোগীর মর্মাহত, ক্ষুব্ধ স্বজনরা ঢাকা থেকে কাটা পা বয়ে আনে এলাকায়। তারপর বাড়ির পাশের লৌহজং-মাওয়া পুরনো ফেরি ঘাটসংলগ্ন পদ্মায় ছুড়ে ফেলে।

অনুসন্ধানের এই পর্যায়ে পদ্মার তীরে হাজির হন লৌহজং থানার পরিদর্শক (তদন্ত) রাজিব খান। তিনি সিনিয়র পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলাপ করে জানান, যাঁর পা তাঁর স্বজনদের আসতে হবে এবং কর্তিত পাটি মাটিচাপা দিতে হবে। আর এভাবেই সমাপ্ত হয় লৌহজংয়ের দক্ষিণ মেদিনী মণ্ডল গ্রামের ডায়াবেটিসের রোগী  নেপাল দাসের কেটে ফেলা পা নিয়ে আলোড়িত ঘটনার।

থানা থেকে ঘটনা তদন্তে যাওয়া এসআই হাফিজুর রহমান বলেন, পায়ের কাটা অংশ তারা পদ্মায় ফেলে দিয়ে ভাবছিল ল্যাঠা চুকে গেছে। কিন্তু তাদের একটু অসচেতনতার জন্য সেনা-পুলিশের অনর্থক সময়ক্ষেপণ হলো, জনমনেও আতঙ্কের সৃষ্টি হলো।



মন্তব্য